1. gazia229@gmail.com : admin :
স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিল্পব - BarishalNews24
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিল্পব

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক::
পঞ্চাশোর্ধ্ব জাহানারা বেগম স্বাধীনতার পর চাল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। চুলা থেকে গরম সিদ্ধ ধান নামিয়ে তার ওপর চট বিছিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তার চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কিন্তু কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। কাছে-কূলে তেমন ভালো চিকিৎসাব্যবস্থা ছিলও না। নানা সমস্যার কারণে সেসময় নয় বছরের জাহানারা স্কুলের দুয়ারের সামনে ঘোরাঘুরি করেছেন মাত্র।

খুব বেশি পড়া হয়নি। তার পরিধানের বস্ত্রের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার সামর্থ্য ও চিন্তা কোনোটাই ছিল না পরিবারের। তার চোখে এখনো ভাসে ওই সময়ে অধিকাংশ ঘরই ছিল ছনের।

ক্ষেত্রবিশেষ চারদিকে মাটির দেওয়াল, আর ছনের চাল। দুবেলা-দুমুঠো খাবারের জন্য নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। শিলা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা-মঙ্গাসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ধানের ফলন তেমন না হওয়ায় কত দিন অনাহারে কেটেছে। উত্তরবঙ্গের জাহানারার ভাষায় সে এক দিনই গেছে।

৫০ বছর পর ৫৯-এ দাঁড়িয়েও জাহানারা সেসব দিনের কথা ভুলেননি। আজ মিলিয়ে দেখেন বর্তমানের সঙ্গে অতীতের কত ফারাক। তার দৃষ্টিতে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষায় উন্নয়নের বিপ্লব ঘটে গেছে।

তার নিজের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। চাইলে ঘরে কাছে সরকারি-বেসরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন। এখন টিনের ঘর এবং ইট-পাথরের দালানের নিচে চাপা পড়েছে সেদিনের ছনের ঘরগুলো। তার ঘরটিও এখন দালানে রূপ নিয়েছে। খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লবসাধিত হওয়ায় আর দুর্ভিক্ষ দেখতে হয়নি। আর ইচ্ছা হলেই কিনতে পারছেন একটি ভালো পোশাক।

বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মানুষের এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণ। স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিল্পব ঘটে গেছে। তাদের মতে, উন্নয়নের শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সেই উন্নয়নের মশাল এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাধীনতার পর দেশে এক কোটি মেট্রিক টন থেকে চাল উৎপাদন বর্তমানে সাড়ে তিন কোটিতে পৌঁছেছে। বস্ত্র দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান দখল করে নিয়েছে।

শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি সাক্ষরতার হার ১৬ দশমিক ৮ থেকে ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিটি পরিবারের একটি করে ঘর নিশ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের অভাবনীয় সাফল্যে এখন নিয়ন্ত্রণে আছে যক্ষ্মা, ডায়রিয়াসহ এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নানা ধরনের রোগ। বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু এবং কমেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্মানি ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। খাদ্য, জীবনমান, জাতীয় মাথাপিছু আয়ের ওপর এর প্রতিফলন ঘটেছে। প্রাপ্যতা বেড়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। এখন গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছরে উঠেছে। এটি উন্নত দেশের সমান। বলতে গেলে বাংলাদেশ এখন বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বাণিজ্যনির্ভর হয়েছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। এজন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার মান বৃদ্ধি, খাদ্যে পুষ্টির পরিমাণ বাড়ানো, বাসস্থানের অবস্থা ও অবস্থান আরও ভালো করাই এখন চ্যালেঞ্জ।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, মৌলিক অধিকারের সূচকে ইতিবাচক হয়েছে, এতে দ্বিমত নেই। অন্ন ও বস্ত্রতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এখন গুণগত মানের বস্ত্র তৈরি হচ্ছে দেশে। সে সুবাদে মানুষ এখন ভালো একটি পোশাক পড়তে পারে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসার মান বৃদ্ধি পেলেও আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের ৭০ শতাংশই নিজেই করতে পারে। বাকি ৩০ শতাংশ সরকারিভাবে এলেও সেটি মানুষের কাছে কম পৌঁছায়।

খাদ্য উৎপাদনে বিল্পব : স্বাধীনতার পর দেশে চাল উৎপাদন হয় মাত্র ১ কোটি মেট্রিক টন। সেটা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় অভাব ছিল তীব্র। এখন সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। গেল অর্থবছরে চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই সময়ে সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যা এখন দ্বিগুণের কিছুটা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি চালের উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। আলু উৎপাদনে শুধু স্বনির্ভর নয়, চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চলতি অর্থবছরে দেশে ১ কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদিত হয়। চাহিদা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন। আলু উৎপাদনে এখন বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

এফএও-এর তথ্যমতে, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। খাদ্য উৎপাদনের অগ্রগতি প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত যুগান্তরকে বলেন, এই বিপ্লবের কৃতিত্ব কৃষক, উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ও কৃষি খাতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার।

বস্ত্র চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি : মৌলিক চাহিদার একটি হচ্ছে বস্ত্র। ষাটের দশকের শুরু পর্যন্ত ক্রেতাদের নির্দেশিত নকশা অনুযায়ী স্থানীয় দরজিরা পোশাক তৈরি করতেন। শুধু শিশুর জামাকাপড় এবং পুরুষের গেঞ্জি ছাড়া পোশাকের অভ্যন্তরীণ বাজার ছিল না। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে লুঙ্গি ও গামছা ছিল পুরুষের প্রধান পোশাক। সেই অবস্থা থেকে উত্তোরণ ঘটে আজ বিশ্বে পোশাক খাতে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।

সত্তরের দশকের শেষার্ধ থেকে মূলত দেশের পোশাক রপ্তানি শুরু হয়। তবে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য মোট রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ অবদান রাখে। এরপর পোশাক রপ্তানি আয়ে প্রথম স্থানে চলে আসে। এখন পোশাক বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। তৈরি পোশাক খাতের সুবাদে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। খুব স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পোশাক কিনতে পারছেন সবশ্রেণির মানুষ।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, গত ৫০ বছরে দাগ কাটার মতো উন্নতি হয়েছে পোশাক খাতে।

সবাই গৃহায়নের আওতায় : ১৯৭৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ বসতভিটা। ঢাকার বস্তির ২৫ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন বিভাগের, এরা মূলত নদীভাঙা মানুষ। গত এক দশকে নদীভাঙনে ৬৮ লাখ মানুষ ঘরবাড়িছাড়া হয়েছে বলে সুইডেনভিত্তিক রাউলওয়ালবার্গ ইনস্টিটিউট ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ২০১০ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলাতেই ১৩ লাখ ৪২ হাজার মানুষ ঘরবাড়িছাড়া হয়। এমন পরিস্থিতির উত্তোরণ ঘটিয়ে সরকারি হিসাবে এখন গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২। আর মুজিববর্ষে সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের ঘর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে সত্তর-আশি দশকের ছনের গড় এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। গরিব মানুষের বাড়িতেও এখন একটি টিনের ঘর দেখা যায়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গ্রামে গ্রামে এখন পাকাঘর শোভা পাচ্ছে।

চিকিৎসা : চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ১৯৭২ সালে ধানমন্ডিতে একটি ভাড়া বাসায় চালু হয় শিশু হাসপাতাল। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালেই শিশুদের চিকিৎসা শুরু হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৩৭৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছিল। সেই থেকে একে একে সম্প্রসারণ হয় স্বাস্থ্য খাত। স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি ও গবেষণা কাজে লাগাতে বিগত এক দশকে তিনটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১০৭টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং একটি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়। এছাড়া ৫ হাজার ১৮২টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক, প্রায় ১০ হাজার ৪০০ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতাল ৪৬টি, ৪২৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া বিগত এক দশকে দেশে ৬ হাজারের বেশি চিকিৎসক, ৪২৭ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ১০ হাজারের বেশি নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার চিকিৎসক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ নির্মাণসহ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ মোট ১৩টি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ২০১৭তে এসে ৭২ বছরে উন্নীত হয়, যা ২০০৫ সালে ছিল ৬৫.২ বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ১৯৭৪ সালে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫৩ জন, যা ২০১৮ সালে এসে প্রতি হাজারে ২২ জনে নেমে আসে। ১৯৯১ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৪.৭৮ শতাংশ। সেটি এখন ১.৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

শিক্ষা : বিগত ৫০ বছরে সার্বিকভাবে শিক্ষায় বৈপ্লবিক অগ্রগতি হয়েছে। ভর্তি, অধ্যয়ন বা টিকে থাকা, ফলাফল, নারী শিক্ষার্থী, সাক্ষরতার হার, বিনিয়োগ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাসহ শিক্ষার প্রতিটি দিকেই (ইনডিকেটরস) এই অগ্রগতি লক্ষণীয়। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার ছিল ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ঝরে পড়ার হার প্রায় ১৮ শতাংশ। একইভাবে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেড়েছে। মাধ্যমিকে বর্তমানে ভর্তির হার প্রায় ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। ঝরে পড়ার হার ৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সাক্ষরতার হার বেড়েছে। দেশে ১৯৭১ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬ দশমিক ৮ ভাগ। বর্তমানে এ হার ৭৪.৭ শতাংশ।

শিক্ষা গবেষক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীর মতে, শিক্ষায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নারীর অংশগ্রহণ ও সফলতায়। তার এই বক্তব্য প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের সঙ্গেও মিলে যায়। অ্যানুয়াল রিপোর্ট অন পাবলিক ইনস্ট্রাকশন ফর দ্য ইয়ার ১৯৭০-১৯৭১ অনুযায়ী, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ছাত্রী। আর সর্বশেষ (২০১৯) ব্যানবেইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ দশমিক ৩২ শতাংশই নারী। ধর্মকে অনেকেই নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধক হিসাবে মনে করলেও বিস্ময়করভাবে এখানে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর অংশগ্রহণ বেশি।

দেশে ১৯৭১ সালে মাত্র ২৯ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। দেশ স্বাধীনের পর আরও কিছু বিদ্যালয় তৈরি হয়। সবমিলে বঙ্গবন্ধু ৩৬ হাজার ১৬৫টি জাতীয়করণ করেন। আর বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ই আছে সোয়া লাখ। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এভাবে প্রাথমিক শিক্ষা বর্তমানে অবৈতনিক।

প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। শিক্ষার উন্নয়নে আছে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেটের একাধিক সেক্টর প্ল্যান। শিক্ষকের মানোন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা।

একটা সময়ে এসএসসি পাশ করা জনগোষ্ঠী শিক্ষক হতে পারতেন। এখন ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক। এছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। উচ্চশিক্ষা স্তরেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ১৯৭১ সালে দেশে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আর বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যা ১৬১টি। এর মধ্যে অবশ্য ১৪৪টি চালু আছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Design and Developed by Sarjan Faraby