ঢাকায় থেকেও বরিশালে আসামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জনপ্রতি ১২ কেজি পেঁয়াজ না নিলে দিচ্ছেন না তেল, চিনি ও ডাল! মুলাদীতে সার্চ,সৌল,সয়েল নামে শিল্পকর্মের উদ্যোগে ৪ দিন ব্যাপী ১০ জন তরুন কোন ঘোষনা ছাড়াই বরিশাল নগরীতে বাস চলাচল বন্ধ রাখলো পরিবহন শ্রমিকরা বরিশালে কলেজ ছাত্রী রিপার লাশ উদ্ধার বরিশালে মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে অটোগাড়ি চালকদের থানায় অবস্থান ঝালকাঠিতে ৪১ টি বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ! পোর্টরোড এলাকা থেকে ২৮৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক বিক্রেতা আটক বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী

sarjan faraby

এক শিক্ষকের জীবন কাহিনী!

গৌতম সরকার ১৯৭৭ সালে বরিশাল সদরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। সরকারি বিএম কলেজ থেকে বিএম কলেজ থেকে আই,এ। সরকারি বরিশাল কলেজ থেকে এম,কম। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি,এড ডিগ্রি।

গৌতম সরকার ছাত্রজীবনে অসাধারণ প্রতিভাবান ছিল। তিনি পরপর দু’বার বিসিএস (২২ ও ২৪) তম পরীক্ষা দিলেও ভাগ্যের কাছে হার মেনে যায়। তার কিশোর ও বাল্য জীবন কাটে দারুণ কষ্টে। কিন্তু তার কখনো লেখাপড়ার দিক দিয়ে মনোযোগ সরেনি। তার বাবা ছিলেন একজন দিন-মজুর অন্যের দোকানে কাজ করে তাদের সংসার চালত। কিন্তু গৌতম সরকারের লেখাপড়া বাদ দেওয়ায় নি। তার বাবা জানতে যে গৌতম সরকার একদিন অনেক বড় মানুষ হবেন। গৌতম সরকারের ছোটবেলা থেকে শিক্ষক হওয়ার প্রবল ই”ছা আঙ্খাকা ছিল। তারও ছোট বেলায় ইচ্ছা ছিল তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেমন তার ক্লাস নেয়। ঠিক তেমনিই সেও একদিন অন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিবেন।

তার শিক্ষকতা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে থেকে। ১৯৯৮ সাথে বরিশালের কাশীপুর চহুতপুর বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর ২০০২ সালে স্কাউটের লিডারের সনদ পায়। ২০০৬ সালে সিপিডি মাষ্টার ট্রেইনার ঢাকা ও কারিকুলাম মাষ্টার ট্রেইনার সনদ লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেশণা থেকে মাষ্টার ট্রেইনার । বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট থেকে সৃজনশীল বিষয়ের মাষ্টার ট্রেইনার। বরিশাল বিএড কলেজে বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষক হিসেবে, এছাড়াও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে বরিশাল টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ২০১২ সালে বরিশাল বিভাগের সৃজনশীল বিষয়ে মাষ্টার ট্রেইনার হন।

শিক্ষকতা জীবনে তার নানান বিপদের সাথে মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু গৌতম সরকার সব বাধাঁ কাটিয়ে আজ বরিশালের হিসাববিজ্ঞানের একজন নাম করা শিক্ষক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। গৌতম সরকার জানান, আমাদের টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬০ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থীর মা-বাবা দিন-মজুত। তাই আমি বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে লেখাপড়া শিখাই। আমি সব শিক্ষার্থীদের আমার সন্তানের মত ভাবি। আমি কিছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমার ছেলেবেলা খুজে পাই।

গৌতম সরকার আরো জানায়, আমি বিসিএস পরীক্ষা দু’বার ভাইভা পর্যন্ত গিয়ে, ভাগ্যের কাছে হার মেনেছি। কিন্তু আমি জানি আমার এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ একটা বিসিএস ক্যাডার হবেই। আমার অপূর্ণ স্বপ্নকে, আমার সন্তানরাই পূর্ণ করবে। আমার কিছু শিক্ষার্থীরা, আমার অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিবে বলে, অনেক শিক্ষার্থী আমার সাথে ওয়াদা করেছে। আমি সবসময় আমার শিক্ষার্থীদের তো দোয়া করি। ওরা যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। আমি চাই ওরা সফলতার উচ্চ শিকরে পৌছে যাক। আমি সবসময় ওদের পাশে আছি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্যার আমাদের বাবার মত। একজন বাবা তার সন্তানের প্রতি যেমন স্নেহ, ভালোবাসা দিয়ে ভড়িয়ে দেয়। স্যার ঠিক তেমনি আমাদের সাথে আচরণ করে। মাঝে মাঝে বাসা থেকে আমরা না খেয়ে গেলে, স্যার নিজ হাতে তার বাসায় নিয়ে খাইয়ে দেয়।

মুজিববর্ষ