আমানউল্লাহ কলেজ সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা সাদ্দাম হোসেন বাপ্পি’র মৃত্যুতে মোগ সুন্দার বরিশাল’র গ্রুপ পরিবারের শোক বরিশালে ওএমএস’র চাল বিতরণ জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ মোগ সুন্দার বরিশাল এর ৪র্থ বর্ষপূর্তি ও আন্দন ভোজন অনুষ্টান অনুষ্ঠিত বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে ১হাজার মিটার জাল জব্দ চরবাড়িয়ায় ইউনিয়নে উপনির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী মাসুদ হোসেন এগিয়ে ১০নং ওয়ার্ড আ-লীগের সাবেক সভাপতি এ্যাড. হুমায়ুন চৌধুরী প্রিন্স আর নেই, ওয়ার্ড আ-লীগের শোক নতুনধারার ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ বরিশালে বেপরোয়া মটর চালিত রিক্সা, প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ও উচ্চতর তদবিরে নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী সেলিম-সালাম

বরিশালে বেপরোয়া মটর চালিত রিক্সা, প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা

জুবায়ের ইসলামঃ বরিশাল নগরীতে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মটর চালিত রিক্সা।যাত্রীদের নিয়ে দ্রুত চালতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা।নগরীতে প্রতিনিয়ত যেভাবে মটর চালিত রিক্সা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এক সময় বিলীন হয়ে যাবে পায়ে চালিত রিক্সার সংখ্যা।পাশাপাশি বেকার হবে অনেক মানুষ।

নগরীতে দিন দিন মটর চালিত রিক্সা বৃদ্ধির কারণ ও দূর্ঘটনা রোধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে এক সময় এটা আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

নগরীর সড়কগুলোতে দ্রুত চলতে গিয়ে চালকরা প্রায় সময়ই ঘটিয়ে যাচ্ছে দূর্ঘটনা।যার ফলে বরিশাল নগরীতে আহত হচ্ছে শতশত মানুষ।যাত্রীরা এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলতে থাকলে আহত, পঙ্গু, এমনকি ঘটতে পারে প্রানহানী।

নতুন বাজার এলাকার আঃ সালাম নামের এক বাসিন্দা তার ছোট মেয়েকে নিয়ে মটর চালিত রিক্সায় বাসায় ফিরছিলেন। সদর রোড থেকে রিক্সা নিয়ে কালিবাড়ী রোড দিয়ে বাসায় যাবেন।কিন্তু না তার আর বাসায় ফেরা হলো না, মেয়ে নিয়ে যেতে হলো হাসপাতালে।

চালক দ্রুত চালাতে গিয়ে বিএম স্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বামে টার্ন নিলে বাবা ও মেয়ে রিক্সা থেকে ছিটকে পড়ে যায়।আসপাশের মানুষ এসে গুরুতর আহত বাবা মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এমন ঘটনা এখন বরিশাল বাসীর কাছে নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে গেছে।নগরীর কাউনিয়া, রুপাতলী, বাংলা বাজার,ধান গবেষণা সড়ক, নবগ্রাম রোড, বিএম কলেজ রোড,পলাশপুর, চৌমাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক দূর্ঘটনা খবর পাওয়া গেছে।

গত কয়েক দিন আগেও কামনান খান নামের এক যাত্রী জেলখানা মোড় থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি মটর চালিত রিক্সায় চড়েন।বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চালাতে গিয়ে নাজিরপুল এলাকায় উল্টে পড়ে এবং যাত্রী কামনান খান গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন।পরে এক্সে করে জানা গেছে তার হাতের জোড়া ছুটে গেছে।ডাক্তারের পরামর্শে বর্তমানে কামনান খানের হাতে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে ।

কিন্তু কেন এই অবস্থা, বরিশালে হঠাৎ করে মটর চালিত রিক্সা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীতে চলাচল করা যাত্রীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় খুব দ্রুত যেতে চায়।সময় বাঁচানোর জন্য পায়ে চালিত রিক্সায় চড়ে না।

তাই যাত্রীরা চলাচলের জন্য পায়ে চালিত রিক্সা বাদ দিয়ে সব সময় মটর চালিত রিক্সা খুজতে থাকেন।দ্রুতগামী রিক্সার প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ দেখে সবাই মটর চালিত রিক্সা ক্রয় করতে উৎসাহীত হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয় প্যাডেল চালিত এক রিক্সা চালক বলেন, মানুষ এখন আমাদের রিক্সায় চড়তে চায় না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে একটু সময় বেশি লাগে তাই মটরের রিক্সায় বেশি চড়ে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের মটর চালিত রিক্সা কিনতে হবে আর না হয় অন্য পেশায় যেতে হবে।

মটর চালিত রিক্সার এক চালক বলেন, আগে প্যাডেল চালিত রিক্সা চালিয়েছি এখন মটর চালিত রিক্সা চালাই।সবাই তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য মটর চালিত রিক্সা খোঁজে তাই আমি একটা মটর চালিত রিক্সা ক্রয় করেছি।যদিও অনেক সময় দূর্ঘটনা ঘটে তার পরেও আগের চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারি।

মটর চালিত রিক্সা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএমপি।মূল শহরে চলাচল করতে অনেক আগে থেকেই তাদের নিষিদ্ধ করেছে বিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ব্যস্ততম এলাকায় চলাচল থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।শহরে না ঢুকতে ট্রাফিকের পক্ষ থেকে মৌখিক নিষেধ আটক করাসহ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তার পরেও সুযোগ পেলেই শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং দূর্ঘটনা ঘটায়।

পায়ে চালিত রিক্সা বাদ দিয়ে মটর চালিত রিক্সায় চলাচলে যাত্রীদের বেশি আগ্রহ থাকার বিষয় সুশীল সমাজ বলেছেন, আমরাই মূলত মটর চালিত রিক্সা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।দ্রুত যেতে গিয়ে পায়ে চালিত রিক্সায় চড়তে চাই না। তাই বাধ্য হয়ে সব চালকরা মটর চালিত রিক্সা কিনতে আগ্রহী হয়ে যাচ্ছে।

একটি মটর চালিত রিক্সা কিনতে গিয়ে কতটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চালককে সেটা আমারা যানি না বা বুঝি না।বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে চালকরা একটি রিক্সা ক্রয় করে।

পরিশ্রম করলে ভালো খাবার খেতে হয় কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না রিক্সা চালকদের।সাড়া দিন কষ্ট করে যে টাকা আয় করে তা লোনের কিস্তি পরিশোধ করে শেষ হয়ে যায়।

কিস্তির চিন্তায় ছেলে মেয়েকেও ভালো কোন পোশাক ও খাবার কিনে দিতে পারে না।এর ফলে কি হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত প্রজন্ম পুষ্টিহীনতায় বেড়ে উঠছে। মেধা শূন্য হয়ে ভালো কিছু করতে না পেরে একদিন বাবার রিক্সা চালক হবে।

সুশীল সমাজ আরও বলেছেন, আমরা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের কথা চিন্তা করি না।রাস্তায় বের হলেই তাড়াহুরা করতে থাকি। লক্ষ একটাই আগে যেতে হবে যদিও গন্তব্যে পৌঁছে অহেতুক ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকি ।

একটি বারও ভাবি না যে যত গতি তত ক্ষতি। আর এজন্যই নগরীতে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে দূর্ঘটনা।এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে দিন দিন আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে, এক সময় দেখা যাবে আহত নয় বরং পঙ্গু ও নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কারণ একটু দ্রুত যাওয়ার জন্য পায়ে চালিত রিক্সায় চড়তে চাই না এবং যেতে হবে মটর চালিত রিক্সায়।বরিশাল নগরীতে দূর্ঘটনা রোধ করতে কতৃপক্ষ মটর চালিত রিক্সা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আশা বরিশালবাসীর।

মুজিববর্ষ