ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হয়ে উঠছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তখন চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থেকেছে। একই দিনে ১৩৭টি কেন্দ্রের ৬২টিতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। ২০টি কেন্দ্র বন্ধ এবং ৪২টি কেন্দ্র সীমিত সক্ষমতায় চলেছে। এতে সর্বোচ্চ লোডশেডিং দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক আটটি কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। পায়রা ও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি এবং মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। কয়লা সরবরাহের সমস্যায় ৭ আগস্ট থেকে ভারতের আদানি গোষ্ঠীর দেড় হাজার মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির উৎপাদনও কমেছে। দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হলেও সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে তারা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট দিতে পারছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশি ব্যয়ের তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও ২৪টি কেন্দ্রে জ্বালানি তেলের ঘাটতি ছিল। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, বকেয়া পরিশোধসহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বিরোধ মিটলে তেলভিত্তিক উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।
গ্যাসের সংকটও তীব্র। দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বৃহস্পতিবার সরবরাহ ছিল ২৩৫ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনালের একটিতে জুলাইয়ে দুর্ঘটনার পর সরবরাহ ব্যাহত হয়। সেটি সচল হলেও সময়মতো গ্যাসবাহী জাহাজ না আসায় সংকট কাটেনি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা, অযোগ্য জাহাজ ও অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কাঠামোগত সংস্কার, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।
