ঢাকায় থেকেও বরিশালে আসামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জনপ্রতি ১২ কেজি পেঁয়াজ না নিলে দিচ্ছেন না তেল, চিনি ও ডাল! মুলাদীতে সার্চ,সৌল,সয়েল নামে শিল্পকর্মের উদ্যোগে ৪ দিন ব্যাপী ১০ জন তরুন কোন ঘোষনা ছাড়াই বরিশাল নগরীতে বাস চলাচল বন্ধ রাখলো পরিবহন শ্রমিকরা বরিশালে কলেজ ছাত্রী রিপার লাশ উদ্ধার বরিশালে মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে অটোগাড়ি চালকদের থানায় অবস্থান ঝালকাঠিতে ৪১ টি বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ! পোর্টরোড এলাকা থেকে ২৮৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক বিক্রেতা আটক বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী

sarjan faraby

এখনো থমথমে ভোলার চর, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা!

ভোলা প্রতিনিধি :: এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে ভোলার চরে। চরবাসীদের মাঝে এখনো ডাকাত আতংক রয়ে গেলেও ভুক্তভুগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তারা কোন সহোযগিতা পায়নি। এদিকে ভোলার চরে চাঁদাবাজি, লুটপাট, দুর্ধর্ষ ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ভোলা সদর থানা পুলিশ সাতদিনেও মামলা রুজু না করায় অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হলেন মামলার বাদী খালেদা খানম। মামলার সূত্রে জানা যায় ২৩শে নভেম্বর ভোলার চরে লক্ষীপুর ও ভোলার আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা সদস্যদের নৃশংস হামলা চালিয়ে চরবাসীকে গুরুতর আহত করেন।

জানা যায়, ২৩ নভেম্বর ভোলা সদর থানার ওসি এনায়েত হোসেন ডাকাত সর্দার আলতু ও ওহাব আলী কে সাথে নিয়ে সংগীয় ফোর্স সহ ভোলার চরে অবস্থান কালে ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা দশ-বারোটি স্পিডবোট এবং ৬-৭ টি ট্রলারযোগে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চরে জড়ো হতে থাকেন। ভুক্তভুগীদের অভিযোগ ওসি মোঃ এনায়েত হোসেনের উপস্থিতিতে ভোলার চরের নিরীহ কৃষক আবুল কালাম কে মারধর করেন অপহরণ করে নিয়ে যায় উক্ত বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

চরবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশ সুপার ভোলাকে কে অবহিত করলে তিনি ওসি এনায়েত হোসেন কে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে ওসি এনায়েত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স দিয়ে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে আবুল কালাম কে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একেবারেই নির্বিকার। এমনকি ওসি এনায়েত হোসেনের সম্মুখে সন্ত্রাসীরা চরবাসীর ঘরবাড়ি লুটপাট ও ভাঙচুর শুরু করেন।বিষয়টি চরবাসীর বারবার ওসি এনায়েত হোসেন কে জানিয়ে তার সাহায্য চাইলেও তিনি কোনো প্রকার সাহায্য না করে তাৎক্ষণিক সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন বলে অভিযোগ করেন চরবাসী।

আরো জানা যায় ওসির উপস্থিতিতে চরবাসী উপর এমন বর্বর ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে চাইলে ওসির নির্দেশে সঙ্গীয় ফোর্সরা চরবাসীর নিকট থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তারা। ক্রমেই সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাপিয়ে পড়ে নারী শিশু-বৃদ্ধসহ নিরীহ চরবাসীর উপরে। এই বর্বর ন্যাক্কারজনক হামলায় নারী শিশু বৃদ্ধসহ গুরুতর আহত হয় অসংখ্য চরবাসী। এদের মধ্যে গুরুতর আহত মরিয়ম বিবি (৫০) জাহানারা বেগম (৭৫) মিঠু খান (৪২) ও আবদুল কাদের (২৬) গুরুতর আহত হ‌ওয়ায় তাদেরকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতাল, পরবর্তী তে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালের রেফাড করা হয়। মরিয়ম বিবি এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এমন চাঞ্চল্যকর ও নারকীয় বর্বর হামলায় দীর্ঘ ৭ দিনেও চরবাসীর পক্ষ থেকে থানা পুলিশ কোনো মামলা রুজু করেন নি। অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা দাখিল করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি ভোলা সদর থানাকে এফ‌আইআর হিসেবে গ্ৰহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন যার ভোলা থানার মামলা নং ১১,জিআর ৭২১/২০। কিন্তু ওসি ভোলা সদর থানা আদালতে নির্দেশে মামলাটি এফ আই আর গ্ৰহণ করলেও আসামীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মামলার প্রধান আসামি আলতু ডাকাতের সাথে থানায় বসে খোশগল্প করেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী ও সাক্ষীগণ। ওসির এমন পক্ষপাতিত্ব পূর্ণ আচরণে জনমনে নানাবিধ প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী চরবাসী পুলিশ পুলিশ ভোলা ও ডিআইজি বরিশাল এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা যায় গত ১৭ ই জুলাই আলতু ডাকাত গংদের নেতৃত্বে মাছের আড়ত, মুদির দোকান ও গরুর খামারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। এতে মাছের আড়তদার আর শাহিন খান বাদী হয়ে ডাকাত সর্দার আলতু গংদের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা করায় ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন ন্যক্কারজনক বর্বর ঘটনা ঘটান বলে দাবি করেন চরবাসী। যাহার মামলা নং জিআর ৪৬৩/২০। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আরো জানায়, উল্টো ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিরুদ্ধে ওসি এনায়েত থানায় মিথ্যা গুম মামলা রুজু করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিন্টু খান ও আবদুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া নিরীহ নারী পুরুষকে আটক করে উক্ত গুম মামলায় আসামি দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে খান এগ্রো ফার্ম লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল হক রাসেল খান অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন ২৩শে নভেম্বর তিনি ঢাকায় ছিলেন।

চরবাসী থানার ওসির পক্ষপাতিত্বপূর্ণ এমন গর্হিত আচরণ তাকে মোবাইলে জানালে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে একাধিকবার পুলিশ সুপারকে জানান এবং ওসির সহায়তায় ভোলা লক্ষীপুরের বহিরাগত বড় ধরনের পৈশাচিকতা নারকীয় তাণ্ডবলীলা ঘটাবে বলেও আশঙ্কা করে পুলিশ সুপার ভোলার নিকট বারবার সাহায্যে চেয়ে আকুতি জানান। কিন্তু থানার ওসি সহযোগিতা না করে বরং সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দিয়ে চলে আসার সাথে সাথেই সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে এসে তার বৃদ্ধা মা বোন ভাই এবং ফার্মের তত্ত্বাবধায়কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে লুটপাট চালায়।ঘটনায় থানার ওসি কোন মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় থাকলেও থানার ওসি উল্টো আলতু বাহিনীর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আলমগীর কে বাদী করে তাকেই প্রধান আসামি করে মিথ্যা গুম মামলা রুজু করে এবং তার অন্যান্য ভাই ও আত্মীয় স্বজন যারা ঘটনার সময় ঢাকা, খুলনা ও সিলেটে ছিলেন তাঁদেরকে আসামি করা হয়। যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সহ যাবতীয় প্রমাণাদি তাদের কাছে আছে বলে তিনি জানান। এদিকে চরের অনেক কৃষক তাদের রোপন কৃত ধান ঘরে উঠাতে বাড়িতে আসছেনা হামলা মামলার ভয়ে। ভুক্তভুগী অসহায় পরিবারের আকুতি অতিদ্রুত ভোলার পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা গ্রহন করে তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়।

মুজিববর্ষ