বরিশালে ৮৪ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট, বাস ও যাত্রীকে জরিমানা বরিশালে বোরো ধান সংগ্রহ কার্ষক্রম-২০২০ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত অসুস্থ মোশারফ হোসেনকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র আর্থিক সহয়তা প্রদান নিষেধাজ্ঞা সত্বেও বরিশালে কিস্তি আদায়ে এনজিও গুলোর চাপ প্রয়োগ বরিশাল লঞ্চঘাটে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার তিনটি লঞ্চ ও ৫জন যাত্রীকে ১৪হাজার টাকা জরিমানা শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে কঠোর অবস্থানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বরিশাল পলাশপুরে ড্রেজার মামুনের বিয়ে বানিজ্য! বিয়ে পর অস্বিকার করলেন স্ত্রীকে উজিরপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবতির মৃত্যু, নমুনা সংগ্রহ বরিশালের পুলিশ সুপারসহ ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ!

পুলিশের কাজে অসন্তুষ্ট দেশের অনেক মানুষ!

মুক্ত কলাম::

ঈদের বাকী আর মাত্র কয়েক দিন, এরই মধ্যে অনেক অসচেতন মানুষ তাদের ঈদের কেনা কাটাও সেড়ে ফেলেছে ।কারন নতুন কাপড় ছাড়াতো আর ঈদ হয় না। এখন বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে উপভোগ করার অপেক্ষা মাত্র ।

করোনা ভাইরাসটাকে সকলের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে একটু আগে ভাগেই শহর ছেড়ে গ্রামের উদেশ্য রওনা করেছে ঘরমুখো মানুষ। দেশের দক্ষিন অঞ্চলগামী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে। একই চিত্র ছিল পাটুরিয়া ঘাটেও ।

দেশে কিশের করোনা কিশের লগডাউন সবার আগে ঈদের আনন্দ।মানুষের জনসমাগমের চিত্র দেখে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কথা বলতে গেলে অনেকের কাছে সেটা হাস্যকর মনে হবে।

তবে উৎসুক অসচেতন জনতাকে প্রতিটি পদে পদে বাঁধা প্রদান করেছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।এতেই হতাশ হয়ে পড়েছে অনেক ঘরমুখো মানুষ।তাদের একটাই প্রশ্ন পুলিশ যেখানে মানুষের নিরাপদ যাত্রা উপহার দিবে সেখানে তারাই বাঁধা প্রদান করছে ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ধারা জনগণের নিরাপদ যাত্রায় বিঘ্ন ঘটার মতো চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে দিচ্ছে পুলিশ সদস্যরা।পুলিশের এই কর্মকান্ড অনেক মানুষের কাছেই দৃষ্টিকটু লেগেছে ।এখন প্রশ্ন উঠেছে দেশের পুলিশ কি তাহলে পরিবর্তন হবে না।

যেখানে পুলিশ ঘুস নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিবে সেখানে পুলিশ হাত জোড় করে সকলের কাছে অনুরোধ করেছে।শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বিষয়টা আমার কাছেও একটু খটকা লাগলো, যাই হোক বিভিন্ন শপিং মল ও কাপড়ের দোকানে কেনা কাটা করতে এসেছে অনেক মানুষ।মৃত্যু হলে হবে ঈদে নতুন কাপড় না হলে চলবে না। কিন্তু রাস্তায় মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুলিশ সদস্যরা ।

কেউ কেউ আবার ছেলে মেয়েসহ শপিং করতে এসেছে। কিন্তু এটা দেখে পুলিশ সদস্যরা রাগ করছে। একজন তো বলেই উঠলো সন্তানের জন্য আমার চেয়ে কি পুলিশের দরদ বেশি।
পাশে দাঁড়িয়ে শুনছি আর চিন্তা করছি সত্যি বাস্তব কথা যার সন্তান তার চেয়ে পুলিশের এতো মায়া কেন।

ঘোরাফেরা করার জন্য অনেকে মটর সাইকেল নিয়ে বের হলেই পুলিশ আটকে দেয়।এটা একটু বাড়াবাড়ি করছে পুলিশ, করোনার জন্য তো আর বিনোদন নষ্ট করা যায় না।সামনে ঈদ তাই কেনা কাটা করতে হবে কিন্তু এই মূহুর্তে পুলিশের এমন আচরণ অনেকই মেনে নিতে রাজি না।

তবে ঈদের আনন্দ নষ্ট বা বাধা প্রদান করতে নয় বরং বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করছে মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে । জনতার পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস থেকে দেশের জনগণের জীবন বাঁচাতে।

পুলিশকে দোষ দেয়ার আগে একটি বার ভাবুন দেশের কথা। দেশের মানুষের কথা।ভাবুন নিজের জীবন ও পরিবারের কথা। কেনাকাটা বড় না জীবন বড়, বেচে থাকলে অনেক কিছু কিনতে পারবেন।

জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

যে সমস্ত মানুষ ঈদ করতে বাড়িতে এসেছেন, অথবা আসতে চাইছেন একটু ভেবে দেখুনতো ঈদ বড় নাকি জীবন। বাড়িতে এসে আপনার পরিবারের সদস্য,সমাজ আপনি নিজেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবেন।

কেনা কাটা করে ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনবে । এক বছর নতুন কাপড় না কিনলে কি খুব বড় একটা ক্ষতি হবে না । কিন্তু আপনার জন্য বেচে যেতে পারে অনেক মানুষ।

আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে কোন কিছু থেমে থাকবে না।শুধু দেশে নতুন একটি মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আপনার পরিবারের অপূরনীয় একটা ক্ষতি হয়ে যাবে।

আপনি কিছু দিন ঘরে থাকলে যে ক্ষতি হবে সেটা একদিন পূরন করা সম্ভব হবে, হয়তো একটু সময়িক সমস্যা হবে তবে জীবন হারালে সেটা কিন্তু আর পাওয়া যাবে না।

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ই মে থেকে আবারও লগডাউন ঘোষণা করেছে সরকার ।লগডাউন কার্যকর করতে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।জনগণকে নিয়মের মধ্যে রাখতে গিয়ে অনেক কথা শুনতে হয় তার পরেও কিন্তু পুলিশ হাল ছেড়ে দেয়নি। পূর্বেও রাস্তায় ছিল এখনো আছে আগামীতেও থাকবে ।

দেশের জন্য আপনাকে রাস্তায় গিয়ে পুলিশের মতো কাজ করতে হবে না।শুধু নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের কথা ভেবে দয়া করে ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন।

ঈদের আনন্দে লগডাউন অমান্য করে বাড়িতে আসতে বাঁধা দিলে কেউ পুলিশকে গালি দিবেন না।কারন আপনার জন্য তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় আছে। আপনি নিজের জন্য ঘরে থাকুন।

মূলকথাঃ যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ করুন বেঁচে থাকলে আবার সকলের সাথে আনন্দ করতে পারবেন।
ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন দেশকে নিরাপদ রাখুন।

জুবায়ের ইসলাম চৌধুরী
প্রধান বার্তা সম্পাদক
বরিশাল নিউজ২৪.কম

মুজিববর্ষ