1. gazia229@gmail.com : admin :
টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা দুর্নীতি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিন - BarishalNews24
মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা দুর্নীতি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিন

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১
  • ১৭৪ বার দেখা হয়েছে

সম্পাদকীয় : ঢাকার চার নদীতীরে পিলার ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ২৮৭ কোটি টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীতীরে পিলার স্থাপন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ১৪টি লটে ২৮৭ কোটি টাকার টেন্ডার যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বাইরে কেউ না পায়, সেজন্য অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা।

এসব কর্মকর্তা কর্তৃক নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। জানা গেছে, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া নিশ্চিত করতে প্রাক্কলিত সর্বশেষ গোপন দরটিও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

এর প্রমাণ পাওয়া যায়, ওই দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পয়সা পর্যন্ত মিলিয়ে টেন্ডার জমা প্রদানে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিআইডব্লিউটিএ’তে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে, তার মধ্যে এ টেন্ডারটি অন্যতম। এছাড়া এ টেন্ডারের ক্ষেত্রে লঙ্ঘন করা হচ্ছে ক্রয় সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা। এতে কতিপয় ব্যক্তি লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ঠিকাদাররা। এ অবস্থায় কাজের গুণগত মান কতটা রক্ষা পাবে, সেটাই প্রশ্ন।

জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ’র শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার পছন্দের ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি হচ্ছে না। অথচ এক ঠিকাদার জানিয়েছেন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতার নামে দেওয়া কাজে দরপত্রে অংশ নিয়েছেন।

ওই নেতাকে বিআইডব্লিউটিএ থেকেই ওই লটের গোপন প্রাক্কলিত দর দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, প্রাক্কলিত গোপন দর না পেলে টাকা ও পয়সা মিলিয়ে এমন নিখুঁত দরপত্র জমা প্রদান সম্ভব হয় কী করে? উল্লিখিত প্রকল্পে দুর্নীতি রোধে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

সরকারি কেনাকাটা ও টেন্ডার থেকে শুরু করে যে কোনো প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু হয়েছে। এরপরও নানা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার খবর পাওয়া যায়। কাজেই শুধু পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করলেই চলবে না, আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন ঘটানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্নীতি ও নৈরাজ্য থেকে দূরে থাকার মানসিকতা যদি নাগরিকদের মধ্যে তৈরি করা না যায়, তাহলে কোনো পদ্ধতিই ফলদায়ক হবে না। এজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি বাড়ানো হলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Bengali Bengali English English