বরিশালে ৮৪ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট, বাস ও যাত্রীকে জরিমানা বরিশালে বোরো ধান সংগ্রহ কার্ষক্রম-২০২০ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত অসুস্থ মোশারফ হোসেনকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র আর্থিক সহয়তা প্রদান নিষেধাজ্ঞা সত্বেও বরিশালে কিস্তি আদায়ে এনজিও গুলোর চাপ প্রয়োগ বরিশাল লঞ্চঘাটে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার তিনটি লঞ্চ ও ৫জন যাত্রীকে ১৪হাজার টাকা জরিমানা শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে কঠোর অবস্থানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বরিশাল পলাশপুরে ড্রেজার মামুনের বিয়ে বানিজ্য! বিয়ে পর অস্বিকার করলেন স্ত্রীকে উজিরপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবতির মৃত্যু, নমুনা সংগ্রহ বরিশালের পুলিশ সুপারসহ ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ!

ভোলায় স্বাস্থ্য সেবার নামে রমরমা বাণিজ্য : হয়রানির শিকার জেলার ২২ লক্ষ মানুষ

ভোলা প্রতিনিধি :: প্রতিটি মানুষের কাছে তার শরীরের রোগটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে আরো কিছুদিন বেঁচে থাকার জন্য এবং নিজের স্বাস্থ্যকে ভাল রাখার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেই কথিত চিকিৎসকরা ডায়াগনস্টিক বা ক্লিনিকে ভর্তি করায়। রোগীর শরীরে কোন ইনজুরি না থাকলেও লম্বা টেস্ট’র কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে আদায় করছে কারি কারি টাকা। এই টাকার ২০% কমিশন মাঠ পর্যায়ে, ৩০ থেকে ৪০% কমিশন ডাক্তার আর বাকী ৪০% পার্সেন্ট কমিশনের অর্থ ক্লিনিক বা ডায়াগনিস্টিক মালিকদের পকেটে। প্রতারণা করা হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে। অনুসন্ধানের এমনটাই চিত্র ধরা পরেছে ভোলার বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলোতে।

অবৈধ লাইসেন্স, টিন শেট ঘর,অদক্ষ জনবল,অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, ক্ষতিকারক মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে মানব দেহের চিকিৎসা করা ভোলার স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার মত একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা শুধুমাত্র টাকার জন্য সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, ভোলার সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরকে ম্যানেজ করে কিছু ক্লিনিক সেন্টার টিনশেট ঘরের ওপর নির্মাণ করে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কোন রকম রং, সুরকী দিয়ে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ ও মানহীন এসব ডায়াগণষ্টিক/ ক্লিনিক সেন্টারে নেই কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে অনেক ডায়াগনস্টিক/ক্লিনিক মালিকরা ভুয়া রিপোর্ট তৈরী করছে।

চিকিৎসা ফি, বেড ও কেবিন ভাড়া, অপারেশন, প্যাথলজি টেস্টের ফি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নির্ধারণ করছে। নতুন প্রযুক্তি আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনা খরচের নামে তারা চিকিৎসার খরচ বাড়াচ্ছেন। এসকল প্রতিষ্ঠানগুলো সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা।

অনুমদোনহীন ও মাননিয়ন্ত্রণহীন ক্লিনিকও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেয়ার পরও সিভিল সার্জন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত ভোলায় কোন বড় ধরণের অভিযান পরিচালিত হয়নি। যার ফলে এসব অবৈধ ও মাননিয়ন্ত্রণহীন ডায়াগনস্টিক/ ক্লিনিক সেন্টারের উদ্যোক্তারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভোলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুসারে জেলায় ৮৫ টি ডায়াগনস্টিকসেন্টার/ ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ টির তক্মা অনুমোদন থাকলেও বাকি ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের কোন কাগজ পত্র নেই।

মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যাক্ট (১৯৮৩) অনুসারে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলতে হলে প্রথম শর্ত হলো নিজস্ব পাঁকা ভবন থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম আবশ্যক। লাইসেন্স প্রাপ্তরা প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। কিন্তু ভোলায় অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ নিয়মনীতির তোয়াক্কাই করছে না। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানে নাম সর্বস্ব নিয়োগ থাকলেও নিয়োগ প্রাপ্তদের ওই ক্লিনিকে তাদের দৈনিন্দ কাজ করার কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।

দ্বীপজেলা ভোলায় ২২ লক্ষ মানুষের বসবাস। অর্থনৈতিক সম্ভবনাময় এই জেলায় মানুষের মৌলিক জীবন যাত্রার মান অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় বিরাজ করছে। দুর্নীতিতে পুরো সেক্টর বিরাজমান হলেও বিশেষ করে স্বাস্থ্য শাখার কথা দুধের শিশুও জানে। নরমাল ডেলিভারি প্রসুতি মা কেও ২০/৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত কন্টাক্ট করে সিজার করাণ। এই সিজারের টাকাটা ক্লিনিকের সোসর্ থেকে শুরু করে ৪/৫টি সেক্টরে ভাগ হয়। যদি কোন কারণে রোগীর অবস্থা অবনতি হয়, তাহলে কন্টাক্টের টাকা আদায় করে রোগীকে বরিশাল বা ঢাকাতে স্থানন্তর করেন। আর সেটা যদি প্রসুতি মায়ের পেট কাটাও থাকে তাহলে নিস্তার নেই। একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে সকল দায়দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। এই ধরণে শত শত অভিযোগ থাকলেও ভোলার সিভিল সার্জনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবৈধ গর্ভপাত প্রতিটি ক্লিনিকের দৈনিন্দ কাজ। সিভিল সার্জন বিষয়টি জানলেও অজানা কারনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

বাংলাদেশ প্রাইভেট প্রাকটিস অ্যান্ড মেডিকেল অ্যাক্ট ১৯৯২ অনুযায়ী ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে চিকিৎসক, আবাসিক চিকিৎসক, সার্জন, স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) থাকতে হবে। এতে আরও ভলা হয়েছে, প্রতি দশ বেডের জন্য তিন জন ডাক্তার একজন করে তিন শিফটে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবে আবার একইভাবে প্রতি দশ বেডের জন্য ছয় জন স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) তিন শিফটের জন্য দুজন করে সার্বক্ষণিক ডিউটি পালন করবেন। কেবল এসব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারিভাবে কোনো ক্লিনিক রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার কথা। অথচ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিতিমালা অনুযায়ী কোনো নজরদারি নেই, যার ফলে কতিথ ক্লিনিক গুলো সম্পুর্ন বে-আইনি ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আবার রেজিস্ট্রেশন আছে এমন কতকগুলো ক্লিনিকেও এসব নিতিমালা শর্ত মোতাবেক নিয়ম না মেনেই চালিয়ে যাচ্ছে ক্লিনিক ব্যবসা।

এব্যাপারে বিভিন্ন ডায়াগনিস্টিকের একাধিক নার্সদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এভোশন, এম আর তাদের নিত্য দিনের কাজের একটি। ক্লিনিকে শুধুমাত্র কাগজে কলমে নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তার ও টেকনেশিয়ান, নার্স, স্টাফ রয়েছে। মূলত কাজ করায় কম পয়সায় পাওয়া অনভিজ্ঞ স্টাফ দিয়ে। যার কারনেই দুর্ঘটনা ঘটে বলে তারা জানিয়েছেন।

এই ধরনের ক্লিনিকের নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েক জন ডাক্তারের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, কাগজে কলমে আমাদের নিয়োগ থাকলেও এই বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। তবে এরা ক্লিনিক চালু করার জন্য অনৈতিক ভাবে আমাদের সনদ সহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে অনুমোদন এনে থাকেন। এই বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই ।

এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে কথা হয় ভোলা জেলা ডায়াগনস্টিক/ ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, আনিত অভিযোগগুলোর সিংহভাগই সত্য তবে ডালাও ভাবে দোষারপ করলে হবেনা। তিনি প্রশাসনকে দায়ি করে বলছেন, প্রশাসনিক কোন নজরদারি না থাকায় ভোলার কথিত ডায়গনস্টিক মালিকরা বেপরোয়া। তাছাড়া প্রশসনের নাকের ডগায় থেকে কি ভাবে লাইসেন্স বিহীন ডায়াগনস্টিক বা ক্লিনিক চালায় তার কারণ প্রশাসনই বলতে পারে। অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের বিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন যে পদক্ষেপ নেবে আমরা তার সাথে একমত হয়ে কাজ করতে চাই। টিন শেট ঘরে ক্লিনিক ব্যাসার বিসয়ে তিনি বলেন, অচিরেই সিভিল সার্জন মহদোয়কে এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে হবে বলে আমার সংগঠন মনে করে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ভোলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালির সাথে, তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি কিছুদিন হল ভোলা সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর কিছু প্রাইভেট ক্লিনিকের ও ডায়াগণষ্টিকের বিষয়ে খোজ নিচ্ছি। ডায়াগণষ্টিক ও ক্লিনিক ব্যাবসার নীতিমালা অনুসারে সবাইকে ব্যাবসা করতে হবে। সরকারি নীতিমালার বাহিরে যে সকল প্রতিষ্টান কাজ করবে আমি অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেব।

মুজিববর্ষ