১০নং ওয়ার্ড আ-লীগের উদ্যােগে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন পালিত হুমকি বাস্তবে রুপ, শেষ পর্যন্ত রিয়াজের বাড়ি দখলে নিলো স্বীকৃত হত্যাকারী লিজা! বরিশালে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে এখনই মাঠ গরম করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা বরিশাল কর্নকাঠিতে ভেকু মেশিনে নদী খাচ্ছে লোকমানের এম.এস.বি ব্রিকস! ভিডিও সহ বরিশালে পলাশপুরের শুক্কুর ও চাঁদপুরার লিপি জনতার হাতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক! অতঃপর বরিশালে ১২কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ডিবি পুলিশের খাঁচায়! বরিশালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ছাত্রের ঘুষিতে মৃত্যু গাড়ি চালকের বাকেরগঞ্জের ভরপাশায় অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সেই রানা আবারো বেপরোয়া! বরিশালের চরামদ্দী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে সিগন্যাল পেয়েছেন নতুন মুখ মঈন!

বরিশালে খাল ড্রেন দখলের কারনে জলাবদ্ধতা

জুবায়ের ইসলামঃ জলাবদ্ধতা এখন বরিশাল নগরীর জন্য একটি দূরভোগের নাম। একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ।সাম্প্রতি টানা তিন দিন বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বরিশাল নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ।

তবে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে সবচেয়ে বেশি দূর্দশায় পড়তে হয়েছে নগরীর পলাশপুর, ভাটিখানা শ্রীপুর কলোনি, আমানগঞ্জ, বিসিক শিল্প এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের।

জোয়ারের চাপ ও বৃষ্টি কমে গেলেও নগরীর মানুষ বন্দী দশা থেকে মুক্তি পায়নি। বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পলাশপুর, টিয়াখালী,রুপাতলী, পোর্ট রোড এলাকায় এখনো হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।

একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে যায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা। বার বার নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ খোঁজা হচ্ছে। অনেকেই জলাবদ্ধতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেন।

জলাবদ্ধতার কারণ খুঁজতে গিয়ে কেউ কেউ অবৈধ খাল দখলদারদের দ্বায়ী করছেন। কেউ আবার ড্রেন আটকে অবৈধ কৃত্রিম সিড়ি নির্মাণের দিকে আঙ্গুল তুলছেন।

একপক্ষ বলছে, অবৈধ ভাবে খাল দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিরমাণ করার জন্য খাল ছোট হয়ে গেছে, যার ফলে পানি সঠিক ভাবে নদীতে নামতে পারছে না। সেজন্য একটু বৃষ্টি হলেই নগরী পানিতে তলিয়ে যায়।

অন্য এক পক্ষের মতামত, নগরীর প্রতিটি প্রধান সড়কের পাশে পানি ড্রেনে নেমে যাওয়ার জন্য যে সরু পথ রয়েছে সেখানে ব্যবসায়ীরা সিমেন্ট দিয়ে কৃত্রিম সিড়ি তৈরি করে পানি যথা সময়ে নামতে বাঁধা সৃষ্টি করছে।সিড়ি দেয়ার কারনে অনেক সময় পলিথিন, চিপস এর প্যাকেট আটকে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।সময়মতো পানি ড্রেনে না যেতে পারায় রাস্তায় উঠে আসে। রাস্তা ডুবে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা একথায় পানি বন্ধী হয়ে পড়ে নগরবাসী।

এ বিষয় পলাশপুর এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক সময় আমাদের বসতঘর, রান্নাঘরসহ সকল কিছু পানিতে ডুবে থাকে।

নগরীর রুপাতলী এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আমরা যে বরিশাল নগরীতে বসবাস করি শহরের অবস্থা দেখলে সেটা মনেই হয় না । কেমন একটা অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট, দোকানপাট সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়।

সাগরদী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমার বয়স প্রায় ৪৫বছর। আমি দুটি বড় বন্যা দেখেছি তখন বরিশাল নগরীতে পানি উঠে ছিল, এরপর আর কোন দিন মূল শহর ডুবতে দেখিনি। কিন্তু এখন একটু বর্ষা হলেই পানিতে থইথই করে পুরো বরিশাল শহর। আমরা এই বন্দী দশা থেকে মুক্তি পেতে চাই।

কলেজ এভিনিউ এক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি পানি আটকে থাকার কারণে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এরপর ময়লা পানিতে আমাদের চলাচল করতে হয়।ময়লা পানির কারণে রোগজীবাণু বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়।

সদর রোড এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বৃষ্টি বন্যা প্রাকৃতিক জিনিস এটা বন্ধ করার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই তবে জলাবদ্ধতা দূর করার উপায় রয়েছে। আমাদের শহরে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। রাস্তার পানি ড্রেনে নামার জন্য যে পথ রয়েছে সেগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে আছে। প্রতিটি দোকানের সামনে প্রধান সড়কের পাশে সিমেন্ট দিয়ে ফুটপাতের সাথে মিলিয়ে কৃত্রিম সিড়ি তৈরি করা হয়েছে। পানি নামার পথ বন্ধ করে নির্মান করা সিড়িগুলোতে ময়লা জমে পানি আটকে যায়। যার ফলে পানি রাস্তায় উঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।

নাজিরমহল্লার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নগরীর ড্রেনগুলো যেমন আটকে দেয়া হয়েছে আবার শহরের চারপাশের খালগুলো অবৈধ ভাবে দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে কিন্তু মনিটরিং না থাকায় দখলদার মুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সকল নাগরিকের প্রত্যাশা নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখতে হলে সর্বপ্রথম অবৈধ ভাবে ড্রেন আটকে সিঁড়ি নির্মাণকারী ও খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রশাসন বরিশাল নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী উপহার দিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আশা বরিশালবাসীর।

মুজিববর্ষ