1. gazia229@gmail.com : admin :
দেশ জুড়ে পুলপার্টির নামে অবাধ মেলামেশা, পাচার সিন্ডিকেটের ফাঁদে তরুণীরা - BarishalNews24
রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

দেশ জুড়ে পুলপার্টির নামে অবাধ মেলামেশা, পাচার সিন্ডিকেটের ফাঁদে তরুণীরা

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
  • ৮৭ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক::
টিকটক বা লাইকির মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানোর ভয়াবহতা উঠে আসে হৃদয় বাবুর হাত ধরে। এরপরেই নড়েচড়ে বসছে পুলিশ।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার আশপাশের রিসোর্টগুলোতে ডিজে কিংবা পুল পার্টির নামে চলে উর্তি বয়সী নারী তরুণ তরুণীদের অবাধ মেলামেশা। উচ্চ শব্দের ডিসকো বক্সের তালে সুইমিংপুলে চলে উদ্দাম নাচানাচি। এদের বেশির ভাগই পূর্ব পরিচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পুল পার্টির টিকিট বিক্রি হয়। উর্তি বয়সের তরুণদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহার করা হয় তরুণীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘আমার পেজ থেকে পুল পার্টির কার্ড সেল হবে। সিঙ্গেল যদি যান তাহলে প্রাইজ পরবে ১০০০ টাকা জন প্রতি। আর যদি আপনারা কপেল যেতে চান তাহলে এখানে প্রাইজ পরবে ১৬০০ টাকা।’

এভাবে উচ্ছলতার নামে চলছে উশৃঙ্খল আনন্দের নামে আড়ালে চলে নগ্নতা। টাকার অঙ্কের সাথে থাকে আয়োজনের ভিন্নতা। চাহিদা মতো রুম সরবরাহসহ সবধরণের ভোগ বিলাসিতা থাকে এসব পুল পার্টিতে। সুইমিংপুুলে উন্মুক্ত নাচানাচির মাঝেই নারী সান্নিধ্যের মাঝেই আসে উর্তি তরুণরা। কেউ পুল থেকে চলে যান একান্ত সময় কাটাতে। এছাড়াও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বখাটেরা।

সম্প্রতি আলোচনায় আসা টিকটক হৃদয় এভাবেই পা বাঁড়ান অপরাধ জগতে। পুল পার্টির আড়ালে নারী পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতাই পরিণত হন। গাজীপুরের নির্জন আফরিন রিসোর্টে নিয়মিতই চলতো হৃদয় বাবুর পুল পার্টি। পরিচয় বন্ধুত্বের পর উচ্চবিলাসী তরুণীদের পাচার করে দিত হৃদয়।

পালিয়ে আসা এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন তার অভিজ্ঞতা। ‘পুল পার্টিতে অনেক কিছুই হয়। মদ, গাঁজা দেওয়া হয় ননস্টোপ। টিকিট কিনে যেতে হয় এসব পার্টিতে’

ওই ভুক্তভোগী বলেন, ‘প্রথমে বলা হয়, বানানো হবে টিকটক সুপারস্টার। এরপর লোভ দেখানো হয় ভালো চাকরির। এভাবেই পাচার সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে যায় অল্প বয়সে বখাটে বনে যাওয়া কিশোরীরা’।

এদিকে নারী পাচারকারীর চক্রের হোতা হৃদয় ও তার কয়েক সহযোগী গ্রেপ্তারের পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলপার্টির আয়োজকদের পাশাপাশি টিকটক ও লাইকির নামে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করা ৫ শতাধিক বখাটের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৩-৪ যুবক ও একটি মেয়ে মিলে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করছে। এই ভিডিও সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে রিফাজুল ইসলাম হৃদয় নামের এক নির্যাতনকারীকে শনাক্ত করে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।

টিকটক হৃদয় বাবু নামে পরিচিত বাংলাদেশি ওই যুবক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যের কিছু অপরাধীর সঙ্গে মিলে মানব পাচারের আন্তর্জাতিক চক্র গড়ে তুলেছেন। এই চক্রটির নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইসহ কয়েকটি দেশে বিস্তৃত।

এদিকে ভারতে গণধর্ষণের শিকার বাংলাদেশি তরুণীর দেশে ফিরে এসে মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন। তিনি ভয়ঙ্কর সব তথ্যও দিয়েছেন পাচারকারী ও নিপীড়কদের সম্পর্কে। ধর্ষণের শিকার তরুণী জানান, টিকটকের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার নারী পাচারের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার মগবাজারের ‘টিকটক’ হৃদয় বাবু এই চক্রের সমন্বয়ক। এরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

টিকটক-লাইকিসহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অপরাধীদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, টিকটকসহ বিতর্কিত অ্যাপসগুলো নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে।

র‌্যাব ডিজি বলেন, ৮২ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকে। বিভিন্ন অপরাধের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও অনেকাংশে দায়ী। প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করতে হবে। যে কোনো ধরনের অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধ করে এখন আর কেউ পার পাচ্ছে না। এরপরও কেউ অপরাধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby