বরিশালে পলাশপুরের শুক্কুর ও চাঁদপুরার লিপি জনতার হাতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক! অতঃপর বরিশালে ১২কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ডিবি পুলিশের খাঁচায়! বরিশালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ছাত্রের ঘুষিতে মৃত্যু গাড়ি চালকের বাকেরগঞ্জের ভরপাশায় অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সেই রানা আবারো বেপরোয়া! বরিশালের চরামদ্দী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে সিগন্যাল পেয়েছেন নতুন মুখ মঈন! দেখে নিন Woobay থেকে ইনকাম করার সব পদ্ধতি লাকি আক্তারকে প্রেম করে বিয়ে, তিন মাস পর স্ত্রীকে হত্যা যা করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হবে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ চান কাউন্সিলররা

বরিশাল থেকে সাইলো প্রকল্প চলে গেছে : পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্পের গতিও কি তেমন হবে!

বরিশালে বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপিত হওয়ার ২৯ বছর পর শ্রম আদালত শুরু হয়েছে। গতকাল আমরা যতটাই আশান্বিত হয়েছি গতকাল আমাদের একটি সহযোগী পত্রিকায় প্রকাশিত অপর একটি সংবাদে তার চেয়েও বেশি মর্মাহত হতে হলো। সংবাদটির শিরোনাম, “অনিশ্চয়তার কবলে বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্প”।

এমন অনিশ্চয়তার কারণ হিসেবে সংবাদটিতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন না করে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সংবাদ তথ্যমতে, বরিশাল মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে প্রায় পৌনে ২ শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। এজন্য খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিআইডবিøউটিএ’র পরিত্যক্ত মেরিন ওয়ার্কশপের প্রায় এক একর জমি পর্যটন কর্পোরেশনকে লাভ লোকসানের অংশিদারিত্বে ৩০ বছরের জন্য লিজ দেয়া হয় তিন বছর পূর্বে। সংবাদে বলা হয়েছে সেই থেকে পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিবছর বিআইডবিøউটিএকে নির্ধারিত অর্থও প্রদান করে চলছে। এমনি এক প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি অনুমোদন না হয়ে ফেরত যাওয়ায় গোটা প্রকল্পের অনিশ্চয়তা যেমন বাড়ছে তেমনি প্রকল্প ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে এটা সুনিশ্চিত। প্রসঙ্গত: বলতেই হচ্ছে যে, বরিশালে কোন বৃহৎ প্রকল্প এলেও তা নানা কারণে বাস্তবায়িত হতে পারছে না।

এ ব্যাপারে আমরা সাইলো’র কথাই যদি বলি সেটি আর বরিশালে আসার কোন সম্ভাবনা আছে বলে মনে করিনা। অথচ ত্রিশগোডাউন এর দক্ষিণ পাশে জলাশয় ভরাট করে যখন সাইলো নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়, ঠিক তখনই একদল অতিউৎসাহী লোক জলাশয়টিকে পুকুর আখ্যা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। অথচ সেটি কোন পুকুরই নয় বরং ত্রিশ গোডাউন নির্মাণের সময় সেখান থেকে মাটি তুলে আনায় সেটি জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। এমনি এক প্রেক্ষাপটে আবার একদল মুক্তিযোদ্ধা বাধসাধেন বধ্যভ‚মির সৌন্দর্য নষ্টের অজুহাতে। যদিও বাস্তবে সাইলো নির্মাণ হলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভ‚মির কোন ক্ষতি হতো না এমন কথাও বলেছেন অপর এক মুক্তিযোদ্ধা দল।

এমনি ঘটনা সূত্রে স্থানটি পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম। এক পর্যায়ে বরিশালবাসীকে বোঝানো হয়, বর্তমান ত্রিশগোডাউনের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে সেখানেই নির্মাণ করা হবে সাইলো। সেই যে গেল আর বরিশালে খাদ্যবিভাগের সাইলো নির্মাণের কোন বাতাসও পাওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যেই নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর খাদ্যমন্ত্রীও পরিবর্তন হয়ে গেছেন। বরিশালের পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্প বাস্তবায়নে সাইলো প্রকল্পের মত স্থানীয়দের কোন ভ‚মিকা না থাকলেও কোন প্রকল্পেরই অনুমোদন না পেয়ে ফেরত চলে গেলে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকাটাই যুক্তিযুক্ত বলে আমরা মনে করি। সংবাদে এটাও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি গ্রহণে তৎকালীন বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এর ভ‚মিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বরিশালের সন্তান সেই মেনন এখন আর মন্ত্রী নন বলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রশ্নে সত্যিই বরিশালবাসী উদ্বিগ্ন।

সংবাদ তথ্য মতে, গত ১৯ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা বিবেচনার জন্য উত্থাপিত হলে, প্রকল্পটির অর্থের উৎস জানতে চান সভার সভাপতি। এ প্রশ্নে পর্যটন কর্পোরেশন থেকে বলা হয়, এটি সরকারের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন করা হবে। এ কথায় প্রস্তাবনার সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র প্রয়োজন বলে প্রস্তাবনাটি অনুমোদন না করে ফেরত পাঠানো হয়।

সুতরাং বরিশালে এই প্রকল্পটি আবার কবে আলোর মুখ দেখবে অথবা সাইলো’র মত হারিয়ে যাবে সঙ্গত: কারণেই সে প্রশ্নে বরিশালবাসী হতাশ। উল্লেখ্য, একমাত্র বরিশাল বিভাগীয় সদরেই কোন পর্যটন মোটেল নেই। এমনি এক প্রেক্ষাপটে আমরা দক্ষিণের প্রবীণ জননেতা সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জননেতা তোফায়েল আহমেদ, মন্ত্রী পদ মর্যাদাপ্রাপ্ত জননেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বর্তমান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী স ম রেজাউল করিম এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা আশা করবো এদের বদান্যতায় বরিশালের ফেরত দেয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

মুজিববর্ষ