1. gazia229@gmail.com : admin :
অপশক্তি পিছু ছাড়ছেনা মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর,তারপরও থেমে নেই তিনি - BarishalNews24
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

অপশক্তি পিছু ছাড়ছেনা মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর,তারপরও থেমে নেই তিনি

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
  • ৩৫৪ বার দেখা হয়েছে

আল-আমিন গাজী :: এক সাদিক আবদুল্লাহর পিছনে অপশক্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা। সাদেক হাটানো গল্প যেন নগরীতে ভাত,মাছ। তবুও থেমে নেই সাদিক আবদুল্লাহ। একের পর চমক উপহার দিচ্ছেন নগরবাসীকে। বরিশাল নগরীতে সাজাতে ইতি মধ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। আর সেইসব নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

স্বাধীনতা পূর্ব পরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে শক্ত-পোক্ত অবস্থানে গিয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম বাংলার বাঘখ্যাত শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, অশ্বিনী কুমার দত্ত, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, বিডি হাবিবুল্লাহ, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, রাশেদ খান মেনন, আমির হোসেন আমু, এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, তোফায়েল আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, পঙ্কজ দেবনাথ, বেগম সেলিমা রহমান, নুর-নবী চৌধুরী শাওন, আবদুল্লাহ আল জ্যাকব, বলরাম পোদ্দারসহ আরো অনেকে।

তবে রাজনৈতিক পরিবারের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ইতিপূর্বে কেবলমাত্র শের-ই বাংলা একে ফজলুল হকের ছেলে ফায়জুল হক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে নাসিম বিশ্বাস রাজনীতিতে নাম লেখালেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে তারা আজ কেবলই স্মৃতির পাতায়। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান কৃষককূলের নয়নমনি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ যোগ্য উত্তরসূরী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনকসহ তার পরিবারের উপর নির্মম হামলায় বেঁচে যাওয়া সেই শিশু সাদিকই আজ বরিশালের মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। কিন্তু তাকে পিছনে ফেলতে অপশক্তিরা মাঠে আছে একতাবন্ধ হয়ে।

বরিশালের হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবেই নয়, নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শীতা তাকে আজ এ আসনে উপনীত করেছেন। তিনি আজ তরুনদের অংহকার ও মডেল, যুবরত্ন।

 

সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল বিভিন্ন সময় দুর্নীতি করে এই সেবা প্রতিষ্ঠানটিকে দায়-দেনায় জর্জরিত করে রাখেন। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালীন সময়ে তার মাথায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ছিল। সাবেক মেয়রের সময় নগরীর রাস্তঘাট খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা, বিসিসি শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থেকে শুরু করে জনমনে ছিলো নানা রকম অস্বস্তি।

সূত্রমতে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট আয়তন ৫৮ বর্গ কিলোমিটার। ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। আর এই ৬ লাখ নাগরিকের সেবক হচ্ছেন ৩০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ১০ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও একজন নগর পিতা। এই ৬ লাখ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করার লক্ষে নানা সুবিধা ও অসুবিধার দিকগুলো দেখতে হয় নগরপিতাকে। এক কথায় নগরবাসীর ভাগ্যই থাকে নগরপিতার হাতে।

প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন নগরবাসীর জীবনমান গড়ার লক্ষে নগরীকে সৌন্দর্যমন্ডিত নগরী হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন। তবে ২০১৩ সালে বিসিসি মেয়র নির্বাচনে নতুন মেয়র হিসাবে যোগদান করে আহসান হাবিব কামাল। তিনি নগরপিতার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর কয়েক বছরে অটোরিক্সার লাইন্সেস বানিজ্য থেকে শুরু করে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করতে সাহায্য করতেন তার ছেলে রুপমকে। বিসিসির কর্মচারীদের বেতনসহ প্রায় ৩শ কোটি টাকা দেনা রেখে নিজেকে সাধুপরিচয় দেয়ার জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেন তিনি।

তবে সেই দেনা পরিশোধ করে নগরীকে সাজিয়েছে ঢালাও ভাবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনে নগর উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পাস না হলেও কোন সহযোগীতা ছাড়াই বিসিসির আয় থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। নগর উন্নয়নের রয়েছে যথার্থভূমিকাও।

২০১৮ সালে বিসিসি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রায় ৩শ কোটি টাকা দেনার ভার মাথায় নিয়ে দায়িত্বগ্রহণ করেছিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আওয়ামী পরিবার (মন্ত্রী) আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর সন্তান। ছোট বেলা থেকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তার দাদা আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করা পিতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পথ ধরেই সাধারন মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছিলেন তিনি।


বরিশাল নিউজ24 এর সরেজমিন  অনুসন্ধানে ও বিসিসি সূত্রে উঠে আসে তার কাজ, কোন সহযোগীতা ছাড়াই বিসিসির কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিসিসি মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  হিসাবে দায়িত্ব গ্রহনের পর, নগরবাসীর কথা চিন্তা করে দিন-রাত নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে নগরবাসীর জীবনমান গড়ার লক্ষে জলাবদ্ধতা নিরাসন, নগরীর প্রতিটি সড়ক সংস্কার, ড্রেন পরিস্কার, রাস্তা পরিস্কার, যানবাহন নিয়ন্ত্রন, নগরীর বর্জ্য পরিস্কার, অবৈধ পানির লাইন বিচ্ছিন করা, হোল্ডিং ট্র্যাক্স পরিশোধ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ ঈদ বোনাস পরিশোধ, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পেনশন দেয়া ও অবৈধ কর্মচারী চিহ্নিত করা, নগরীর গুত্বপূর্ন সড়ক গুলোকে দুই লেনে ভাগসহ থ্রি-ডি জেব্রা ক্রসিং দেয়া, শেবাচিম হাসপাতালে রোগিদের গরম থেকে রক্ষা করার জন্য মাথার উপরে ফ্যান দেয়া, সাধারন মানুষদের সাহায্য করা ও তাদের কথা শোনা, ঈদ যাত্রায় সাধারন মানুষদের ভোগান্তি থেকে রক্ষা করার জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস দেয়াসহ নানা পরিকল্পনার কাজ বাস্তবায়ন করে আসছে তিনি।

বিশেষ করে মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া, লকডাউনে গত বছরে গভীর রাতে নগরবাসীর দরজায় বিসিসির পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী দেয়া, করোনা রোগীদের জন্য ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য ফ্রি বাস ,বর্তমানে করোনা ভাইরাস প্রতিরােধে লকডাউনে নগরবাসীর দরজায় গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রতিটি কলোনীতে অসহায় কর্মর্হীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা , দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেয়াসহ নানা কার্যক্রম ইত্যাদি ।

অনুসন্ধানে জানাযায়, এক হাজার ভুয়া কর্মচারীর নামে প্রায় দেড় যুগে শত শত কোটি টাকা লোপাটের মাধ্যমে বিসিসিকে ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিণত করা হয়েছিলো । সেই দেনা দায় মুক্ত করতে দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতির এ বিরাট ফাঁক বন্ধ করে দেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে এ বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে লোপাটের ঘটনা উদঘাটন করেছেন মেয়র নিজেই। তাছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণেও দুর্নীতি, চুরি, ঘুষ, দলীয় তদবির এবং সুপারিশের কারণে ট্যাক্স ফাঁকি, ট্রেড লাইসেন্স এবং হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়েও বিস্তর দুর্নীতি, যানবাহনের জ্বালানি খাতেও হতো সাগর চুরি বিষয়টি ধরা পরে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কাছে। নগরবাসীর ভাগ্য গড়ার নামে সাবেক মেয়ররা নিজেদেরই ভাগ্য তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে থাকতেন। এসব কর্মকান্ডে খোঁজ করে মেয়র সাদিক নিজেই বিভিন্ন খাদে তদারকি করে দেখেন। নগরীতে বিভিন্ন ব্যবসা ট্রেড লাইসেন্স না করেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠান গুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। বরিশাল নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে নগরীর খালগুলো পুনরূদ্ধার করে পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ বরাদ্দ ও এমনকি সরকারী পুকুরগুলোও পুনরূদ্ধারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নগরবাসীর যাতায়া‌তের সু‌বিধার্থে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হ‌য়ে‌ছে। সরকারের জলবায়ু প‌রিবর্তন মোকাবিলা প্রক‌ল্পের অ‌ধী‌নে ১০ কো‌টি টাকা ব্যয়ে ভা‌টিখানা, পলাশপুর, বউ বাজার, এ ক‌রিম আই‌ডিয়াল ক‌লেজ সড়ক,ভাটিখানা,কাউনিয়া, রুপাতলী, ২৬,২৭নং ওয়ার্ডের কাচাঁ সড়ক সংস্কা‌রের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত যা‌তে কাজ সম্পন্ন হয় সেজন্য নি‌র্দেশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। নগরের বাকি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তা গু‌লোও দ্রুত সংস্কা‌র করা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby