ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, রোবটিক্স, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তি এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন উবার, ফেসবুক, আলিবাবা বা এয়ারবিএনবি—তাদের নিজস্ব সম্পদ না থাকলেও তারা ইনোভেটিভ ধারণার মাধ্যমে বিশ্ব বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে তিনি “স্মার্ট ইন্টারফেস” হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকেও একইভাবে উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে দক্ষতা ও সৃজনশীলতার দিকে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর মূল কারণ দক্ষতার অভাব। তাই প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কারিকুলাম পুনর্গঠন জরুরি।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন—ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ বৃদ্ধি, ইনোভেশন ফান্ডিং চালু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি এলামনাইদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন। বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইদের সহযোগিতায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ দিয়েও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম।
তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, প্রযুক্তির সঙ্গে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ পায়।
