1. gazia229@gmail.com : admin :
বরিশাল চরবাড়িয়া মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই - BarishalNews24
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

বরিশাল চরবাড়িয়া মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
  • ৮৮ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক::
সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এবং ৭নং ওয়ার্ডের কিছু অংশ জুড়ে লামচরী। নদী বেষ্টিত এই লামচরীবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। নদী ভাঙন আর ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী। আর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি এ দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুন। বিপন্ন হয়ে যায় লামচরীবাসীর জীবন ও জীবিকা। জনপ্রতিনিধি পাল্টে কিন্তু পাল্টে না লামচরীবাসীর ভাগ্য। বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছেন অনেকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে যায় রাস্তা-ঘাট ঘর বাড়ি। আর ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হলে প্লাবিত হয় স্কুল- মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দিরসহ সহ স্থাপনাও। এক বর্ষা মৌসুমের ক্ষতের সাথে যোগ হয় আরেক বর্ষা মৌসুমের ক্ষত। গত বছরের আম্ফানের ক্ষতের সাথে যোগ হয় এবারের ইয়াস এর ক্ষত।

কয়েকদিন যাবৎ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ সাথে পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় ফসলী জমি, মাছের ঘের, বাজারসহ প্রায় সব ঘর-বাড়ি। পানি বন্ধী হয়ে পরে লামচরীর অধিকাংশ পরিবার। সড়ক গুলো কীর্তনখোলা আর আড়িয়াল খাঁ নদীর পানিতে একাকার হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে পরে। একাধিক যায়গা থেকে সড়ক ভেঙ্গে খালে পরিণত হয়। যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পরে কয়েক হাজার মানুষ। অনেক যায়গায় সড়কের উপর সাঁকো তৈরি করে পারাপার হতে হচ্ছে। আবার অনেক যায়গায় সাকোঁ দেয়ার মত অবস্থাও নাই। সেসব যায়গায় সাঁতার কেটে বা নৌকায় পার হয়ে গন্তব্যে বা বাড়ি যেতে হয়।

দক্ষিন লামচরীর বাসিন্দ নাজমুল ইসলাম বলেন, লামচরীবাসী এতিম। আমাদের কান্না কেউ শুনেও না দেখেও না। আমাদের ঘর-বাড়িসব তলিয়ে গেছে কেউ খোঁজ খবর নিল না।

এদিকে, বরিশাল শহরে থেকে লামচরী যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির তালতলী থেকে লামচরী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। সড়ক বিচ্ছিন রয়েছে অন্তত ৩ যায়গায়। কয়েক বছর আগে এই মূল সড়ক বিলীন হয়েছে কীর্তনখোলা নদীগর্ভে পরে লামচরীতে থাকা দুইটি ইটভাটার মালিকদের অর্থায়নে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় পাশ দিয়ে আরেকটি সড়ক তৈরি করা হয়। সামান্য বৃষ্টিতে বা জোয়ারের পানিতে সেই সড়কটিও পানিতে ডুবে যায়। বাধ্য হয়ে কখনো ট্রলার দিয়ে পারাপার হতে হয়। ভোগান্তিতে পরে এই সড়ক প্রতিদিন যাতায়াত করা প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা কলেজ শিক্ষার্থী মিজান বলেন, আমরা সাহায্য চাই না। আমাদের একমাত্র চাওয়া এই সড়কটির সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী হোক।

চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামে ষাটোর্ধ্ব বরকত আলী কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনে তার পৈতৃক ভিটা বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। এখন জমি কিনে থাকছেন সেই গ্রামেই। কিন্তু ভাঙন পিছু ছাড়ছে না তার। পরিবার নিয়ে রয়েছেন প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে। তিনি বলেন, মোরা দুই নদীর মাঝখানে থাহি। প্রতিবছর বর্ষার সিজনেই মোরা আতঙ্কে থাহি। কোন সময় আবার ভাঙন শুরু হয়। অনেক বছর ধইরাতো ঝামেলা আরো বাড়ছে। মোগো আশপাশের কয়েকটা গ্রাম আলেদা হইয়া যাই পুরা ইউনিয়ন দিয়া। তহন যে কী দুর্ভোগে পরতে হয়, হেয়া আল্লাহ মাবুদ ছাড়া কেউ জানে না।

সূত্রমতে, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পরে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশেই থাকা আড়িয়াল খাঁ নদীর সাথে মিশে যায় কীর্তনখোলা। এ সময় শহরের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এই ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম। কয়েক বছর আগে মূল সড়ক বিলীন হয়েছে কীর্তনখোলা নদীগর্ভে।

বরিশাল নগরীর বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চরবাড়িয়ার লামচরী এলাকার বাসিন্দা রাসেল হোসেন  বলেন, মূল সমস্যায় রয়েছেন লামচরী, উত্তর লামচরী, দক্ষিণ লামচরী, চরকান্দা, পোটকারচর, ময়দান ও কদমতলা গ্রামের বাসিন্দারা। এসব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। অনেকের ভিটেমাটি চলে গেছে নদীগর্ভে।

তিনি আরো বলেন, নদীভাঙন থেকে রক্ষায় অনেক আবেদন করা হয়েছে। কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সামনে বর্ষা মৌসুম। দুই বছর যাবৎ এই মৌসুমে বাড়ি যেতে পারিনি। মোটরসাইকেল নিয়ে বর্ষা মৌসুমে বাড়ি থেকে আসা-যাওয়া করে অফিস করা সম্ভব হয় না। কারণে জোয়ারের সময়-ই কোনো রাস্তা থাকে না। দুই নদী এক হয়ে যায়। যারা এসব এলাকার চাকরিজীবী, মানে যারা বরিশাল শহরে চাকরি করেন, তাদের দুই পাশে থাকা দুই নদী রাক্ষুসে চরিত্রের কারণে চরম দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে।

সূত্রমতে, বর্তমানে ভাঙনের হুমকিতে আছে লামচরীর দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের বাড়ি ও তার স্মৃতিবিজড়িত লাইব্রেরি।

বরিশাল নগরীর বাজার রোডে চাকরি করেন চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দা গ্রামের নজরুল হোসেন  বলেন, বর্ষাকালে এমন অবস্থা হয় যে বাইসাইকেল চালিয়েও আসা-যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জরুরি ভিত্তিত্বে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান  জানান, লামচরীতে পানিবন্ধী মানুষদের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শুকনো খাবার সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। আর তালতলী থেকে লামচরী সড়কের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি রাস্তার রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু  বলেন, ওই সড়কের কাজের জন্য স্থানীয় সাংসদ ডিও লেটার দিয়েছেন। শীঘ্রই কাজ শুরু করা হলে সাত গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby