1. gazia229@gmail.com : admin :
বরিশালে ধর্ষণ মামলা থেকে রক্ষা পেতে স্ত্রীকে তালাক শ্যালিকাকে বিয়ে! - BarishalNews24
শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০২:২৫ অপরাহ্ন

বরিশালে ধর্ষণ মামলা থেকে রক্ষা পেতে স্ত্রীকে তালাক শ্যালিকাকে বিয়ে!

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ১৩৩ বার দেখা হয়েছে

শ্যালিকা ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মামলা থেকে রক্ষা পেতে তিনি তাকে বিয়ে করেছেন
দিয়ে শালিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশালের মুলাদীতে স্ত্রীকে তালাক দেয়ার চার দিনের মাথায় কিশোরী শ্যালিকাকে (১৫) বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে জুয়েল হাওলাদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, নবম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রী শ্যালিকা ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মামলা থেকে রক্ষা পেতে তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত জুয়েল হাওলাদার উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের উত্তর কাজিরচর (বাইদের কান্দি) গ্রামের মৃত খলিল হাওলাদারে ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, আট মাস আগে জুয়েল হাওলাদার পার্শ্ববর্তী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের সালাম বেপারীর মেয়ে রোকসানা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিলো। মাসখানেকের মধ্যে রোকসানার ছোট বোন কাজিরচর (খাসেরহাট) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার আফসানার ওপর জুয়েলের কুনজর পড়ে। এক পর্যায়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আফসানার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন জুয়েল। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময় শ্যালিকাকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরতে যান এবং আবাসিক হোটেলে রাত কাটান। স্ত্রী রোকসানা ও প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেলে কয়েক মাস আগে জুয়েল আফসানাকে নিয়ে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এরপর প্যাদারহাট এলাকায় আফসানাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন। এক সঙ্গে থাকার ফলে আফসানা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

এ কারণে আফসানা জুয়েলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। বিয়ে না করলে জুয়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করার হুমকিও দেয় সে। মামলা থেকে রক্ষা পেতে কাজিরচর ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী নূর শরীফের কাছে জুয়েল হাওলাদার গত ২৫ এপ্রিল রোকসানাকে খোলা তালাক দেন এবং ২৯ এপ্রিল আফসানাকে বিয়ে করেন। রোকসানা বেগম জানান, বিয়ের মাসখানেক পর জানতে পারেন তার স্বামী জুয়েলের চরিত্র ভালো না। তাকে বিয়ের আগেও জুয়েলের সঙ্গে একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

তিনি বিয়ের পর এগুলো জানতে পারেন। তবে সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি জুয়েলকে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, জুয়েল একটা লম্পট। সে আফসানার সঙ্গে বেশিদিন ঘর করবে না। তাকেও ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে ধরবে। আফসানা দেখতে আমার চেয়ে সুন্দর। তবে তার ভালোমন্দ বিবেচনার বয়স হয়নি। সে সহজ-সরল। আমার মতো তারও কপাল পুড়বে। অভিযুক্ত জুয়েল হাওলাদার জানান, প্রথম স্ত্রী রোকসানাকে নিয়ে তিনি আট মাসের মতো সংসার করেছেন। কিন্ত তার সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিলো না। এ কারণে কয়েকদিন আগে তাকে তালাক দিয়ে তার ছোট বোন আফসানাকে বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, বিয়েতে আফসানার সম্মতি ছিলো।

এ বিষয় নিয়ে কে কী বললো্, তাতে তার কিছু যায় আসে না। কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী নূর শরীফ জানান, জুয়েল হাওলাদার গত ২৫ এপ্রিল রোকসানাকে খোলা তালাক দেন। এরপর ২৯ এপ্রিল ফারজানা আক্তার আফসানা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় পাত্রীর বয়স ১৮ বছর প্রমাণে কাগজপত্র দেখিয়েছেন। এরপর তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করানো হয়েছে।

কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলহাজ মন্টু বিশ্বাস বলেন, জুয়েল হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারী উত্ত্যক্তের বেশ কয়েকটি অভিযোগের কথাও শুনেছি। সম্প্রতি জানতে পেরেছি জুয়েল স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। যতদূর জেনেছি জুয়েল হাওলাদার যাকে বিয়ে করেছেন সে নাবালিকা কিশোরী। আইন অনুযায়ী ওই কিশোরীর বিয়ের বয়স হয়নি। পাশাপাশি খোলা তালাক রেজিস্ট্রি করার চার দিনের মাথায় নাবালিকা কিশোরীর বিবাহ রেজিস্ট্রি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছ জানতে চাওয়া হবে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাকসুদুর রহমান বলেন, কাজিরচর ইউনিয়নের উত্তর কাজিরচর (বাইদের কান্দি) গ্রামের এক যুবক অপ্রাপ্ত বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে করেছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby