করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নগরীজুড়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে- মেয়র সাদিক পিরোজপুরে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীর পা ভেঙ্গে দিল বখাটে ভোলা সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে নেওয়ার সময় রোগীর মৃত্যু গৌরনদীতে এমপি হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নিজ অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শেবাচিমে পিসিআর মেশিন স্থাপনের কাজ পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ছুটি বাড়ল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত, আদেশ জারি জেনে নিন তেঁতুলের গুণ সম্পর্কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি করেছে করোনা: গুতেরেস ৫৫ বছরের দাদাকে বিয়ে করতে নাতির আত্মহত্যার চেষ্টা! খুব কষ্টকর দুটো সপ্তাহ ও কষ্টের সময় আসছে: ট্রাম্প

ববিতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত, বেড়েছে ‘অস্থিরতা’

 শফিক মুন্সি :: সহিংসতা ও ছাত্র নির্যাতনের মতো ঘটনা পিছু ছাড়ছে না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি)। গত ০২ সপ্তাহে একাধিক সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় দশজন শিক্ষার্থী । পাওয়া গেছে ছাত্রী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি প্রশাসনের ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র কারণেই বারবার এসব ঘটনা ঘটছে। এর সাথে আছে রাজনৈতিক কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, হলে সিট দখল, মাদক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে অভিযোগ পাওয়া গেছে কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি এমন ইতিহাস নেই। বরংচো সহিংসতার ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই বাদি-বিবাদি পক্ষ নিজেরা মিমাংসায় চলে যায় বলে প্রশাসনের পক্ষে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।সহিংসতার এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ভীতিকর পরিবেশ, ক্যাম্পাসে বেড়েছে অস্থিরতা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের রাফসান জানীর ওপর শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আসে। রবিবার (০৮ মার্চ) রাফসান এ ঘটনার বিচার দাবি করে উপাচার্য বরাবর আবেদন করে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ মার্চ বিভাগের একটি অনুষ্ঠান শেষ করে রাত ১০ টার দিকে সে ক্যাম্পাসে ফেরে। তখন উপাচার্য ভবনের সামনে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। হামলায় অংশগ্রহণ করে রাফসানের সহপাঠী হাফিজুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম সুমন, হাসিব শেখ সাইমুনসহ আরও ২/৩ জন। তবে অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলাম জানান উল্টোকথা। তিনি বলেন,রাফসানের ওপর দলবেঁধে হামলার কোন ঘটনা ঘটে নি। বন্ধুদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

যা সোমবার (০৯ মার্চ) প্রক্টর স্যারের উপস্থিতিতে মিমাংসা করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ মার্চ গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নওরীন উর্মির ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। উর্মি এবং তাঁর পরিবারের দাবি, ১লা মার্চ পরীক্ষা শেষ করে বের হবার পর একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গনে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী ১০-১৫ জন উর্মির ওপর হামলা করে। স্ট্যাম্প ও জ্যামিতি বক্সের কাঁটা কম্পাস দিয়ে উর্মির স্পর্শকাতর জায়গায় খোঁচানো এবং আঘাত করা হয়।

তবে এ ঘটনা নিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে দ্বিধাবিভক্তি। একদল শিক্ষার্থীর দাবি একাডেমিক ভবনের ভিতরে এমন কোনো হামলার ঘটনা অসম্ভব। ঘটনার এতদিনে উর্মির পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না আসায় এবং চাক্ষুষ কোন প্রমাণ না থাকায় উর্মির অভিযোগের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছে অনেকে৷ লিখিত অভিযোগ না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত শনিবার একটি ‘তথ্য অনুসন্ধান ‘ কমিটি করেছে। তিন সদস্যের এই কমিটি আগামী বৃহস্পতিবার ‘উর্মি ঘটনা’য় কোন তদন্তের দরকার আছে কিনা সে বিষয়ে মতামত দেবেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হলে সিট দখল ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের হামলা পাল্টা – হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৪ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলায় অংশগ্রহণকারী সকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ‘নাভিদ গ্রুপ’ ও ‘রাফি গ্রুপ’ নামে পরিচিত। এই ঘটনার জের ধরে সেদিন রাতে সেখানকার শেরে বাংলা হলে শাহজালাল নামে এক শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হলের ৪০১৬ নম্বর কক্ষ থেকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহজালাল ইয়ামিনকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে ১০০১ নম্বর কক্ষে আটকে মুখ বেঁধে নির্যাতন করেন ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের আল সামাদ শান্ত, নাওয়ার হক, আযমাইন রাদ সহ অপরিচিত ২/৩ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। কিন্তু এসব হামলা ও নির্যাতনে অংশগ্রহণকারী সকলে নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী ও পদবী বিহীন ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাতের অনুসারী বলে দাবি করেন৷ ২৫ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনা দুটিতে এ পর্যন্ত তাহমিদ জামান নাভিদ ও আল সামাদ শান্ত নামে দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া এ দুটি ঘটনায় এখনো তদন্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস। অনুসারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয়েছিল মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সবার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আমি। অনেক সময় দেখা যায় অপরাধী নিজের অপরাধ ঢাকতে ছাত্রলীগ ও আমার নাম ব্যবহারের চেষ্টা করে।

কিন্তু কোনো হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় আমি মদত দিয়েছি এমন উদাহরণ নেই। তবে ধারাবাহিক এসব সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম জানান, বাড়িতে বাবা-মা সারাক্ষণ চিন্তায় থাকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে। সহিংসতার ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারলেই ক্যাম্পাসে পুনরায় শান্তি ফিরে আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানান নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন। তিনি জানান, সহিংসতা কিংবা নির্যাতনের যে ঘটনাগুলোই আমাদের নজরে আসছে আমরা সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি৷ ইতোমধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অন্য কয়েকটি ঘটনার তদন্ত চলছে৷

মুজিববর্ষ