করোনায় অসহায়দের পাশে চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা! করোনা নিয়ে ৬৪ জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স কাল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মেহেন্দিগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বর্নপরিচয়ের জনসচেতনতা করোনা : ১৮‘শ বিচারকসহ ১৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সেল এই সময়ে খুসখুসে কাশি আর জ্বর হলে যা করবেন ব্রয়লার মুরগি বিক্রির পাইকার পাচ্ছে না পোল্ট্রি খামারিরা ঈদ পর্যন্ত বাড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ: আইইডিসিআর বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে বসছে করোনা সনাক্তের মেশিন

মন্ত্রী হাসানাত’র অভিজ্ঞতা এবং মেয়র সাদিক’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতাঃ শেখ তাপস’র জয়ের মূলমন্ত্র

স্টাফ রিপোর্টার ।। ১৯ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেখ ফজলে নূর তাপসকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

নাম ঘোষণার সাথে সাথে বরিশাল জুড়ে আনন্দের বন্যা। কারণ পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্’র ভাগ্নে এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র আপন মামাতো ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস। মনোনয়ন পাওয়ার সাথে সাথে মামা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্’র কাছে ছুটে যান তাপস।

মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্’র দিক নির্দেশনায় এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্’র নেতৃত্বে বরিশাল জেলা ও মহানগর থেকে যে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় যান, তারা শেখ তাপসের পক্ষে নৌকা মার্কার প্রচারণায় নামেন। বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা যারা ঢাকার ভোটার তাদের একত্র করে এবং নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি এবং মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্।

মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্’র অভিজ্ঞতা এবং মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতা শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে বিশ্লেষক মহল। এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র সাদিক যেভাবে ডিজিটাল প্রচার প্রচারণা চালিয়ে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছেন, ঠিক তেমনই ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনেও ডিজিটাল প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে।

শেখ তাপসের ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। অপর একটি বিশ্লেষক মহল মনে করছে, শেখ ফজলে নূর তাপস এর আগে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করলেও সিটি মেয়র পদে এই তার প্রথম নির্বাচন। পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এর আগে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শওকত হোসেন হিরনকে নির্বাচিত করতে ভ‚মিকা রেখেছেন। এছাড়া সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্কে নির্বাচিত করতে তার ভূমিকা অনেক।

এছাড়া সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্’র আছে বরিশাল সিটি নির্বাচনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগের এ সকল অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে হারানো সহজ হয়েছে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ১৫০টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে তাপস পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট। ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন তাপস। উল্লেখ্য, বিপুল ভোটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষ হলে সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৫টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএসসিসির ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।

ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের প্রতিনিধি। তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের কোনো প্রতিনিধির দেখা মেলেনি। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় ফজলে নূর তাপসকে বেসরকারিভাবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন।

প্রথম দিকে ঘোষিত কিছু কেন্দ্রের ফলাফলে তাপস ও ইশরাকের মধ্যে ব্যবধান বেশি না থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন তাপস।

মুজিববর্ষ