1. gazia229@gmail.com : admin :
বরিশালে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টি! নজরদারি বাড়াতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ - BarishalNews24
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

বরিশালে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টি! নজরদারি বাড়াতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ৯৯ বার দেখা হয়েছে

জুবায়ের ইসলামঃ বরিশাল নগরীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান বা মলম পার্টির সদস্যরা।চক্রটি শনাক্ত করতে যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়দিনই ঘটছে দূর্ঘটনা। মলম পার্টির খপ্পরে পরে গত কয়েক দিনে অনেক মানুষ হারিয়েছে তার সাথে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোনসহ দামী জিনিসপত্র।

পথচারীদের কিভাবে নিজেদের শিকারে পরিণত করছে এই চক্রটি এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে।ঘটনা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকল অফিস আদালতে প্রবেশ করতে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঠিক সেই সুযোগটিই হয়তো কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্রিয় করে তুলেছে অজ্ঞান পার্টি সদস্যরা।

বরিশালে ভাসমান মাস্ক বিক্রেতারা এই কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে সচেতন মহল।তারা বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে যেমন ভাসমান অনেক মাস্ক বিক্রেতা রয়েছে।আবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অফিস আদালতে আগত জনসাধারণেরও মাস্কের প্রয়োজন হয়।

অনেক সময় কাছাকাছি ভালো দোকান না থাকায় বাধ্য হয়ে ভাসমান হকারদের নিকট থেকে মাস্ক ক্রয় করতে হয়। এমনও হতে সেই মাস্ক বিক্রেতাই এই চক্রের সাথে যুক্ত রয়েছে।বিক্রির কিছুক্ষণ আগে থেকেই মাস্কের মধ্যে চেতনা নাশক স্প্রে করে রাখে।

শুধু বিক্রি করার সময় টার্গেট ঠিক রেখে সচ্ছল মানুষের কাছে সেই স্প্রে করা মাস্ক বিক্রি করে। এরপর তার পিছু নেয়, যখন সে অজ্ঞান হয়ে যায় তখন পরিবারের সদস্যর মতো পাশে থেকে সবকিছু হাতিয়ে নেয়।

সচেতন মহল আরও বলেন, আবার এমনও হতে পারে চক্রটি যৌথ প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষকে তাদের শিকারে পরিণত করে। অজ্ঞান পার্টির একজন মাস্ক বিক্রি করে এবং অন্য একজন সদস্য ঐ ক্রেতার পিছু নেয়। সুবিধা মতো স্থানে গিয়ে সবকিছু কেড়ে নেয়।

বরিশাল নগরীর অন্তত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ব্যস্ততম এলাকায় কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে । তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে যুক্ত চক্রের এমন একজন সদস্যকেও আটক করা সম্ভব হয়নি।

বরিশালে দিন দিন অজ্ঞান পার্টির কার্যক্রম সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নগরীর জনবহুল ও বানিজ্যিক এলাকায় এই চক্রের সদস্যরা অবস্থান করে। এদের প্রথম টার্গেট হলো নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষ।

অনেক সময় গণপরিবহনে চলাচল করা নারীদের টার্গেট করে এরা বসে থাকে। সময় ও সুযোগ বুঝে অজ্ঞান করে টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণসহ সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়।ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অজ্ঞান পার্টির বিষয় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,,নেশা জাতীয় একটি পদার্থ রয়েছে এটা যে কোন ভাবে মানুষের ভিতরে প্রবেশ করাতে পারলেই সে অজ্ঞান হয়ে যাবে।সেটা রুমাল দিয়ে নাকের সাথে অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে পারলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। এমনকি মাস্কের সাথে যদি লাগানো থাকে তাহলে জিনিসটা আরও সহজ ভাবে করা যায়।মলম পার্টি থেকে মুক্তি পেতে হলে অপরিচিত মানুষের দেয়া কোন জিনিস বা খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

এ বিষয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার বরিশাল নিউজ২৪কে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধসহ অজ্ঞান পার্টি শনাক্ত করতে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি থানা পুলিশকেও সতর্ক থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের পাশাপাশি নগরীতে চলাচল করা জনসাধারণকেও সতর্ক থাকতে হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby