বরিশাল কাশিপুর ইউনিয়নে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ৩জনকে কুপিয়ে জখম ওরা আর মানুষ হইলো না! বরিশালে সন্ধ্যার পরে ঔষধের দোকান ব্যতিত সকল দোকান বন্ধে নির্দেশ -পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান দেশে সন্ধ্যার পর ফার্মেসি ছাড়া সব দোকান বন্ধের নির্দেশ বরিশালে মসজিদে মসজিদে মাইকিং, ‘দয়া করে বাসায় নামাজ পড়ুন বিসিসির মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সন্মানির সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা -ত্রাণ তহবিলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক রোগীর মৃত্যু উজিরপুরে গভীর রতে অসহায় পরিবারের দুয়ারে এান নিয়ে ওসি জিয়াউল হাসান ভান্ডারিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ বরিশালে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ কাজে বাধা দেয়ায় ২ জনকে জরিমানা

বাকেরগঞ্জ থানায় ওসি আবুল কালামের যোগদানে পাল্টে গেছে উপজেলার দৃশ্যপট

 

দানিসুর রহমান লিমন, বাকেরগঞ্জঃ
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল কালাম বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পরই পাল্টে যায় উপজেলার দৃশ্যপট। পুলিশ শাসক নয়, শোষক নয়; পুলিশ জনগণের সেবক। এই মন্ত্রে উজ্জীবিত এখন পুরো বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের সকল সদস্য।

তাই হ্রাস পেয়েছে পুলিশ কর্তৃক মানুষের হয়রানি। ন্যায় বিচারের মূলে পুলিশের নিরপেক্ষতা এবং সততা। এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে দেশের অন্যতম একটি বাহিনীর ভাবমুর্তি। একমাত্র এ বাহিনীটিকেই জনসাধারণের সংস্পর্শে যেতে হয়, পেশাদারিত্বের স্বার্থে। তাই অনেক সময় বিভিন্ন কারণে বা অকারণে লোভ ও লালসার বশবর্তী হয়ে পড়েন কিছু সদস্য।

এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সাহসী কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন ওসি আবুল কালাম। সকল শক্তি অপশক্তিকে উপেক্ষা করে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কনস্টেবলদের প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রেরণাদীপ্ত পারঙ্গমতা প্রদর্শনে সফল হয়েছেন তিনি। ওসি আবুল কালাম বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই তাঁর কাজের সাফল্য ধারাবাহিকতা-কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে বাকেরগঞ্জের ইতিহাসে। ওসি আবুল কালাম বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর এ পর্যন্ত দুইবার জেলায় শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন।

ইতোমধ্যে তিনি সাধারাণ মানুষের পাশাপাশি জয় করে নিয়েছেন অভিভাবক মহলেরও মন। বাকেরগঞ্জ থানার সকল এলাকার যুবসমাজ যখন মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখন মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি।

ওসি আবুল কালামের দূর-দর্শিতার ফলে প্রায়ই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য এবং আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী-পাচারকারী এবং মাদকসেবী।

বাকেরগঞ্জ থানায় গত বছরের এপ্রিল মাসে ওসি হিসেবে যোগদান করেন আবুল কালাম। বাকেরগঞ্জ থানায় তার যোগদানের পর পাল্টে যেতে শুরু করে পুলিশের বেশ কিছু চিত্র, পরিবর্তন আসে সকল ক্ষেত্রে। তাঁর দক্ষ তদারকিতে পেশাদারিত্ব আসে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মাঝেও।
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ-অপবাদ লাঘবে থানার ওসি আবুল কালামের বিচক্ষণতা অনেকাংশেই প্রসংশার দাবি রাখে। অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর ইতোমধ্যেই সঠিক নিয়মের মধ্য জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকায় তিনি চেষ্টা সম্পন্ন করেছেন।

এছাড়া সাধারণ জনতার মাঝে দীর্ঘ দিনের যে সংশয় ছিল, ‘ভয়, পুলিশ সহযোগীতার কাজে টাকা লাগে’ এ সংশয়ও তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন চিরতরে। ওসি আবুল কালামের যোগদানের পর থানায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের, কমে গেছে অকারণে জিডি’র প্রবণতা।
সাধারণ মানুষের ভয় কেটেছে পুলিশের প্রতি। সেবা প্রাপ্তির লক্ষে পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে এখন মানুষ। আবুল কালাম থানার কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদারকিসহ অফিসারদের কাজে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। এতে পুলিশি হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষের অনেকটাই মুক্তি মিলেছে। শুধু তাই নয় বাকেরগঞ্জের সড়কগুলো দুর্ঘটনা ও যানজট মুক্ত রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

পুলিশের প্রতি নির্ভরশীলতার অভাবে অনেক মানুষেরই ছোটখাটো কোন বিষয় নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে অনিহা ছিল। অনেকে নিরবে-নিবৃত্তে প্রভাবশালীদের ছোটখাটো জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন। এতে অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়েছিল।
এসব সামাজিক সমস্যা নিরসনে ওসি আবুল কালাম তার অফিস কক্ষে নিয়মিত সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে থাকেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অপরাধীদের উৎসাহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে এখন। তাঁর এ উদ্যোগ চলমান থাকলে পুলিশের হারানো ভাবমুর্তি যেমন ফিরে আসবে, তেমনি মানুষের জীবনেও সুখের সুবাতাস বইবে। সবকিছু মিলিয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে ওসি আবুল কালাম সাধারণ মানুষের কাছে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন পুলিশ শোষক নয়, জনগণের বন্ধু।

মুজিববর্ষ