1. gazia229@gmail.com : admin :
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে - BarishalNews24
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৬৪ বার দেখা হয়েছে
Stressful workaholic keeps head down on desk, feels tired and overworked, has much work, prepares for upcoming exam, writes information in diary, studies documentation, isolated on white wall

সম্পাদকীয় :: সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখছে, এতে কোনো সংশয় নেই। রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নানা ধরনের অনিয়ম-অস্বচ্ছতার বিরূপ প্রভাব পড়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে। গত অর্থবছরে এ ধরনের কর্মসূচির ৩৪১ কোটি টাকা বিতরণ সম্ভব হয়নি। এতে দুস্থদের চলমান প্রশিক্ষণ, জীবন মানোন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি হবে, এটাই স্বাভাবিক। বস্তুত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দুস্থ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ভাতা বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। কাজেই এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর ছিল এটা এক প্রশ্ন। ইতোমধ্যে ৮৭ হাজার ভুয়া ও নিরুদ্দেশ ভাতাভোগী চিহ্নিত হওয়ার তথ্য থেকেই স্পষ্ট, এ প্রকল্পে অনিয়ম কতটা বিস্তার লাভ করেছিল। কথা হলো, অনিয়ম চিহ্নিত করাই কি যথেষ্ট? এই দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অন্যান্য প্রকল্পেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বস্তুত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অনিয়মের বিষয়টি বহুল আলোচিত। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের (এনএসএসএস) মধ্যবর্তী উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগ্য না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন ৪৬ শতাংশ। আর বয়স্ক ভাতায় শর্ত পূরণ করেননি ৫৯ শতাংশ। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতায় অনিয়ম ধরা পড়েছে ২৩ শতাংশ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় বলা হয়, সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যভাণ্ডারে নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকা ঘুস দিতে হয় উপকারভোগীদের। এমনকি অতিদরিদ্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকেও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুস নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সুবর্ণ কার্ডের জন্য এক থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যস্থা নেওয়া জরুরি।

এক সমীক্ষায় বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে দরিদ্রতার হার কমবে ১২ শতাংশ। বস্তুত, এ কর্মসূচির অর্থ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বহু মানুষ দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে বেশি সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করবে। মহামারির কারণে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষ কতটা ক্ষতির শিকার তা বহুল আলোচিত। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। কাজেই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসূচির উপকারভোগীদের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বাড়ানো দরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Bengali Bengali English English