আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সুস্থতা কামনায় বহুমূখি সিটি কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যােগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সুস্থতা কামনায় স্পীডবোট ঘাট মালিক সমিতির উদ্যােগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠি। মোংলায় মাস্ক পরিধান বাধ্যতামুলক করতে পুলিশের অভিযান, ৩২ জনকে অর্থদন্ড আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সুস্থতা কামনায় ১০নং ওয়ার্ড আ-লীগের উদ্যােগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত বরিশালে ফ্ল্যাট বাসায় আটকে রেখে পতিতা ব্যবসা! রানা দম্পতি আটক বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৬হাজার পিচ ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক আবারো সোহাগ বাহিনীর অত্যাচারে বেলতলায় নিজ বসতিতে যেতে পারছে না সংখ্যালঘু পরিবার ১০নং ওয়ার্ড আ-লীগের উদ্যােগে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন পালিত হুমকি বাস্তবে রুপ, শেষ পর্যন্ত রিয়াজের বাড়ি দখলে নিলো স্বীকৃত হত্যাকারী লিজা! বরিশালে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে এখনই মাঠ গরম করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজেকে ভালোবাসলেই তৈরি হবে , অন্যের প্রতি ভালোবাসা

আসছে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস দিবস বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসাবে বলা হয়। শুধু তরুণ-যুবা নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি মানুষ দিনটি পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশকিছু দেশে সাড়ম্বরে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

’৯০-এর দশক থেকে এ তালিকায় আমাদের দেশও যুক্ত হয়েছে। সারা পৃথিবীতে কত টন কেক, ক্যান্ডি ও ফুল বিক্রি হবে, সে হিসাব এ মুহূর্তে নেই। মানুষ তার প্রিয়জনকে পরবর্তী এক বছরের জন্য আজকের এ দিনে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে।

ভালোবাসা পিয়াসীরা প্রিয়জনের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন কার্ড, এসএমএস, চকলেট, কেক, আংটি, ঘড়ি ও বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি প্রিয়জনকে উপহার দিচ্ছে।

সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা নবায়নের প্রত্যাশা নিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা হাত ধরাধরি করে ঘুরছে, চোখের দিকে তাকিয়ে মনের ভাষা পড়ার চেষ্টা করছে; ভালোবাসার ফুলঝুরি উড়াচ্ছে। বিভিন্ন ক্লাব, সংঘ, পরিষদ, সংস্থা হরেক রকমের সাংস্কৃতিক ও নাট্যানুষ্ঠান এবং আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে প্রেমিকহৃদয়কে আরও উদ্বেলিত করে তোলে।

বড় বড় শহরের পার্ক, উদ্যান, লেকের পাড়, কফি শপ, ফাস্টফুড শপ, চাইনিজ, মোগলাই ও দেশি খাবারের দোকান, শহরের বাইরে বিভিন্ন স্পট ও নির্জন এলাকা তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ফুচকা খাচ্ছে, দুটি স্ট্র দিয়ে একই গ্লাসে কোমলপানীয় ভাগাভাগি করে পান করছে।

ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ব্যবসা-বাণিজ্যে রমরমা অবস্থা বিরাজ করে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, মোবাইল টেলিফোন অপারেটরসহ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের অফার ও চমকে এ যুগের ‘ভ্যালেন্টাইন’দের আকৃষ্ট করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।

 

তারপরও ‘ভালোবাসা’ কেন জানি ‘নিখাদ ভালোবাসা’ হতে পারছে না! প্রেম-প্রতারণা, বন্ধু-বান্ধবসহ প্রেমিকার শ্লীলতাহানি, আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া ইত্যাদি দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার কাছে একজন শিশু বা মেয়ে সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, তার লালসা থেকেও সে রক্ষা পাচ্ছে না।

কতজনই স্পাউসসহ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, হৈ-হুল্লোড় করছে, সবাই মিলে দামি হোটেলে খাচ্ছে, রোমান্টিক চাহনির ছবি ফেসবুকে আপলোড হচ্ছে, ‘হ্যাপি কাপল’, ‘লাভলী কাপল’-এর মতো সুখশব্দের অজস্র কমেন্টে আপ্লুত হয়ে বাসায় ফিরে দু’জন পৃথক রুমে শয্যা পাতছে। সত্যিই বড় বিচিত্র এ ভালোবাসা! আমরা লোকদেখানো ভালোবাসায় বড় বেশি মজেছি।

সংকীর্ণ অর্থে ভালোবাসাকে যদি প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবেচনা করা হয়, তাহলে আমরা কী দেখি? পরস্পরের মধ্যে অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব, সন্দেহ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেলফোন লক করে অপরজনের কাছ থেকে দূরে রাখছে।

কিসের এত গোপনীয়তা, যা প্রকাশ করা যাচ্ছে না? পরস্পরের প্রতি সৎ থাকাটা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে? ‘ভালোবাসা দিবস’র প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারগুলো কেন খানখান হয়ে যাচ্ছে?

প্রতিনিয়ত বিচ্ছেদ, পরকীয়া ও বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে আমরা জড়িয়ে পড়ছি। পত্রিকার পাতা খুললেই চোখের সামনে এ অপ্রিয় খবরগুলো কেন বারবার ভেসে উঠছে? আমাদের ভালোবাসায় কি ঘাটতি আছে? আমরা কি ভালোবাসাকে ছেলেখেলায় পরিণত করেছি? ক্ষণিকের মোহে জ্ঞানহারা হয়ে যাচ্ছি? নিজের নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ, বিশ্বাস জলাঞ্জলি দিচ্ছি, কিন্তু কেন?

দিন দিন হিংসা, পারিবারিক কলহ, সন্দেহ, অবিশ্বাস, পরকীয়া যে হারে বেড়ে চলেছে; এজন্য আকাশ সংস্কৃতিও অনেকাংশে দায়ী। আকাশ সংস্কৃতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্নেহ, শুভাশিসকে হিংসা-দ্বেষ, হানাহানি, অবিশ্বাসের নোংরা ভাগাড়ে পরিণত করছে।

এ কুৎসিত আগ্রাসনের লাগাম টেনে ধরার সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। স্বকীয়তা ও মূল্যবোধ রক্ষা করতে প্রয়োজনে আমাদের আকাশে চীনের প্রাচীর অপেক্ষা আরও দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে।

আসলে এ দিনে কার প্রতি ভালোবাসা? ভালোবাসা কি শুধু একটি দিনের জন্য? সত্যিকার ভালোবাসা তো হৃদয় নিংড়ানো নির্যাস, নির্দিষ্ট দিন, ক্ষণ, উপলক্ষ ছাড়াই সবসময় স্ফুরিত হওয়ার কথা। চারদিকে এত ভালোবাসার পরও মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

ভালোবাসা কেমন হলে স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পরের দ্বারা নির্যাতিত ও প্রতারিত হবে না; বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবে না; সন্তানকে নেশায় আসক্ত হতে হবে না; মানুষে-মানুষে হিংসা-দ্বেষ, হানাহানি, মারামারি থাকবে না।

কেন ‘আমাদের ভালোবাসা’ বিবেক, বুদ্ধি ও উপলব্ধিকে পরিশীলিত এবং অন্যকে আপ্লুত করতে পারছে না? কেন অন্যের প্রতি ক্ষোভ, অশ্রদ্ধা, অসহিষ্ণুতা উগড়ে দিচ্ছে? এ ভালোবাসায় কি খাদ আছে? ‘আমাদের ভালোবাসা’য় কি প্রতারণা, সন্দেহ ও অবিশ্বাস বাসা বেঁধেছে? যার ভেতরে প্রেম, ভালোবাসা আছে; সে তো অন্যকে প্রতারিত করতে পারে না।

এ যে ভালোবাসার প্রকাশ, এটা কি আমাদের ব্যক্তিগত বা দু’জনের বা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে? এ ভালোবাসাকে আমরা মহৎ কোনো কর্মযজ্ঞে প্রভাবক বা উদ্দীপক হিসেবে কাজে লাগাতে পারছি? যদি না পেরে থাকি, তাহলে ঘাটতি কোথায়? তাহলে কাকে, কখন, কীভাবে ভালোবাসলে এ পৃথিবীতে শান্তি ও স্বস্তির সুবাতাস বইবে?

 

নেশায় বুঁদ হয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতে পারে না। তার অন্ধকারের ভয় থাকে, আলোর আকুতি থাকে। পৃথিবীর সব প্রেম-ভালোবাসা, শুভ কামনার উৎপত্তি নিজের প্রতি প্রেম-ভালোবাসা থেকে। সব প্রেমই নিজের প্রতি ভালোবাসার উপজাত।

নিজেকে ভালোবাসলে নিজের নীতি, আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। তখন ওগুলোর প্রতি অবিচল থাকতে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করা যায়, কিন্তু আত্মহত্যা করা যায় না। যে নিজের ভালোবাসার প্রতি বিশ্বস্ত হতে পারে না, সে অন্যের প্রতি ভালোবাসায় সৎ থাকতে পারে না।

নিজেকে ভালোবাসার অপর নাম শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। আর শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষ কখনোই কারও অনিষ্ট করতে পারে না। কাউকে তার প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। আর এ ধরনের মানুষই তো সোনার মানুষ।

আর নিজের প্রতি এ ভালোবাসা থেকেই তৈরি হতে পারে অন্যের প্রতি নির্ভেজাল ও সতেজ-শুভ্র ভালোবাসা। তাই সুখী পরিবার, সমাজ ও দেশ গঠনের স্বার্থে সবার আগে নিজেকে ভালোবাসুন প্রতিক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্ত।

মুজিববর্ষ