চরফ্যাসনে ইমামকে মারধরের অভিযোগে ফিরোজ হাজী আটক অসহায় নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে ঝালকাঠির চপলেরের বিরুদ্ধে মামলা ! বরিশালে নগরীতে আ’লীগ নেতার ভবনে চাকুরীর প্রলোভনে জিম্মি করে দেহব্যবসা ! ডিবির অভিযানে আটক-৩, ২ নারী উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সাংবাদিকদের জন্য প্রনোদনা বরিশালে সুষম বন্টন হওয়া উচিত ছিলো বরিশাল পলাশপুরে পিতা ধর্ষণ করলো মেয়েকে ! মঠবাড়িয়ায় স্বামী স্ত্রী ও সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ উদ্ধার পবিত্র ঈদ-উল আযাহা উপলক্ষে ১০নং ওয়ার্ডবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহ কবির ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে যেন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি না পায় এজন্য সবাইকে সর্তক থাকতে হবে, বিএমপি কমিশনার প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দুলারহাট বন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হত দরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত নারী ও শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে যেন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি না পায় এজন্য সবাইকে সর্তক থাকতে হবে, বিএমপি কমিশনার

জুবায়ের ইসলামঃ মুসলমানের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযাহার সময় পশু ক্রয় বিক্রয় ও ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদ ঈদ উপহার দিতে কাজ করছে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঈদুল আযাহার ছুটিতে যানজট মুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএমপি। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার।

বিএমপি কমিশনারের নির্দেশে নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

সড়ক ও নৌ পথে যাত্রীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএমপি কমিশনার। পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করে যাচ্ছেন মনিটরিং।

জনগণের সেবা প্রদান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জনবান্ধন কাজ নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশর ইতিহাসে পুলিশের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে পুলিশ সদস্যরা। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন একজন পুলিশ সদস্য।

স্বাধীনতার পর থেকেও এদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশ পুলিশ নিয়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটা আজকের এই দিনে বাস্তবে রুপ নিয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশের পুলিশ আধুনিক একটি কাঠামো হবে যেখানে জনগণ আস্থা রাখতে পারবে। তিনি চেয়েছিলেন পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু , মানবিক হবে তাদের কার্যক্রম।

বঙ্গবন্ধু আদর্শ এখন পরিপূর্ণ হয়েছে পুলিশ সার্ভিসে। বাংলাদেশর পুলিশ এখন মানবিক কাজ করে। ভালো কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিটি মানুষের মনের মনি কোঠায়।

১৯৭১সালের পর থেকে শুরু করে এ দেশের প্রতিটি দূর্যোগ ও ভয়াবহ মূহুর্ত মোকাবেলায় পুলিশ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান সময় মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা জাতী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।পুলিশ প্রধান ড.বেনজীর আহম্মেদ বিপিএম বার এর নেতৃত্বে দেশের পুলিশ গড়ে উঠেছে আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে ।

পুলিশ প্রধানের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বরিশালেও কাজ করে যাচ্ছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএমপি।বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এর নেতৃত্বে কাজ করছে বিএমপির প্রতিটি বিভাগ। প্রতিটি সদস্যকে শিখিয়েছে পুলিশি সেবা কিভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হয়।

তিনি বরিশালবাসী তথা সকল পুলিশ সদস্যর কাছে একজন মানবিক কমিশনার।সৃষ্টিশীল চিন্তা আর দূরদর্শী নেতৃত্ব গুনে পৌঁছে গেছেন মানুষের অন্তরে।

মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা রেখে জনগণকে সেবা দিতে গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন পদক্ষেপ ।

বিএমপি কমিশনারের নেতৃত্বেই প্রতিনিয়ত নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ সার্ভিসে প্রতিটি সদস্য।

পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের দিয়ে যাচ্ছেন গঠনমূলক নির্দেশ ও অনুপ্রেরণা।

বিএমপি কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী জনগণের জীবন বাঁচাতে গিয়ে অনেক সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সহকর্মীদের মৃত্যুর সংবাদ শুনেও ভয় পাচ্ছে না অন্য পুলিশ সদস্যরা। মৃত্যু ভয় তাদের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি।

মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে, হ্যা এটাই বাংলাদেশ পুলিশ।অসহায় কর্মহীন পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়া, মৃত্যু ব্যাক্তির দাফন করা, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়াসহ সবকিছু করছে হাসিমুখে।

মোট কথা একটা সার্ভিসে থেকে হাজারটা সেবা প্রদান করা বাহিনীর নাম বাংলাদেশ পুলিশ।বিএমপির প্রতিটি সদস্য এখন দ্বায়িত্ববান ও মানবিক পুলিশ।

এ বছরও করোনা প্রতিরোধ করে আসন্ন ঈদুল আযহা উৎযাপনের বিষয় কিছু পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।কোরবানি পশু ক্রয় থেকে শুরু করে সকল কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্পাদন করতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।সহযোগীতা দেয়ার জন্য খোলা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।

আসন্ন ঈদে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা বন্ধ রাখা, সম্ভব হলে হাটে না গিয়ে প্রতিবেশীর নিকট থেকে পশু ক্রয় করা। জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে বাহিরে বের না হওয়া। বাহিরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা। পশুর হাট থেকে ফিরে নিজেকে জীবানু মুক্ত করা, জবাই করা স্থানে বিলিচিং দিয়ে পরিস্কার করে বজ্র নিরাপদ স্থানে রাখা। এছাড়াও পুলিশের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো পশুর বজ্র এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সহজেই নিতে পারে।

নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে কাজ করে যাচ্ছে বিএমপি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এগুলো মেনে চলা খুব জরুরি, এজন্য বিভিন্ন হাটে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মনিটরিং করেছেন বিএমপি কমিশনার।

এ বিষয় বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার বলেন, মহামারী করোনার মধ্যেও ঈদুল আযহা উৎযাপন করতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।পশুর হাটে যারা প্রবেশ করবে তারা যেন অবশ্যই স্যানিটাইজার ব্যবহার করে এবং মাস্ক পরিধান করে সেটা নিশ্চিত করতে হাট ইজারাদারদের সাথে মিটিং করেছি।

ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। হাটে গরু গুলো যেন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খুটিতে বাঁধা হয় সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশ প্রদান করেছি।

 

এছাড়াও হাটগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য জাল নোট শনাক্ত ও চুরি ছিনতাই রোধ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি হাটে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে

বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার আরও বলেন, এ বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ কিছুটা কম লক্ষ করা যাচ্ছে, তার পরেও যারা আসা যাওয়া করবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এছাড়াও শপিংমলে কেনাকাটা করা ও গণপরিবহন চলাচলকারীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে উৎসব করতে গিয়ে কোন ভাবেই যেন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি না পায়।

করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজন হলে আনন্দ বিনোদন কিছুটা এরিয়ে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে বেচে থাকলে আনন্দ করার অনেক সুযোগ পাওয়া যাবে। একটু বিনোদন করতে গিয়ে নিজেদের জীবনে ঝুঁকি নেয়া যাবে না।

ঈদের দিন পশু জবাই করার সময় মাস্ক পড়ে নিতে হবে এবং সবাই যেন একসাথে জড়ো হয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রেখে সমস্ত কাজ সম্পান্ন করতে হবে।জবাই করা পশুর বজ্র নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে যেন পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দ্রুত নিয়ে যেতে পারে।

সবাই সরকারি নির্দেশ মেনে চলুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবার নিয়ে ঈদ উৎযাপন করুন।সুস্থ থাকুন নিরাপদ থাকুন করোনা ভাইরাস থেকে দেশকে নিরাপদ রাখুন। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক।

মুজিববর্ষ