1. gazia229@gmail.com : admin :
উদ্বোধনের অপেক্ষায় লেবুখালী সেতু: ২ ঘণ্টায় বরিশাল টু কুয়াকাটা ভ্রমণ - BarishalNews24
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

উদ্বোধনের অপেক্ষায় লেবুখালী সেতু: ২ ঘণ্টায় বরিশাল টু কুয়াকাটা ভ্রমণ

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৬০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক::  অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু) খুলে দেওয়া হচ্ছে আগামী (অক্টোবর) মাসে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে এই সেতু। তবে একটি নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতোটা দুর্বল হতে পারে, এ প্রকল্পটি সেই উদাহরণও তৈরি করতে যাচ্ছে। পায়রা নদীর ওপর ১ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু চালু হয়ে গেলে মানুষ বরিশাল শহর থেকে এক ঘন্টার মধ্যে পটুয়াখালী জেলা সদর এবং নির্মাণাধীন পায়রাসমুদ্র বন্দরে যেতে পারবে। মাত্র দুই ঘন্টায় জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়ও যেতে পারবে মানুষ।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১ হাজার ৪৪৭ দশমিক ২৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মূল ব্যয়ের চেয়ে সাড়ে ৩ গুণ বেশি। এ ছাড়া প্রকল্পটি শেষ করতে নির্ধারিত সময়সীমার চেয়ে ৫ বছর বেশি সময় লেগেছে।

প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতার ফলে সেতুর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, দীর্ঘ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক কোভিড -১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট সমস্যার কারণে সেতুটির জন্য হাজার হাজার মানুষকে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আগামী মাসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটবে। যদিও এখনো উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি।
গত বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘লেবুখালী এলাকার পায়রা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য আরেকটি পদ্মা সেতুর মতো হবে। আগামী মাসে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) বরিশাল অঞ্চলের অধীনে ৩ জেলায় ১১টি সেতু ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। পায়রা সেতুর বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষও সওজ। চীনা প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন সেতুটি নির্মাণ করছে।
বরিশাল শহর থেকে পটুয়াখালী সদরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, পায়রা বন্দরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার এবং কুয়াকাটার দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার।

সরকার গত কয়েক বছরে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করেছে। কিন্তু, মানুষকে ফেরি দিয়ে পায়রা নদী পার হতে হয়। এতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লেগে যায়।

দীর্ঘ বিলম্বিত প্রকল্প >> সরকার ২০১২ সালের মে মাসে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে সেতু নির্মাণের প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। বিদেশি অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৪১৩ দশমিক ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পটি যৌথভাবে সরকার, কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু গত সাড়ে ৯ বছরে এ প্রকল্পের ব্যয় ৩ বার সংশোধন করা হয়, সময়সীমা দুবার পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং ৬ বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

প্রকল্পের ব্যয় এখন বেড়ে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আনুমানিক মূল ব্যয়ের সাড়ে ৩ গুণেরও বেশি। দুই বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডসহ সংশোধিত মেয়াদ এখন ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। দুই বছর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড মানে হচ্ছে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার দুই বছরের মধ্যে যদি নির্মাণে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়, ঠিকাদাররা নিজ খরচে সেটি ঠিক করবেন।

প্রকল্পের ভৌত কাজ শেষ হওয়ার পর দুই বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটির মেয়াদ শুরু হবে।তাই আনুষ্ঠানিক সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আরো সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় (৯৮ শতাংশ) সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেতুটি উদ্বোধনের আগে তিনি অ্যাপ্রোচ সড়ক (বর্তমানে ৯৫ শতাংশ) নির্মাণ সম্পন্ন করবেন বলে আশা করছেন।

প্রকল্পের সপ্তম পিডি হালিম সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত নদী শাসনের ৮৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হতে আরও দুই মাস সময় লাগবে। তবে, এতে সেতুটি সময়মতো খোলার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি আরও বলেন, চুক্তির মূল্য থেকে ৫২ কোটি টাকা বেঁচে যাবে বলে আশা করছেন তারা।

২০২০ সালের জুনে ‘ইন-ডেপথ মনিটরিং রিপোর্ট’ এ ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ডিভিশন (আইএমইডি) সময়মতো জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থতা এবং ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শদাতা পরিবর্তনকে প্রকল্পের কিছু ত্রুটিপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিলম্বের কারণ >> ২০১২ সালের মে মাসে প্রকল্পটির অনুমোদন করা হলেও, সেতুর ভৌত কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। অর্থাৎ, প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মাস আগে।

প্রকল্পটি সম্পর্কে অবগত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের এক প্রকৌশলী জানান, অনুমোদনের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হলেও, এটি ভালোভাবে করা হয়নি। তিনি বলেন, যখন পরামর্শদাতারা বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করেন, তখন তাদেরকে প্রাথমিক নকশাটিতে অনেক পরিবর্তনে আনতে হয়। বিস্তারিত নকশা হওয়ার পর পরামর্শদাতারা টেন্ডারের নথি প্রস্তুত করেন। কর্তৃপক্ষকে দরপত্র প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে দাতা সংস্থার সম্মতি নিতে হয়েছে। ফলে নির্মাণ কাজ শুরু হতে আরও দেরি হয়ে যায়।

সওজের প্রকৌশলী আরও জানান, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণ নিয়েও জটিলতার মুখোমুখি হয়। কেবল গত বছর তারা পুরো জমি অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয় বলে জানান তিনি।

পিডি আব্দুল হালিম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প ব্যয় একটি ধারণাগত নকশার ভিত্তিতে অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু , পরে বিস্তারিত নকশা অনুসারে প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় চূড়ান্ত করা হয়। ‘ফলে বিস্তারিত নকশার পরে ব্যয় বেড়েছে’, তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া, যখন তাদেরকে পাইলসের নকশা পরিবর্তন এবং ১৩০ মিটার লম্বা পাইলস খাড়া করতে হয়, তখনও ব্যয় বেড়ে যায়।

পাশাপাশি, কোভিড-১৯ মহামারি কাজের অগ্রগতিকে ধীর করে দেয়। কারণ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি চীনের এবং অনেক উপকরণ চীন থেকেই সংগ্রহ করা হয়। এটি মেয়াদ বাড়ার একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24