বরিশালে পলাশপুরের শুক্কুর ও চাঁদপুরার লিপি জনতার হাতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক! অতঃপর বরিশালে ১২কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ডিবি পুলিশের খাঁচায়! বরিশালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ছাত্রের ঘুষিতে মৃত্যু গাড়ি চালকের বাকেরগঞ্জের ভরপাশায় অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সেই রানা আবারো বেপরোয়া! বরিশালের চরামদ্দী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে সিগন্যাল পেয়েছেন নতুন মুখ মঈন! দেখে নিন Woobay থেকে ইনকাম করার সব পদ্ধতি লাকি আক্তারকে প্রেম করে বিয়ে, তিন মাস পর স্ত্রীকে হত্যা যা করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হবে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ চান কাউন্সিলররা

৩০ বছর পর মামলার রহস্য উৎঘাটনের তদন্ত কার্য্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন!

৩০ বছর পর মামলার রহস্য উৎঘাটন করে চাঞ্চল্য তৈরী করা “সগিরা মোর্শেদ হত্যা কান্ড” ঘটনার তদন্ত কার্য্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন করেছেন আসামী পক্ষ।
১৯৮৯ সালের চাঞ্চল্যকর সগিরা মোর্শেদ হত্যা কান্ডের ঘটনা নতুন করে মোড় ঘুরিয়ে সাজানো ঘটনা দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফাসিয়ে কারাগারে দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য করেছেন। এমটাই দাবী ডাঃ দিলাবিজ চৌধুরীর। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর ডাঃ দিলাবিজ চৌধুরী ৭২ বছর বয়সী বাবা এবং ৬৫ বছর বয়সী মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সঠিক বিচারের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন এবং তার বাবার নিজের লেখা কিছু কথা ও কিছু প্রশ্ন লিখিত আকারে তিনি সংযুক্ত করেন। আবেদনে তিনি লিখেছেন ৩০ বছর পুরানো কেস সগীরা মোর্শেদ হত্যাকান্ডের নেপথ্যে আমাদের বাবা ডাঃ হাসান আলী চৌধুরীর কিছু কথা আপনার সামনে তুলে ধরলাম। আজ থেকে তিন মাস পূর্বে আমাদের আব্বা আম্মা ও বড় মামাকে সগীরা মোর্শেদের হত্যা মামলায় ( মামলা নং-৪৫(৭)৮৯ রমনা,ঢাকা) গ্রেফতার দেখানো হয়। সগীরা মোর্শেদ আমাদের ছোট চাচী উনার মৃত্যু ছিল আকস্মিক ও আমরা সব সময় এই জন্য মর্মাহত ও ব্যথিত। কিন্তু কতিপয় লোকের প্ররোচনায় মিথ্যা সাজানো ঘটনা দেখিয়ে আমাদের পরিবারকে ৩০ বছর পরে ফাঁসানো হলো। এখন প্রায় ৩ মাস হতে চললো আমাদের আব্বা আম্মা ও বড় মামা জেলে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে তিনি প্রার্থনা জানান যে, আমাদের পরিবারের উপর অর্পিত মামলাটি সুষ্ঠভাবে তদারকি করার জন্য আকুল আবেদন করছি। ভবিষ্যতে এই লেখার উপর এবং ঘটনার সত্যতা বের করার জন্য যে কোন প্রকার সাহায্যের জন্য বাধিত থাকবো। আবেদনের সাথে মামলার আসামী তার বাবার একটি লিখিত বক্তব্যও তিনি সংযুক্ত করেন। তাতে লেখাছিল, আমি ১৯৮৫ সালের অক্টোবর মাসে দেশে ফিরে আসি। তখন আমার বড় ভাই শামসুল আলম চৗধুরী পরিবার সহ নীচ তলায় এবং ছোট ভাই আব্দুস সালাম চৗধুরী পরিবার সহ দোতলায় বসবাস করেতন। তখন এসে দুঃখের সাথে দেখলাম, দুই জায়ের মধ্যে মুখ দেখাদেখি ও কথাবার্তা হয় না এবং দুই ভাইয়ের মধ্যেও হয় না। আমি উদ্দোগ নিয়ে অন্যান্য মুরব্বীদের সহায়তায় উবধফ খড়পশ দূর করি। আমি ৩য় তলায় বসবাস শুরু করি। ১৯৮৬ সালে যখন আমার মা মারা যান। পরবর্তী ৩ বছরে পারিবারিকভাবে ছোটখাট বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে ছগিরা মোর্শেদের এবং আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে ছগিরা মোর্শেদের মনোমালিন্য হতো। তিন জা-ই গৃহবধু ছিল। ছগিরা মোর্শেদের মৃত্যু ছিল আকস্মিক এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা। কারন তার হাতে সব সময় দুইটি মোটা বালা ও চেইন থাকতো। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আমরা তিন ভাই একসাথে আমাদের পৈত্রিক বাসায় থাকতান, এই সময়ের মধ্যে আমাদের তিন ভাইয়ের মোট ১০ সন্তানের মধ্যে ৭ জনের বিবাহ ঐ বাসায় হয়। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকিয়া উপভোগ করি। এর মধ্যে আমরা ১৯৯৭ সালের এবং ২০১১ সালের আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দ্বয় ডেভেলপারের মাধ্যমে অসরপধনষু বন্টন করি। ২০১২ সালে আমি ধানমন্ডি আসি এবং আমার ছোট ও বড় ভাই গুলশানে বসবাস শুরু করে। বিগত ৮ বছরে আমার ছোট ভাই প্রত্যের ঈদের পরের দিন আমার ও আমার পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আসতো এবং আমার পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবারসহ অংশ গ্রহন করতো। এমনকি আমার ৩ বেয়াইয়ের পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমার দুই ভাই পরিবারসহ সব সময় থাকতো। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে আমার মেয়ে অসুস্থ্য হওয়ার পরে কয়েকবার আমার বাসায় আমার মেয়েকে দেখতে আসে। এমনকি বড় ভাতিজি সারাহাত অষ্ট্রেলিয়া থেকে আমাকে প্রথম দিন ফোন করে কাদে এবং গত বছরের মার্চ মাসে পরিবারসহ আমার বাসায় এসে দেখা করে যায়।
আমার জিজ্ঞাসাঃ
১। একসাথে বসবাস করার কারনে তিন জায়ের মধ্যে সামান্য মনোমালিন্যের কারনে কি এক ভাই আরেক ভাইয়ের স্ত্রীকে হত্যা করতে পারে?
২। যদি এক ভাই আরেক ভাইয়ের স্ত্রীকে মেরেই ফেলে তাহলে এত বছর কিভাবে সুসম্পর্ক থাকে।
৩। ডিবি এর তদন্তের সময় দুই বছরে আমাদের সংশ্লিষ্ঠতার কোন প্রমান পায় নাই।
৪। দুই বছর পর অধিকতর তদন্তের জন্য যখন মামলা স্থগিত করা হলো তখন বাদী পক্ষ কেন এবং কি উদ্দেশ্যে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নাই? (১৯৯১/১৯৯২)
৫। ত্রিশ বছর পরে হঠাৎ করে কি উদ্দেশ্যে এবং কেন মামলা পুনর্জীবিত হলো।
৬। আমার কখনও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং কোন ক্লাব বা অর্গানাইজেশন এবং সাথে জড়িত ছিলাম না। মানুষ সেবার ব্রত নিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর সুনামের সাথে বারডেম হাসপাতালে কাজ করেছি। কিন্তু আমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে নাই।
৭। তারা কেন বিষয়টি মূল্যায়ন করিতে পারলো না। তা আমার জানা নাই। যে তদন্ত ডিবি দুই বছরেও করতে পারে নাই, সেই তদন্ত ৩ মাসে দ্রুত যেমন তেমন সম্পন্ন করে নিজেদেরকে পারদর্শী গোয়েন্দা বাহিনী হিসেবে দাবী করেছে।
৮। মামলাটি যখন পূনর্জীবত হলো। তখন আমি এক বন্ধুকে বললাম যে, আমি খুব খুশি হয়েছি যে, মামলাটি তাদের কাছে হস্তান্তরিত হয় এই ভেবে যে, আমরা একটা সঠিক বিচার পাব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা আমার পরিবার এবং আমার শশুরের পরিবারকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে। যে তদন্ত রিপোর্ট তারা দিয়েছে তা সম্পূর্ন এক পেশে। তারা ১২/১১/২০১৯ ইং তারিখে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ডেকে কথা বলতে চায় এবং ঐ দিন জোর পূর্বক এবং চরম ভয় দেখিয়ে ১৬১ ধারায় আমার এবং আমার স্ত্রীর জবানবন্দি নেয় এবং বলা হয় এভাবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিলে ৬ দিনের রিমান্ডে এনে চরম শিক্ষা দিবে এবং স্বীকারোক্তি নিবে। এই বৃদ্ধ বয়সে এবং মান সম্মানের ভয়ে আমি জবানবন্দি দেই। যা ছিল তাদের এর একটি সাজানো নাটক।
৯। এর দুইদিন আগে অর্থাৎ ১০/১১/২০১৯ ইং তারিখে আমার বড় শ্যালক আনাছ মাহমুদকে কথা বলার জন্য বাসা থেকে ডেকে নেয় এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখায়। তাকেও চরম নির্যাতনের মাধ্যমে ওদের বানানো কাহিনী অনুযায়ী স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে এবং ধারনকৃত ভিডিও আমাদেরকে দেখায়।
১০। আমরা তিন ভাই এক সাথে থাকা সত্বেও এবং আমার বড় ভাবির সাথে সগিরা মোর্শেদের দীর্ঘ সম্পর্কের পরও কেন তারা ওদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন নাই। এটা আমার বোধগম্য নয়।
১১। তারা আমাদের মাধ্যমে যে ২৫,০০০/-টাকার কন্টাক্টের কথা বলেছে তা সম্পূর্ন কাল্পনিক। এধরনের কাজ আমার পক্ষে করা কখনও সম্ভব নয়। এছাড়া আমি কখনও মারুফ রেজাকে পূর্বে দেখিনি বা সে আমার কখনও রুগী ছিল না।
১২। পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবো। সেই সাথে পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে ফরিয়াদ জানাবো যারা আমার পরিবার এবং আমার শশুর বাড়ীর পরিবারকে হেয় করার জন্য দায়ী আল্লাহ যেন তাহাদেরকে এই দুনিয়ায় বিচার করে।
১৩। তাদের ভাষ্যমতে আনাস মাহমুদের কাজ ছিল সগীরা মোর্শেদকে চিনিয়ে দেয়া। আমার শালকের একমাত্র সাক্ষী হচ্ছে রিক্সা ওয়ালা, যে ৩০ বছর আগে তাকে সনাক্ত করতে পারে নাই। এখন কিভাবে এই বৃদ্ধ বয়সে এবং ৩০ বছর পরে সে কিভাবে আনাস মাহমুদকে সনাক্ত করতে পারে?

উল্লেখ্য, ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ১৯৮৯ সালের ২৫শে জুলাই বিকেলে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেদিন রিকশায় করে যাবার পথে সেই মহিলার অলংকার ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় বাধা পেয়ে তাকে গুলি করে দু’জন লোক । ওই দিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন মিসেস সগিরার স্বামী সালাম চৌধুরী। গণমাধ্যমকে দেয়া পিবিআই এর ভাষ্য অনুযায়ী হত্যার এক বছরের মাথায় ১৯৯০ সালে মিসেস সালাম হত্যা মামলায় মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
তবে মামলাটির বিচার কাজ চলাকালে প্রশ্ন ওঠে: হত্যাকাণ্ডের সময় দু’জন ঘটনাস্থলে থাকলেও আসামি একজন কেন?
সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে মারুফ রেজার নাম আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ১৯৯১ সালে মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন মারুফ রেজা।
তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ ও বিচার কাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।
পরের বছর হাইকোর্ট থেকে বলা হয়, এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচার কাজ স্থগিত থাকবে। তারপর থেমে যায় সব ধরণের তদন্ত কাজ। মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নজরে আনলে রাষ্ট্রপক্ষ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই। তদন্ত তদারকির দায়িত্বে ছিলেন পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোঃ. শাহাদাত হোসেন। পিবিআই এর বক্তব্য, সগিরা মোর্শেদকে হত্যার সময় উপস্থিত রিকশাচালক আবদুস সালামের বক্তব্যের সূত্র ধরে এতো বছর পর মামলার রহস্য উৎঘাটন সম্ভব হয়েছে।

মুজিববর্ষ