1. gazia229@gmail.com : admin :
পটুয়াখালীতে হাসপাতালে ডাক্তারদের টেষ্ট বাণিজ্য,যত টেস্ট তত কমিশন! - BarishalNews24
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

পটুয়াখালীতে হাসপাতালে ডাক্তারদের টেষ্ট বাণিজ্য,যত টেস্ট তত কমিশন!

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ১১১ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালীর (কলাপাড়া) প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নামে-বেনামে অননুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে। চিকিৎসকরা যত বেশি টেস্ট লিখে দেন তাদের কমিশনও তত বাড়ে। কমিশন লোভে অপারেশন থিয়েটারও বন্ধ রয়েছে। কলাপাড়া হাসপাতালে দামি আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সেগুলো অকেজো করে ফেলে রাখা হয়।

কমিশন সুবিধার লোভে কতিপয় ডাক্তার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারনির্ভর চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। চড়া মূল্যের প্রয়োজনীয়- অপ্রয়োজনীয় অসংখ্য পরীক্ষার চাপে গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা মধ্যবিত্ত, দরিদ্র এবং অতি দরিদ্র শ্রেনীর মানুষগুলো হচ্ছেন সর্বস্বান্ত। টেস্টের নামে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ আদায় এখন চিকিৎসা ক্ষেত্রের প্রধান বাণিজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলাপাড়া হাসপাতালের কতিপয় ডাক্তারদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরদারি দাবি করেছেন সচেতন মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কতিপয় ডাক্তারের চেম্বার থেকে রোগী বের হয় ডাক্তারের নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড নিয়ে।

কলাপাড়া হাসপাতালে রোগী আসলেই ডাক্তাররা রোগীদের পাঠিয়ে দেন হাসপাতালের আশপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। কোনো কোনো ডাক্তারের আবার এসব ডয়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকানা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

কথা হয় চাকামইয়া ইউনিয়ন থেকে সেবা নিতে আসা ফিরোজা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, ১২ বছরের ছেলে মাদ্রাসায় পড়া হঠাৎ জ্বর তাই নিয়ে হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখাতে, ৫ টাকার টিকিট দিয়ে ডাক্তার স্যারের রুমে গেছি, তিনি এ কার্ড হাতে দিয়ে বলেছে ওই ল্যাব থেকে পরীক্ষা করে আসুন।সেখানে গিয়ে দেখি পরীক্ষা করতে ১৭০০ টাকা লাগবে। আমি বাড়ি থেকে ২৫০ টাকা আনেছি। চিকিৎসা করা আর হলো না।
কুয়াকাটা থেকে আসা আবুল হোসেন তিনি বলেন, আমার ১২ বছরের মেয়ের পেটে ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার ম্যাডাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠিয়েছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সময় লেগেছে ১.৩০মিনিট বেজে গেছে, এসে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই , খোঁজ নিয়ে জাতে পারি তিনি বিকাল ৪ টায় তার নির্দিষ্ট ল্যাবে আসবে। তার জন্য ৪০০ টাকা ভিজিট দিতে হবে। কি আর করা মেয়ে নিয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

হনুফা বেগম স্বামীকে নিয়ে এসেছে চিকিৎসা করাতে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ টাকার টিকিট দিয়ে ডাক্তারের কক্ষে গেলে তার নির্দিষ্ট ল্যাবে পাঠিয়ে দেয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষে ডাক্তার রুমে আসলে পরীক্ষা ধরা পড়েনি বলে ওষুধ লিখে দেয়। তার জন্য ভিজিটি দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। সরকারি হাসপাতালে ভিজিট লাগে না এমন প্রশ্নে হনুফা বেগম বলেন, বাবা টাকা ছাড়া কোন চিকিৎসা হয়। যতবার এসেছি ততবার’ই ভিজিটি লেগেছে।

কলাপাড়া সচেতন মহল এ ব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অতি শিগগিরই কলাপাড়া হাসপাতালে দালালমুক্ত, হাসপাতালে রোগী আসলে বাইরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া বন্ধ এবং রোগীদের প্রতি যত্ন সহকারি সিভিল সার্জন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে করে অনেক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে কলাপাড়া উপজেলা সহ পটুয়াখালী জেলায় সেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে থাকছে না, কোন সরকারি নার্স এবং অধিকাংশ সময় থাকছেনা এমবিবিএস ডাক্তার। তারা বিভিন্ন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অনৈতিক কাজ।

দেখা গেছে যে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষা করার বিভিন্ন মেশিনপত্র ভালো না থাকায় সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানি শিকার হচ্ছে।তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।তাই অতি শীঘ্রই যেসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর পূর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby