1. gazia229@gmail.com : admin :
বরিশালে পুলিশের নাকের ডগায় ফের পতিতা ব্যবসা শুরু - BarishalNews24
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

বরিশালে পুলিশের নাকের ডগায় ফের পতিতা ব্যবসা শুরু

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১
  • ৮৭৬ বার দেখা হয়েছে

# নগরীতে পুলিশের নাকের ডগায় চলমান পতিতা ও মাদক ব্যবসা 

#দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে , এসি কোতয়ালী

বরিশাল নিউজ24 ডেস্ক::
নগরীতে আবারো শুরু হয়েছে আবাসিক হোটেলগুলোতে জমজমাট দেহ ব্যবসা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও কোতয়ালী থানার ওসির নানামুখী তৎপরতায় আবাসিক হোটেলগুলোতে পতিতাবৃত্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও বর্তমানে তাদের কোন অভিযান না থাকায় ফের শুরু হয়ে গেছে পতিতাবৃত্তি। এখন প্রতিনিয়ত হোটেলগুলোতে রমরমা দেহব্যবসার খবর শোনা যাচ্ছে। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে পুলিশের এক কর্মকর্তার সাথে হোটেল মালিকদের সমঝোতা হয়েছে। মুলত এরপর থেকেই বেশ কয়েকটি হোটেলে পুরোদমে শুরু হয় দেহব্যবসা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান যোগদান করার কিছুদিন পরই বরিশালে পতিতা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেন। পরে কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রাসেল ও ওসি নুরুল ইসলাম এর নানা মুখীপদক্ষেপে পতিতা ব্যবসা র্দীঘদিন যাবৎ মহামারী করোনায় পতিতা ব্যবসা বন্ধ ছিলো। কিন্তু গত ২মাস যাবৎ নগরীতে ফের পতিতা ব্যবসা চালিয়ে আসছে আবাসিক হোটেল গুলো।

সর্বনাশা কারোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলছে।কিন্তু থেমে নেই বরিশাল লঞ্চঘাট, পোর্টরোড, বিউটি রোড সহ বেশ কিছু স্থানে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে অবাধে জমজমাট দেহব্যবসা। এই সব দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল মহানগরীর ছোট বড় মিলে প্রায়২০টি আবাসিক হোটেলে এই ধরনের অনৈতিক কাজ চলছে। এসব আবাসিক হোটেলে প্রতিদিন যৌন কর্মী সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত এবং রাতের বেলায় আবারও অন্য গ্রুপ এসে পরের দিন সকাল পর্যন্ত দেহব্যবসা করে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবাসিক সকল হোটেলে অবৈধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার ঘোষনা দিলেও কয়েক মাস বন্ধ থাকলেও বর্তমানে চলমান রয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে গুটি কয়েকজন পতিতা ব্যবসায়ী।একটি সূত্র দাবি করছে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এই দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে

বিশেষ করে নগরীর পোর্টরোড এলাকার আবসিক হোটেল জোনাকি ও , মহসিন মার্কেট লাগোয়া হোটেল ঝিনুক, হোটেল ভোলা, হোটেল উজিরপুর, বিউটি হলের গলিতে হোটেল হোটেল অন্তরা,হোটেল বন্ধুজন,হোটেল নুপুর, হোটেল পায়েল, বান্দ রোডে হোটেল আজ, পোর্টেরোড ভূমি অফিসের সামনে স্বাগতম, সী-প্যালেস সহ বেশকয়েকটি পতিতা হোটেল, পোর্টেরােডে হোটেল চিল, হোটেল কীর্তনখোলা,নিউ পপুলার, হোটেল অতিথি, হোটেল পপুলার ইন,সহ বেশ কয়েকটি হোটেলেই চলছে হরদমে দেহব্যবসা। পাশাপশি এইসব হোটেলে গভীর রাতে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশ সেখানে হানা দিলেও পুর্বের চেয়ে মাদক উদ্ধার বা অনৈতিক বাণিজ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের উদাহরণ কম রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজিজ ওরফে পতিতা আজিজের রয়েছে ৫টি হোটেল,তার ভিতর মহসিন মার্কেটের ভিতরে হোটেল ঝিঁনুক,হোটেল ভোলা, পোর্টরোড সি-প্যালেজ , হোটেল স্বাগতম ও হোটেল বরগুনা। এই ৫টি হোটেলে আবাসিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে আজিজ ওরফে পতিতা আজিজ। অপরদিকে পোর্টরোডে হোটেল চিল নিয়ন্ত্রণ করে আল আমীন।

এদিকে বিউটি রোডে পতিতা ব্যবসায়ী মনিরের রয়েছে ৫টি হোটেল। প্রতিটি হোটেল মনির তার শ্যালক আল আমিনকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করায়। তার ভিতর বিউটি রোডের গলির ভিতর হোটেল পায়েল,হোটেল বন্ধুজন,হোটেল গালিব,হোটেল পাতাহাটসহ বেশ কিছু হোটেল রয়েছে পতিতা মনিরের। পোর্টরোড ব্রীজ সংলগ্ন স্থানীয় শুক্কুর মিয়ার ছেলে ফয়সাল,ইসমাইল ৩টি পতিতা হোটেল পরিচালনা করে।

জানা গেছে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব হোটেল চলমান রেখেছে। তাছাড়া পতিতা আজিজ,পতিতা মনির, হোটেল চিলের ইয়াবা আল আমিন, ইসমাইলসহ একাধীক সহযোগী। শুধু পতিতাসহ তারা ইয়াবাসহ প্রশাসনের হাতে আটক হয়ে একাধিক বার কারাভোগ করেছে।

একাধীক সূত্র জানায়, এসব আবাসিক হোটেলে অনেকেই আবার ভুয়া স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে পাঁচশ টাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে কয়েক ঘন্টা অবস্থান করে চলে যায়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ রয়েছে বিভিন্ন পেশার নারীরা । এসব হোটেলে শুধু মেয়ে না পাওয়া যাচ্ছে হাত বাড়ালেই মাদক অনেক হোটেলের রুম মাদক সেবন ও জুয়ার জন্যও ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে। হোটেলের লোকজন মাদকসেবীদের চাহিদা অনুসারে ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য এনে দেয়।

প্রায়ই সময় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেন। তবে বর্তমানে প্রায় ১১মাস যাবৎ কোন অভিযান পরিচালনা করেননি মেট্রোপলিটন পুলিশ। কেউ কেউ আবার বলছে, করোনাকে পুজি বানিয়ে প্রশাসনের সাথে যোগসাজশ করে হোটেল ব্যবসায়ীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।

স্থানীয় একাধীক ব্যবসায়ী বলেন, হোটেল গুলোতে কাজের বুয়া দিয়েও দেহব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাছাড়া পতিতা হোটেলে যৌন কর্মী রেখে দেহব্যবসা চালছে। অবাধে চলছে এসব আবাসিক হোটেলে মাদক সেবন । এই সব প্রতিটি আবাসিক হোটেলে রয়েছে নানা বয়সের যৌন কর্মী। হোটেল মালিকরা ফ্লিম স্টাইলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নির্ভয়ে চালাচ্ছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ।

দেহব্যবসার সাথে জড়িত এক হোটেল মালিকের সঙ্গে আলাপ কালে তিনি জানান, পত্রিকায় নিউজ করলে আমাদের কিছুই হবে না। তার কারণ স্থানীয় প্রসাশন ম্যানেজ করেই সবকিছু চলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় অসৎ সাংবাদিকরা এসব হোটেল থেকে নিয়মিত মাসোহারা পায় বলে এসব অপকর্ম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে না। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এসব অনৈতিক ব্যবসা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয় কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শারমিন সুলতানা রাখি বরিশাল নিউজ24 কে বলেন, নগরীতে কোন ধরণের অনৈতিক ব্যবসা নগরীতে চলতে দেয়া হবে না। এবিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে নগরবাসীর দাবি,বরিশালে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বর্তমানে ভাল কাজ করে নগর জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন।তিনি এ বিষয়ে একটু ভুমিকা রাখবেন এমনটাই আশাবাদ নগরবাসীর।পাশাপাশি বর্তমানের পুলিশ কমিশনার অতান্ত্য ভদ্র ও স্বজ্জন ব্যক্তি।তিনি পুর্বের কমিশনারের ন্যায় আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়াবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby