বরিশালে বখাটের উত্ত্যক্ত সহ্য করতে না পেরে জীবন দিলেন গৃহবধূ বরিশালে এক দফা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন হুশিয়ারী দিয়েছে যুবদল গোপন মিলনের সময় যেসব ভুলে নিশ্চিত ক্যান্সার! কলেজ ছাত্রীকে নিজের গোপনাঙ্গের ছবি তুলে পাঠালেন শিক্ষক বরিশালে গায়েবী মামলায় যুবদল নেতার জামিন পিরোজপুরে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে গৃহবধূর আত্মহত্যা ! বরিশালে খাদ্যগুদামে সরকারি ধান ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি! বরিশালে ২৫ গ্রাম গাঁজার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ১ বানারীপাড়ায় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নবাগত এসিল্যান্ড’র মতবিনিময় সভা বরিশালে চলছে ইজতেমার প্রস্তুতি

অবশেষে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের ৪৩ শিক্ষার্থীর প্রতীক্ষার অবসান কিন্তু দায় নেবে কে?

এমনিতেই বলা হয়ে থাকে, “ প্রতীক্ষা মৃত্যুর চেয়েও মারাত্মক”। সেই প্রতীক্ষা যদি হয় কোমলমতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সত্য উদঘাটনের তাহলে তো সেটি আরো মারাত্মক এমনকি সত্য সত্য মৃত্যুরও নজির। এসব গুরুগম্ভীর কথাগুলো বলা হলো গতকাল দৈনিক আজকের বার্তায় প্রকাশিত একটি সংবাদ সূত্রে। সংবাদটির শিরোনাম, “বরিশাল বোর্ডে ফল পুনঃনিরীক্ষণে জিপিএ-৫ পেল জেএসসি’র ৪৩ শিক্ষার্থী”।

এমনটা এসএসসি বা এইচএসসির ক্ষেত্রেও প্রতিবছরই ঘটে থাকে, তারপরেও এসবের তেমন কোন জবাবদিহিতা নেই। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের অবিশ্বাস্য ফলাফল আসার কারণে কোন কোন শিক্ষার্থী ইতোপূর্বে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে এমন নজিরও আমাদের জানা আছে, কিন্তু ওই মৃত্যুর দায় কার? শিক্ষাবোর্ডের নাকি উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষকের সে প্রশ্নটিও অনুচ্চারিতই থেকে যায় সব সময় এবং সর্বত্র।

উল্লিখিত সংবাদ তথ্যমতে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশ করা হয় ৩১ ডিসেম্বর। পাসের হারও দেখানো হয় ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে ঘোষণা আসে ৪ হাজার ৯৪৮ জনের পক্ষে। কিন্তু এমন ফল মেনে নিতে পারেননি কোন কোন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা। ফলে শিক্ষাবোর্ডের বিধান মতেই তার পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে যার ফসল পেতে তাদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় প্রায় একমাস।

অবশেষে শিক্ষাবোর্ড সেই পুনঃনিরীক্ষণের পর ঘোষণা দিল নতুন করে আরো ৪ শিক্ষার্থী পাসও করেছে। এমনি এক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন হলো, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে এমন ছেলেখেলার দায়টা কার অথবা কাদের? এ প্রশ্নে শিক্ষাবোর্ডগুলো অবশ্যই বলার প্রয়াশ পাবে, পরীক্ষার এবং প্রধান পরীক্ষকদের ভুল অথবা অসতর্কতার জন্যই এমনটা ঘটেছে যা প্রতিবছরই ঘটে এবং সব বোর্ডেই কম-বেশি ঘটে থাকে। আমরা এমন ধারণার সাথে একমত পোষণ করেও পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই যে, পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ দেয় কে বা কোন কর্তৃপক্ষ? অবশ্যই এটার উত্তর হবে শিক্ষা বোর্ডই প্রশ্নপত্রপ্রণেতা, প্রধান পরীক্ষক এবং পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে।

কিন্তু যাদের নিয়োগ দেয়া হয় তারা সকলেই কি প্রশ্নপত্রপ্রণেতা, পরিশোধক, প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে যোগ্যতা সম্পন্ন অনেক শিক্ষক ওই সব পদে নিয়োগ না পেলেও অযোগ্য অনেকেই শিক্ষাবোর্ডের কতিপয় কর্মচারী-কর্মকর্তার বদান্যতায় প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী, প্রশ্নপত্রের পরিশোধক (মডারেটর), প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক বনে যান। মূলতঃ ওই সব অযোগ্য শিক্ষকদেরই ভুল হয় যা চরম অবহেলা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের কারণেই ঘটে থাকে।

এমনটাও জানা যায়, কোন কোন যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকও কোচিং বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকার কারণে পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে এসে ছেলে-মেয়ে বা আত্মীয়-স্বজনদের হাতেও তুলে দেন মূল্যায়নের জন্য। আবার কেউ কেউ নিজেই কোনভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে নম্বর তুলতে দিয়ে থাকেন ছেলে-মেয়েদের হাতে। এমনি আরো অনেক তথ্য আছে যার কু-ফল ভোগ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অথচ শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ এসবকে যেন কিছু মনেই করেনা। ইদানিং তো কম্পিউটারে নম্বর পোস্টিং এর সময়ও ভুল হয় বলে আমরা শুনেছি, শুনেছি বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিষয়ক দুর্নীতি যার খেসারত দিয়েছেন ওই বোর্ডেরই নিম্নপদস্থ একাধিক কর্মচারী। আমরা মনে করি এ ঘটনাটির সঠিক তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসত, কিন্তু সেটা হয়নি।

এসব ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো যে কারণে বা যার কারণে ৪৩ শিক্ষার্থীর সঠিক মেধার স্বীকৃতি পেতে একমাস অপেক্ষার প্রহর গুনতে হলো তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড কী ব্যবস্থা নিয়েছে বা নিচ্ছে তা প্রকাশ এবং প্রচার করা একান্ত জরুরি। অপরদিকে সাম্প্রতিককালে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধন শিক্ষা বোর্ডের হলরুমে করা হচ্ছে, তেমনি পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদেরও উত্তরপত্র হাতে না দিয়ে বোর্ডের হলরুমে বসেই মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে শিক্ষাবোর্ডগুলো নতুন হল নির্মাণও করে নিতে পারে। সেটি সম্ভব হলে আমরা মনে করি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে পরীক্ষকরা অবহেলা করার কোন সুযোগ পাবেন না। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড কমিটি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

Bangabandhu Countdown | Nextzen Limited