1. gazia229@gmail.com : admin :
বাকেরগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নাই,খেয়াঘাটে ১৫ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা! - BarishalNews24
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

বাকেরগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নাই,খেয়াঘাটে ১৫ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা!

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
  • ১৩৯ বার দেখা হয়েছে

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি:: কোন প্রকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন ধরেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছেন ইজারাদারেরা। ফলে ইজারাদারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডিসি রোড, কাটাদিয়া, সরষী খেয়াঘাটে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

করোনা ভাইরাসের অজুহাতে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার খেয়াঘাট গুলোতে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ইতিপূর্বে যেখানে ট্রলার বা খেয়া পারাপারে ৭ টাকা ভাড়া ছিল সেখানে রাখা হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত।

 

বাকেরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত এই খেয়াঘাটগুলোতে ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না উপজেলা অফিসের নির্ধারিত মূল্যতালিকা। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাতের বেলায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দশ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ওই ঘাটগুলো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ।

বাকেরগঞ্জের ওই খেয়াঘাটগুলো দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা প্রতিনিধিকে জানান, নদী পার হতে নৌকায় মাথাপিছু ৭ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। অন্যদিকে যানবাহন ও মালামাল পারাপারের ক্ষেত্রে ইজারাদারের লোকেরা ক্ষেত্রবিশেষে কয়েক গুণ বেশি টাকা নিচ্ছে।

আর বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই আদায়কারীদের সঙ্গে যাতায়াতকারীদেও হাতাহাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই পরিস্তিতিতে ইজারাদারের ইজারা বাতিল বা নজরদারিতে লোক নিয়োগের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে দাবি জানিয়েছে যাতায়াতকারীরা।

 

এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৫ টাকার স্থলে ১০০ টাকা, নতুন বাইসাইকেল ৫ টাকার স্থলে ৩০-৪০ টাকা, বড় টিভি (নতুন) ৯ টাকার স্থলে ১০০-১৫০ টাকা, ফ্রিজ ২০ টাকার স্থলে ২০০-৩০০ টাকা, সেলাই মেশিন ৭ টাকার বদলে ৫০-৮০ টাকা, ওষুধের কার্টন (বড়) ১৫ টাকার জায়গায় ৫০-১০০ টাকা।

 

ভুক্তভোগীরা বলনে, ঘাটে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না থাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত এই হারে ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েক দিন বাকেরগঞ্জ খেয়াঘাটগুলোর এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভাড়া আদায়কারীদের সঙ্গে যাতায়াতকারীদের বাগবিতণ্ডা অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এমনকি আজ সোমবার ( ১২ জুলাই) এই প্রতিবেদক নিজেই মোটরসাইকেল নিয়ে পার হলে তার কাছ থেকে ১৫ টাকার স্থলে ১০০ টাকা রাখা হয়। কারণ জানতে চাইলে আদায়কারীরা বলেন, এটাই এখানকার ইজারাদার সুদিব বাবুর রেট। গত শুক্রবার গোমা খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট স্কুল এলাকার মিজানুর রহমানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা চলছে আদায়কারীদের।

 

এ সময় মিজানুর রহমান তার সঙ্গে থাকা একটি টিভি দেখিয়ে প্রতিনিধিকে বলেন, ঘরের টিভি নষ্ট হওয়ায় আমি টিভি সারাতে গোমা নিতে যাচ্ছি। এই টিভিতে কয় কেজি ওজন আছে। এর জন্য তারা ১০০ টাকা দাবি করছে। উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে তাই দিয়েছি। সোমবার গিয়ে কথা হয় সরসী বাজার এলাকার শামিমের সঙ্গে।

 

তিনি বলেন, আমার বাড়ি এই যাগায় ওপার একটি কাজে গিয়ে ছিলাম আমার কাছ থেকে করোনার অযুহাত দেখিয়ে ৫০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। পরে শামীমকে সঙ্গে নিয়ে আদায়কারীর কাছে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমরা হুকুমের গোলাম ঘাট ইজারাদার সুবিদ বাবু যে ভাড়া আদায় করতে বলেছেন তাই আমরা করি।

 

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘাট ইজারাদার সুদিব বাবু প্রতিনিধিকে বলেন, হয়তো করোনা কালীন সময়তো লোক জন কম পার হয় বিধায় ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি ভাবে কতো টাকা নেওয়ায় কথা জনতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে ওই খেয়াঘাটের ইজারাদার আমি না বাকেরগঞ্জ ওয়ার্ড কাউন্সিলয়ের ছেলে ছাত্রলীগ রাজু সরসী খেয়াঘাটের ইজারাদার।

 

রাজুর সাথে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে রাজুর নাম্বার নেই। বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান প্রতিনিধিকে বলেন, আমি বিষটি নিয়ে ইজারাদারদের সাথে কথা বলিবো। তিনি আরোও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার তো কোন সুযোগ নেই সরকারি নির্দিষ্ট ভাড়া আদায় করবে ইজারাদার। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধুবী রায় বলেন, আমি কিছু দিন আগেও সকল ইজারাদারদের ডেকে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, সংবাদকর্মীদের পার করার জন্য বলিছি।

 

অন্য কোন সাধারন মানুষ পারাপার হতে পারবে না জানিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, সরকারি নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরোও বলেন, আসলে উপজেলা শহর থেকে ওই এলাকা অনেক ধুরে তাই আমাদের যাওয়া হয় না। তবে সরষী আমাদের ফাড়ী আছে আমি এখনই ব্যবস্থা নেওয়ায় জন্য বলে দিচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby