1. gazia229@gmail.com : admin :
বরগুনায় জেগে ওঠা চরে সম্ভাবনার হাতছানি - BarishalNews24
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

বরগুনায় জেগে ওঠা চরে সম্ভাবনার হাতছানি

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: উপকূলীয় জেলা বরগুনার বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামের বিষখালী নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি চর। ‘ঝোপখালীর চর’ নামে এটি স্থানীয়দের মাঝে পরিচিত। ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণু জীবনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার জীববৈচিত্র্য। এখানে রয়েছে নতুন নতুন পাখির অভয়ারাণ্য। চরের ভেতরে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে ছোট ছোট ৫-৭টি নালা। মৎস্য প্রজাতি ধ্বংসের মাঝেও এসব নালায় রয়েছে সুস্বাদু প্রজাতির মাছ। নদীর মাঝে জেগে ওঠায় জোয়ারের সময় চরটি পানিতে প্রায় পরিপূর্ণ থাকে। নৌকায় করে উপভোগ করা যায় এখানকার পাখির কলতাণ ও চরের সবুজের সমারোহ।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিন দিন বিলীন হযে যাচ্ছে দক্ষিণের জনপদ। এমনই সময়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জনমনে সীমাহীন আশা জাগিয়েছে নতুন নতুন জেগে ওঠা এসব চর। উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি ভালো পরিবেশের মধ্যে এটি একটি। বিষখালী নদীর বুক চিরে আগামী দশকে এখানে আরো ভূমি জেগে ওঠার আশা করছে স্থানীয় অধিবাসীরা। নদীর অব্যাহত ভাঙনে এখানকার ব্যাপক পরিমাণ ভূমি যেভাবে বিলীন হচ্ছে- তেমনিভাবে চারপাশে যেভাবে চর জেগে উঠছে। যা নতুন ভূখণ্ডের হাতছানি।

স্থানীয়রা জানায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ঋতু ও নদী বৈচিত্র্যর দক্ষিণের এ চরে সত্যিকারেই প্রকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যায়। যারা ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন তার অনেকেই হয়তো জানেন না ঘুরে বেড়ানোর জন্য তার এলাকায় এমন একটি সুন্দর জায়গা রয়েছে। যা এখনো আজানা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে পর্যটকরা এখানে আসতে পারেন কিছুটা হলেও প্রশান্তির খোঁজে।

দেড় লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ১টি পৌরসভাসহ এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সরকারের তালিকাভুক্ত ২৯৪ একর আয়তনের উল্লেখযোগ্য চরগুলোর মধ্যে চরবিবিচিনি (জমির পরিমাণ ৫৬ একর), ফুলতলা (জমির পরিমাণ ৬২ একর), ঝিল বুনিয়া (জমির পরিমাণ ১২ একর), কেওড়াবুনিয়া (জমির পরিমাণ ৯ একর), উত্তর ছোট মোকামিযা (জমির পরিমাণ ৪৫ একর), চরখালী (জমির পরিমাণ ২০ একর), ববদনী খালী চর (জমির পরিমাণ ২০ একর), কালিকাবাড়ির চর (জমির পরিমাণ ১০ একর) , ভোড়া গাবতলীর চর (৩৫ একর জমির পরিমাণ) ও সর্ব শেষ বিষখালীর নদীর মাঝে ২৫ একর আয়তনের জেগে ওঠা ‘ছোট ঝোপখালীর চর’। এসব চরের অধিকাংশই বেদখলে রয়েছে। তবে এসব চরের সমান ভূমিতে জনবসতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি এখানে চাষাবাদ, নতুন নতুন বনায়ন করতে পারলে নদীর ভাঙন কিছুটা রোধ পাবে। স্থানীয়দের দাবি এ জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ জরুরি।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের জেলা সন্বয়কারী হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ঘেষেই প্রচুর সম্ভবনাময় এ স্পটটি এখনো উম্মোচিত হয়নি। দেশ তো দূরের কথা এমনকি এলাকার মানুষের কাছেই অনেকটাই অজানা রয়েছে। তাই উম্মোচিত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিনিয়র গনমাধ্যম কর্মী সাইদুল ইসলাম মন্টু জানান, মানুষকে সচেতন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোগী করে তুলতে পারলে এখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এ থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে পারে।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন জানান, নতুন নতুন চরগুলোতে বনায়ন, ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া অবৈধ দখলে থাকা খাস জমিগুলো উদ্ধার করে ভূমিহীনদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby