রাজাপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, বৃদ্ধাকে নির্যাতন বরিশালে রহমতপুরে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী কমিটির সম্পদকের উপর হামলা,আহত ১ বরিশাল রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ২৪ মাস বেতন বঞ্চিত ৫ নার্স-কর্মচারী, করোনা আক্রান্ত নার্সের খবরও নেয়নি কর্তৃপক্ষ বরিশালে অপরাধীদের আতংকের আরেক নাম ওসি আজিমুল করিম মোংলায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯০ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার ট্রিপল মার্ডারের ২জন আসমি গ্রেফতার নগরীতে ডিবির এসআই পরিচয়ে বেসামাল ক্লোজড হওয়া এসআই শাহসাব মোংলায় গাঁজা সহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক বরিশালে সাংবাদিকতার অন্তরালে বেপরোয়া চাঁদাবাজি! প্যাদা নাহিদসহ ব্লাকমেইলিং চক্রকে খুজঁছে পুলিশ ঝালকাঠির শেখেরহাট’র ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান’র উপর সন্ত্রাসী হামলা

সম্পাদকীয়- প্রসঙ্গ : করোনা সন্দেহে হোম কোয়ারেন্টাইন

“বরিশালে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের সংখ্যা বেড়েছে”, এটি গতকাল প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তার একটি সংবাদ শিরোনাম। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সংখ্যা ১১ থেকে বর্তমানে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো আসলেই কি ওই ২০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন? এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত কোন তথ্য নেই। উল্লিখিত সংবাদেই বলা হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা একজন আত্মগোপন করেছিলেন বটে, তবে ওই ব্যক্তি আবার নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এ ব্যাপারে গতকাল একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়া সূত্রে জানা গেল, প্রকৃত পক্ষে বিদেশ ফেরত অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলছেননা, তারা বাজারে যাচ্ছেন, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও যাচ্ছেন। ওই মিডিয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজন সরকারী নির্দেশ না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের যে ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে তা বিদেশ ফেরতদের কাছে কোন ব্যাপারই না। তারা দেশে ফিরেই সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে বাজারসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যা অবশ্য বরিশালের নাগরিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং এটি নিশ্চিত করা জরুরী বলেও ওই মিডিয়া মন্তব্য করেছে। আমরাও মনে করি এটাই বাস্তব চিত্র। সম্প্রতি একটি পরিবহনে জনৈক যুবক বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেনা বলে করোনা ভাইরাস বিষয়ে নানা কথা বলার সময় তার পেছনেই বসা এক মহিলা বলে ওঠেন “আরে রাখেন তো! আমরা সুস্থমানুষ বন্দি থাকব কেন? আমিতো ক’দিন আগে মালয়েশিয়া থেকে এসেছি”। আসলে এমন মনোভাবের লোকজনই বেশি। বিদেশ ফেরতদের করোনা ভাইরাস থাক বা না থাক, তাদের অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা যে আবশ্যক সেটাই তারা মানতে চান না। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য নির্দেশনা মানানোর জন্য যাদের উপর দায়িত্ব তাদের অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে গোটা বিষয়টি। এ দিকে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের এখনো সময় হয়নি” বলার পরও গোটা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়ে সরকার। এ বিষয়ক একটি সংবাদও গতকাল প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক আজকের বার্তাসহ সকল পত্র পত্রিকায়। এ বিষয়ে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের আলোচনা হয়েছে, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখার স্বার্থে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে করোনা ভাইরাস থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সাথে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডার গার্টেনগুলোও সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রেখেছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৮ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস বিষয়ক যে সব তথ্য আছে তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় হয়েছে কি না? অবশ্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃতের সংবাদ থাকায় আমাদের নিকট প্রতিবেশী পশ্চিম বঙ্গ সরকার ইতোমধ্যেই সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উপর একটি পারিপার্শ্বিক চাপও রয়েছে। সর্বোপরি সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীরা যে হারে বাংলাদেশে ফিরে আসছেন তাতে সাবধানতা অবলম্বন অবশ্যই জরুরী। অথচ আমাদের শ্রমবাজার মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ফিরে আসাদের অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে রাখা বা রাখা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু অধিকাংশ বিদেশ ফেরত তারা কোনভাবেই আক্রান্ত নন দাবী করে সরকারী বা স্বাস্থ্য বিভাগের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে রাজি নন। এসব প্রবাসীদেরই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশনা আছে যার দায়িত্ব বর্তানো হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের উপর। সে ক্ষেত্রে ওই তিন সংস্থা হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোদের বিষয়টি সুনিশ্চিত করলেই সরকারী সাবধানতা-সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

মুজিববর্ষ