1. gazia229@gmail.com : admin :
ইউএনওর বাসভবনে হামলা:মামলা থেকে মেয়রসহ ২৮ আসামির অব্যাহতি চেয়েছে পুলিশ - BarishalNews24
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

ইউএনওর বাসভবনে হামলা:মামলা থেকে মেয়রসহ ২৮ আসামির অব্যাহতি চেয়েছে পুলিশ

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: সোমবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১১৫ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক::
ব্যানার-পোস্টার অপসারণ নিয়ে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর বাসভবনে হামলাকাণ্ডে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ইউএনও’র দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। দুই পাতার ওই প্রতিবেদনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ ২৮ অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। তবে দাখিল করা প্রতিবেদন এখনো গ্রহণ করেননি আদালত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার ধার্য্য তারিখ থাকায় সেদিন আদালত শুনানি শেষে প্রতিবেদন গ্রহণ করা বা না করার ওপর আদেশ দেবেন।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আসামিদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে গত ৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। যথেষ্ট সাক্ষী না থাকায় মামলাটির ওই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ না করলে পুনরায় তদন্ত হবে।

তিনি আরও জানান, কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) আনোয়ার হোসেনের ওপর মামলার তদন্তের ভার ছিল। তার বদলি হয়ে গেলে ১৯ নভেম্বর থেকে তিনি তদন্ত শুরু করেন। দায়িত্ব গ্রহণের ১৭ দিনের মধ্যেই তিনি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

প্রসঙ্গত, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের পক্ষের লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের বাসভবনে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের রুখতে গিয়ে ইউএনওর নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্যদের রাবার বুলেট ছুড়তে হয়। পরে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশের সাথে জেলা-মহানগর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীদের কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছিলেন- কোতয়ালি মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম পিপিএম, ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ফারুক হোসেন ও নাসির উদ্দিনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের অর্ধশত নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় পরেরদিন ১৯ আগস্ট কোতয়ালী মডেল থানায় উপ-পরিদর্শক শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে একটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বাদী আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলাতে বরিশাল সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৬০২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই দুই মামলায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইয়েদ আহমেদ মান্না এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিন দফায় আদালত থেকে তারা জামিন পান।

অপরদিকে, বিসিসি মেয়রসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা ওই দুই মামলার পাল্টা হিসেবে ২০২১ সালের ২২ আগস্ট সদর উপজেলার তৎকালীন ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান, কোতয়ালী মডেল থানার তৎকালীন ওসি মো. নুরুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক শাহজালাল মল্লিক, ইউএনও’র বাসার ৫ আনসার সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী মামলা করেছিলেন উপজেলা পরিষদের গুলিবিদ্ধ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন।

একই দিন একই আদালতে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার বাদী হয়ে সদর উপজেলার তৎকালীন ইউএনও ও তার বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বরত ৫ আনসার সদস্যের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালত ওই মামলা দুইটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পিবিআই এখন পর্যন্ত আদালতে প্রতিবেদন দেয়নি বলে জানিয়েছেন একটি মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম খোকন।

দেশব্যাপী আলোচিত বরিশালের ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও পাল্টা দুটি মামলা হলে টনক নড়ে সরকারের উচ্চ মহলের। যার প্রেক্ষিতে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে ওই বছরের ২২ আগস্ট গভীর রাতে বিভাগীয় কমিশনারের বাসায় সিটি মেয়রসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমঝোতা বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে ওই রাতেই মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছিলেন, পরবর্তী একমাসের মধ্যে তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ ও ইউএনও’র মামলা দুটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আওয়ামী লীগ নেতারাও প্রশাসনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পুলিশ-ইউএনও’র মামলা নিষ্পত্তি হলে সিটি কর্পোরেশন ও প্যানেল মেয়রের মামলাও প্রত্যাহার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Bengali Bengali English English