১০নং ওয়ার্ড আ-লীগের উদ্যােগে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন পালিত হুমকি বাস্তবে রুপ, শেষ পর্যন্ত রিয়াজের বাড়ি দখলে নিলো স্বীকৃত হত্যাকারী লিজা! বরিশালে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে এখনই মাঠ গরম করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা বরিশাল কর্নকাঠিতে ভেকু মেশিনে নদী খাচ্ছে লোকমানের এম.এস.বি ব্রিকস! ভিডিও সহ বরিশালে পলাশপুরের শুক্কুর ও চাঁদপুরার লিপি জনতার হাতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক! অতঃপর বরিশালে ১২কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ডিবি পুলিশের খাঁচায়! বরিশালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ছাত্রের ঘুষিতে মৃত্যু গাড়ি চালকের বাকেরগঞ্জের ভরপাশায় অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সেই রানা আবারো বেপরোয়া! বরিশালের চরামদ্দী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে সিগন্যাল পেয়েছেন নতুন মুখ মঈন!

বরিশালে তরুণ সাংবাদিক রাকিবকে হত্যার চেষ্টা! ওদের মিশন ব্যর্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বরিশালক্রাইম নিউজ’র প্রকাশক খন্দকার রাকিবেরর উপর একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে নগরীর স্বরোড সংলগ্ন মোহনা ক্লাব সম্মুখে এ ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, বরিশাল মিডিয়ায় বিতর্কিত কর্মকান্ডে লিপ্ত কথিত ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করায় পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। গত সপ্তাহে খন্দকার রাকিব বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ফয়সালার অনুরোধ রাখায় বাদী তানিয়া আক্তারের বাসার সামনে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো চিফ হাসিবুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে আলাপচারিতায় বসে। এসময় বরিশালে বিতর্কিত সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচিত কথিত এক সাংবাদিক সেখানে আকস্মিক উপস্থিত হয়ে একটি নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হাসিবুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই ঘটনা, অত:পর বিষয়টি দ্রুত অপরাপর সহকর্মীদের কানে পৌছে যাওয়ায় সেখানে খন্দকার রাকিব এক সঙ্গীসহ উপস্থিত হওয়া মাত্র তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, কথিত ওই সাংবাদিক মামলার বাদীকে অনেকটা ভুলভাল বুঝিয়ে একই সাথে হাসিবসহ রাকিবকে শায়েস্তা করার ফাঁদ পাতে। তার আভাস পাওয়া যায় অসাংবাদিক এবং রাজনৈতিক ক্যাডার হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন যুবক কথিত ওই সাংবাদিকের সাথে আগেই অবস্থান করছিল।

হঠাৎ করে রাকিবের উপস্থিতি এবং প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পরিকল্পনা মাফিক প্রথমে রাকিবের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে সরে যেতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে হাসিবকে নাজেহাল করার কৌশলী পরিকল্পনার বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়।

উল্লেখ্য হাসিবুল ইসলাম ও খন্দকার রাবিক ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকে বর্তমান সময়ে বিতর্কিত সাংবাদিকদের সোচ্চার অবস্থান নেওয়ায় সঙ্গত কারণে ওই মহলটির গাত্রদাহ এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে ধারণা করছে।

খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্তকর দেখে থানার ওসি আজিমুল করিমকে অবহিত করলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ততক্ষণে ক্যাডার বাহিনীসহ কথিত ওই সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।

অপর একটি সূত্র জানায়, কথিত ওই সাংবাদিকের মিশন ব্যর্থ হচ্ছে, এমনটি নিশ্চিত হয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে সেখানে উপস্থিতি ঘটায়। কোতয়ালি থানার ওসি তদন্ত আব্দুর রহমান মুকুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনিও বাস্তবতা উপলব্ধি করে পরিস্থিতি সমাধানে দুই থানার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম ও তানিয়া আক্তারকে মুখোমুখি করলে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি বেড়িয়ে আসে। এই ঘটনার পাশাপাশি কথিত ৬ সাংবাদিকের মামলার দায়ের করার ইস্যুটিও রয়েছে বলে প্রমাণ মেলে।

রাকিব জানান, এই হামলায় সরাসরি রিপন হাওলাদার, সৈয়দ মেহেদী হাসান, আরিফিন তুষার ও আল আমিন সাগর নেতৃত্ব দেয়। এরা সকলেই দৈনিক মতবাদ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনের সম্পাদক-প্রকাশক এসএম জাকির হোসেনের সমর্থিত। এদের মধ্যে আরিফিন তুষার ও আল আমিন সাগর ব্যতিত অন্যরা রাকিবের দায়েরকৃত ওই মামলার আসামি।

হামলার প্রাক্কালে জাকিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা কেন হল, এমন প্রশ্ন ছুড়ে বারবার রাকিবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলারকারীদের প্রত্যেকের কাছে ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে, এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন বসতি। তাদের অভিমত কাউনিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিতি না ঘটলে রাকিবকে প্রাণে মারার সম্ভবনা ছিল। হামলায় তরুণ এই সাংবাদিকের মাথাসহ ঘাড়ে গুরুতর জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পাওয়া গেছে, রাতে হামলাকারীরা আবারও শেবাচিমের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু প্রগতিশীল ধারার সংবাদকর্মীরা জোটবদ্ধভাবে একদিকে এই ঘটনায় নিন্দা অন্যদিকে রাকিবকে দেখতে শেবাচিমে উপস্থিত হওয়ায় নতুন করে হামলার মিশন ব্যর্থ হয়ে যায়।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, ঘটনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক নেতা হিসেবে দাবিদার এসএম জাকির ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী ক্যাডার এবং তার অনুসারীদের দফায় দফায় সেলফোনের মাধ্যমে সার্বিক খবরা-খবর নিচ্ছিল এবং নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিল। ওই সূত্রটি আরও জানায়, প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

জানা গেছে, এসএম জাকির একের পর এক অঘটনের জন্ম দেওয়াসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় সত্ত্বেও পুলিশী সহায়তায় এখন তার বিরোধী মতের সংবাদকর্মীদের দমনে মিশন নিয়ে মাঠে নামছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতের ঘটনা তারই অংশ বিশেষ।

মুজিববর্ষ