1. gazia229@gmail.com : admin :
পটুয়াখালীতে অজ্ঞান পার্টির উৎপাত, হাসপাতালে ৭ - BarishalNews24
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীতে অজ্ঞান পার্টির উৎপাত, হাসপাতালে ৭

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০২২
  • ১০৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::: অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পটুয়াখালীর গ্রামাঞ্চলের মানুষ। খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে কিংবা জানালা দিয়ে স্প্রে ছিটিয়ে অজ্ঞান করে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুটে নিচ্ছে সংঙ্ঘবদ্ধ দল।

সর্বশেষ বুধবার (১ জুন) রাতে পটুযাখালী সদর উপজেলার মৌকরন গ্রামে দুই পরিবারের ৫ জন জ্ঞান হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া তিনদিন আগে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পার্শ্ববর্তী লাউকাঠী ইউনিয়নের এক দম্পতি একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে পটুয়াখালী মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন ।

ভুক্তভোগীরা জানান, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তারা সব হারিয়েছেন এমনকি কেউ কেউ মারধরের শিকারও হয়েছেন।

মৌকরনের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজী দিলীপ জানান, পৃথক ঘরে তার মা শেফালী বেগম (৬০) ও অপর ঘরে বাদল কাজী (৪৫) স্বপরিবারে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল বেলা গিয়ে দেখতে পান মা শেফালী বেগম, ভাই বাদল কাজী ও ভাতিজা কাজী জয় (১৭) অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। অজ্ঞান পর্টির সদস্যরা ঘর থেকে নগদ টাকা স্বর্ণালংকারসহ ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই রাতে পাশের সিকদার বাড়িতে একই ধরনের অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এক বৃদ্ধ দম্পতি। ৮৫ বছরের মোসলেম সিকদার ও তার স্ত্রী রাহিমা বেগম (৭৫) কে আজ সকালে অজ্ঞান অবস্থায় তাদের ঘর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের ঘর থেকে খোয়া গেছে দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল। রাতের বেলা তাদেরও খাবারের সাথে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে এ কান্ড ঘটনানো হয় বলে জানান তাদের সন্তান।

এর আগে গত রোববার ভোর রাতে পার্শ্ববর্তী এলাকা লাউকাঠী ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামে শহিদ সিকদারের ঘরেও এ ধরনের কাণ্ড ঘটায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর পর দুর্বৃত্তরা দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তার স্ত্রী খাদিজা বেগমকে মারধর করে। তারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ সহযোগী অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, এধরনের রোগী রোজার ঈদ থেকেই হাসপাতালে আসতে শুরু করেছে। ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খাবারের সাথে মিশিয়ে এদের অজ্ঞান করা হচ্ছে। আগামী ঈদকে সামনে রেখে এ ধরনের রোগী আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের গোচরে রয়েছে। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান ও বিট অফিসার এ.আই. সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছেন। এই চক্রকে ধরার জন্য তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে জনসাধারণকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Bengali Bengali English English