1. gazia229@gmail.com : admin :
আপন ভাই-বোনকে যাকাত দেয়া যাবে কি? - BarishalNews24
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

আপন ভাই-বোনকে যাকাত দেয়া যাবে কি?

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

মাওলানা ইলিয়াস উদ্দিন:
যাকাত (زكاة) এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ‎‎‘পরিশুদ্ধকরণ, পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া ইত্যাদি’। যেমন কোরআনে বর্ণিত রয়েছে: (والزكاة بمعنى: المدح، قال الله تعالى: فلا تزكوا أنفسكم) যাকাত এর পারিভাষিক অর্থ- নিজ অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ও ফরজ কৃত অংশ দেয়া গরীবদের দেয়া।

আপনার ভাই বোন যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তাহলে তাদের যাকাতের সম্পদ / টাকা দেয়া জায়েজ আছে। এক্ষেত্রে তাদেরকে দেয়াটাই উত্তম ৷ কারণ, তাদেরকে দিলে দু‘টি উপকারিতা।

১৷ আত্মীয়তার হক আদায় করা হলো।

২৷ অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিকে যাকাত দেয়া হলো।
তবে যদি যাকাত দাতা ওই ভাই বোনের বা যাকাত দাতা বোন ভাইয়ের ভরণ পোষণ বহন করে, তাহলে উক্ত ভাইয়ের বা বোনের লালন পালন বাবদ যাকাতের টাকা প্রদান করা জায়েজ হবে না। দিলে যাকাত আদায় হবে না।

হ্যাঁ তবে যদি লালন পালনের খরচ বাদে অতিরিক্ত হিসেবে যাকাতের টাকা ভাইকে মালিক বানিয়ে প্রদান করে, তাহলে লালন পালনে থাকা অবস্থায়ও আপন ভাই বোনকে যাকাত দেয়া জায়েজ হবে। যাকাত ও আদায় হয়ে যাবে।

হযরত সালমান বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল আলাইহিস সালাম বলেছেন,

الصدقة على المسكين صدقة، وإنها على ذى الرحم اثنتان، إنها صدقة وصلة

অর্থাৎ ‘মিসকিনকে যাকাত দেয়া সদকা। আর আত্মীয়কে দেয়া সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়’।[মুসনাদে আহমাদ ১৫৭৯৪]

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, لا بأس أن تجعل زكاتك فى ذوى قرابتك ما لم يكونوا فى عيالك

অর্থাৎ তোমার যাকাত নিকট আত্মীয়দের দিতে কোনো সমস্যা নেই যদি তারা তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত না হয়। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, ৬/ ৫৪৩]

শাইখ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, لا حرج في دفع الرجل أو المرأة زكاتهما للأخ الفقير والأخت الفقيرة والعم الفقير والعمة الفقيرة وسائر الأقارب الفقراء؛ لعموم الأدلة بل الزكاة فيهم صدقة وصلة؛ لقول النبي ﷺ: الصدقة في المسكين صدقة وفي ذي الرحم صدقة وصلة

অর্থাৎ পুরুষ মহিলার যাকাত তাদের গরীব অসহায় ভাই বোন, চাচা ফুফু ও অন্যান্য দরিদ্র আত্মীয়দের দিতে কোনো সমস্যা নেই ৷ আর আত্মীয়কে দেওয়া সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায় করা হয় ৷ নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন, “মিসকিনকে যাকাত দেওয়া সদকা। আর আত্মীয়কে দেওয়া সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়। [মুসনাদে আহমদ ১৫৭৯৪]

বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতারে’ এসেছে, ولو دفع زكاته إلى من نفقته واجبة عليه من الأقارب جاز، إذا لم يحسبها من النفقة

অর্থাৎ যদি কেউ তার যাকাত ( সম্পদ, টাকা পয়সা) এমন নিকটবর্তী কোনো আত্মীয়কে দেয় যার ভরণ পোষণ তার ওপর আবশ্যক ৷ তাহলে যাকাত আদায় হবে ৷ যদি প্রদত্ত টাকা পয়সা ভরণ পোষণ বাবদ হিসাব না করে ৷ [রদ্দুল মুহতার, ২/ ৩৪৬]

ফতোয়ায় হিনদিয়ায় এসেছে, والأفضل فى الزكاة والفطر والنذور الصرف أولا إلى الإخوة والأخوات، ثم إلى أولادهم، ثم إلى الأعمام والعمات، ثم إلى أولادهم، ثم إلى الأخوال والخلات، ثم إلى أولادهم

অর্থাৎ যাকাত ফিতরা মান্নত দেয়ার ক্ষেত্রে উত্তম হলো নিজের ভাই বোনকে দেয়া ৷ অতঃপর তাদের সন্তানদেরকে দেয়া ৷ অতঃপর চাচা ফুফুদেরকে দেয়া ৷ তারপর তার সন্তানদেরকে ৷ অতঃপর মামা মামি ও তাদের সন্তানদের দেয়া উত্তম। [ফতোয়ায় হিনদিয়া, ১/১৯০]

সুতরাং আপন ভাই-বোনকে যাকাত দেয়া যাবে যদি তিনি জাকাতের উপযুক্ত হন, জাকাতের যে খাত রয়েছে ফকির-মিসকিনের পর্যায়ে তিনি পড়েন। তাহলে তাকে জাকাত দেয়া যাবে। কিন্তু অবশ্যই তাকে বলে নিতে হবে যে জাকাতের টাকা থেকে তাকে জাকাত দেয়া হলো। যাতে করে স্পষ্ট হয় যে তিনি আসলে জাকাত থেকে এই টাকা নেবেন কি না। হতে পারে তিনি জাকাত নাও নিতে পারেন। সুতরাং এ বিষয়টি স্পষ্ট করাই উত্তম। আর জাকাত নিতে কোনোই বাধা নেই। নিজের ভাই যদি ফকির হন বা মিসকিন হন তাহলে অন্য ফকিরকে দেয়ার চেয়ে নিজের ভাইকে দেয়াই বেশি উত্তম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby