আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ নেপালের নতুন ১০০ রুপির নোট প্রকাশ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়। কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড দেখিয়ে নেপাল যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে নয়াদিল্লি–কাঠমান্ডু সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের দাবি “ঐতিহাসিক সত্যবিচ্যুত” এবং এই অঞ্চল ভারতবর্ষেরই অংশ। মন্ত্রণালয়ের মতে, নেপালের পদক্ষেপ আগের সমঝোতা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রতিশ্রুতিকে ব্যাহত করছে। ভারতের প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, সীমান্তবিষয়ক যেকোনো সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত, কিন্তু নেপালের একতরফা সিদ্ধান্ত ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত নতুন নোটে রয়েছে গুরাসের ওয়াটারমার্ক, লুম্বিনির অশোক স্তম্ভ, পেছনে একশৃঙ্গ গণ্ডারের ছবি এবং সাবেক গভর্নর মহাপ্রসাদ অধিকারীর সই। নোটটিতে ইস্যুর সাল হিসেবে ২০২৪ উল্লেখ রয়েছে।
তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ইস্যু নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধীদল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে—সরকার এ বিষয়ে “যথেষ্ট কঠোর ও দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে না।” কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, “এ ধরনের স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আরও শক্তিশালী ও দৃশ্যমান হওয়া উচিত।”
ভারত–নেপাল সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। ২০২০ সালে নেপাল সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করে পার্লামেন্টে অনুমোদন দিলে ভারত তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নোট প্রকাশ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত অঙ্গনে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–চীন উত্তেজনার সময় নেপালের এমন অবস্থান নয়াদিল্লির জন্য কূটনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়েছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
