করোনায় অসহায়দের পাশে চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা! করোনা নিয়ে ৬৪ জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স কাল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মেহেন্দিগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বর্নপরিচয়ের জনসচেতনতা করোনা : ১৮‘শ বিচারকসহ ১৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সেল এই সময়ে খুসখুসে কাশি আর জ্বর হলে যা করবেন ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা ঈদ পর্যন্ত বাড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ: আইইডিসিআর বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে বসছে করোনা সনাক্তের মেশিন

ফিটনেসবিহীন গাড়ি: সব জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ

 অনলাইন ডেস্ক:: সারা দেশে ফিটনেসবিহীন, নিবন্ধনহীন, চলাচলের অযোগ্য গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং এসব গাড়ি বন্ধে ট্রাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এজন্য প্রতি জেলায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিআরটিএ এবং পুলিশের সমন্বয়ে ট্রাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম এর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও সড়ক পরিবহন সচিবকে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফিটনেসবিহীন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে শুনানি করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়। আগামী ১ জুন বিবাদিদের এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।

এই টাস্কফোর্স চলাচলের অনুপযোগী, ফিটনেসহীন ও অনিবন্ধিত যান দেখে আইন অনুযায়ী সেগুলো আটক, জব্দ ও ডাম্পিং করতে পারবে বলেও জানিয়েছে আদালত।

আদালতে বিআরটিএর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মঈন ফিরোজী ও মো. রাফিউল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আইনজীবী মঈন ফিরোজী পরে সাংবাদিকদের বলেন, সড়কে, বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে চলাচলের অনুপযোগী, ফিটনেসহীন ও অনিবন্ধিত যেসব যান চলছে, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করে সড়কের নিরাপত্তা যাতে বাস্তবায়ন করা যায় তার জন্য পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিআরটিএর সমন্বয়ে প্রতিটি জেলায় টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে।

অপরাধসমূহ বিচার করার জন্য সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ১১৪, ১১৫ তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী পুলিশের যে ক্ষমতা, বিআরটিএর যে ক্ষমতা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়ন না করে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতেই এই টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাসহ সারাদেশে ফিটনেস ছাড়া গাড়ির চলাচল বন্ধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছিল হাই কোর্ট।

গাড়ির নিবন্ধন ও ফিটনেস সংক্রান্ত বিআরটিএ ও পুলিশ প্রধানের দেয়া প্রতিবেদন দেখে গত বুধবার বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও পুলিশ প্রধানকে রোববার তা জানাতে বলা হয়েছিল।

পুলিশ প্রধানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ২৩ অক্টোবর হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিভিন্ন তেলের পাম্প কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে, যাতে ফিটনেসবিহীন যানবাহনে তেল দেয়া না হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ অনুযায়ী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আর বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ২৩ অক্টোবর হাই কোর্টের আদেশের পর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে নিবন্ধিত চার লাখ গাড়ির মধ্যে থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪ গাড়ির ফিটনেস নবায়ন সনদ ছিল। আর নতুন নিবন্ধিত ১৯ হাজার তিনটি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গতবছর ২৩ অক্টোবর আদালত ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তেল-গ্যাস-পেট্রোলসহ সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। তারও আগে গতবছর ২৩ জুলাই নিবন্ধন নিয়ে ফিটনেস নবায়ন করেনি এমন চার লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি গাড়িকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

গত বছর ২৩ মার্চ ‘নো ফিটনেস ডকস, ইয়েট রানিং’ শিরোনামে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর ২৭ মার্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

ঢাকাসহ সারাদেশে ফিটনেস-নিবন্ধনহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের প্রতিবেদন চেয়ে বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানীকে ২৪ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলে।

একই সঙ্গে ফিটনেস, নিবন্ধনবিহীন যান চলাচল ও লাইসেন্স ছাড়া যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তির বাঁচার অধিকার রক্ষায় মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ -এর বিধান বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

মুজিববর্ষ