1. gazia229@gmail.com : admin :
চতুর্মুখী চাপে দিশেহারা বরিশালবাসী! - BarishalNews24
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

চতুর্মুখী চাপে দিশেহারা বরিশালবাসী!

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৯ বার দেখা হয়েছে

“করোনা, ডায়েরিয়া, লকডাউন,
লাগামহীন নিত্যপন্যের বাজার”

জুবায়ের ইসলামঃ চতুর্মুখী চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বরিশালে বসবাস করা সাধারণ মানুষ। করোনা, লকডাউন, ডায়েরিয়া, নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতিসহ সবকিছু মিলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন । দেশে চলছে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। করোনা প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ । জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশ লকডাউন করেছে সরকার।

করোনার মধ্যেই বরিশালে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ডায়েরিয়ার প্রকোপ। গত কয়েক দিনে বরিশাল জেলায় শতশত মানুষ ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

হঠাৎ করে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে চিকিৎসা সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। বরিশাল জেলায় সবচেয়ে বেশি ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়েরিয়া রোগীর উপচে পড়াভীড় দেখা দিয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর হাসপাতালে আসন সংখ্যা সীমিত থাকার ফলে খোলা মাঠে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগীদের। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশ লকডাউন ঘোষণা করার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। একদিকে করোনার প্রকোপ ও লকডাউনে কর্মহীন মানুষ অন্যদিকে ডায়েরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি ।

সবকিছু পিছনে ফেলে বরিশালে লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার। লকডাউনের কারণে গত ৪ দিন যাবত খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে ঘরে রয়েছে, অন্যদিকে চড়াও দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপন্য। অতিরিক্ত দামে জনসাধারণকে ক্রয় করতে হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র।

গত ১ সপ্তাহ আগেও যে সবজি বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। আসন্ন রমজান মাস ও লকডাউনকে পুঁজি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

বরিশালে সকল পণ্যই যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।কয়েক দিন আগেও যেই লেবু বিক্রি হয়েছে ১০-১৫ টাকা হালী সেই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা হালী।

তাছাড়া সকল প্রকার সবজি বিক্রি হচ্ছে পূর্বের চেয়ে ২০-৩০ টাকা বেশি দামে। এছাড়াও মাছ মাংসের দামও বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫০–১০০টাকা। লেয়ার ২৮০টাকা, গরুর মাংস ৬০০টাকা ও খাসি ৯০০টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে।

দেশ লকডাউনের কারণে কর্মহীন সাধারণ মানুষ অন্যদিকে ডায়েরিয়ার প্রকোপ ও নিত্যপন্যের বাজার ঊর্ধ্বমূখী । সবকিছু মিলে চতুর্মুখী যন্ত্রণায় দিশেহারা বরিশালের সাধারণ মানুষ।

বরিশালে হঠাৎ ডায়েরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয় সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন,,,যদি কোন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে তার ডায়েরিয়া হতে পারে। কারণ করোনার যতগুলো লক্ষণ রয়েছে ডায়েরিয়া তার মধ্যে অন্যতম। তবে ডায়েরিয়া প্রতিরোধে আমরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়াও পেয়েছি, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও খাবার স্যালাইন সরবরাহ করেছে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের জনবল ও ডায়েরিয়া প্রতিরোধ সামগ্রী সংকটের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আশা করি অতিদ্রুত সমাধান করা হবে।

তিনি আরও বলেন,,, শুধু করোনার কারণেই ডায়েরিয়া হবে বিষয়টি এমন নয়, বিভিন্ন কারণে ডায়েরিয়া হতে পারে। অতিরিক্ত গরমে বাঁশি পঁচা খাবার খেলে, টিউবওয়েলের পানি পান না করলে, পুকুর অথবা নদীর পানি ফুটিয়ে পান না করাসহ খাবার ঢেকে না রাখলেও ডায়েরিয়া হতে পারে। কারণ খাবার ঢেকে রাখলে মশা মাছি পড়ে জীবাণুর জন্ম হতে পারে না । এছাড়াও পায়খানা করে হাত সাবান দিয়ে পরিস্কার না করলেও ডায়েরিয়া হতে পারে। বরিশালবাসীর উদ্দেশ্যে সিভিল সার্জন বলেন,,,প্রিয় বরিশালবাসী মহামারী করোনা ভাইরাস ও ডায়েরিয়া প্রতিরোধে সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, নিজে নিরাপদ থাকুন দেশকে নিরাপদ রাখুন।

বর্তমান সমস্যা নিয়ে বরিশাল নগরীর স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,,, করোনা ভাইরাস ও ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেটা দেখা যায় না তাই হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু নিত্য পণ্যের দাম যে দিন দিন বেড়েই চলেছে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে সেটা তো দেখা যায়। আর তাছাড়া রমজান মাস এলেই হু হু করে পণ্যের দাম বেড়ে যায় কেন। দেশের প্রতিটি জেলার ন্যায় বরিশালেও লকডাউনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছে। ঠিক এই মূহুর্তে নিত্যপণ্যের দাম যদি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকে তাহলে খেটে খাওয়া মানুষকে না খেয়ে মরতে হবে। তাই যথাযথ ভাবে বাজার মনিটরিং করে জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয় সুশীল সমাজ বলেছেন,,,করোনা ও ডায়েরিয়া মোকাবিলার পাশাপাশি লকডাউনকালীন সময় কর্মহীন মানুষকে সুলভ মল্যে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজার কঠোর মনিটরিং করে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। লকডাউনের সুযোগ নিয়ে কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। করোনা ভাইরাস, ডায়রিয়াসহ নিত্য পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এটাই প্রত্যাশা বরিশালবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby