1. gazia229@gmail.com : admin :
হরতালের মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডব - BarishalNews24
মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

হরতালের মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডব

প্রতিবেদক:
  • প্রকাশকাল: রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১
  • ২১৩ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:
হরতালের মধ্যে দিয়ে সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটি। এসময় তারা থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। যা থেকে যাত্রীবাহী বাসও রেহাই পায়নি।

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাদেশে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

ঢাকা: হেফাজতের হরতাল কর্মসূচীকে ঘিরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, পুরানা পল্টন ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালেই হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অবস্থান নেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এবং এর আশপাশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অবস্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন সতর্ক অবস্থানে।

সাড়ে ১১টার দিকে হেফাজতের কর্মীরা লাঠি হাতে মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় ইট ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হেফাজতকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অবস্থান নিলে পুরানা পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা কিছুক্ষণ পরপরই মিছিল করেন। সকাল সোয়া ১১টার দিকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আসেন। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনের দিকে এগোতে থাকে মিছিলটি। এ সময় মুক্তাঙ্গনের দিকে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে মৃদু উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিলে হেফাজতের মিছিলটি কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে চলে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: হরতালের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা তৃতীয় দিনের মত তাণ্ডব চালিয়েছে মাদ্রাসার ছাত্ররা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে হেফাজত কর্মীরা। এসময় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অন্তত দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কীসের আঘাত তা ময়নাতদন্ত না করলে বলা যাবে না।

নিহত দুজনের একজন হলেন সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাটিহাতা গ্রামের হাদিস মিয়া ওরফে কালন মিয়া (২৩)। তার বাবার নাম আলতাব আলী ওরফে আলতু মিয়া। নিহত ব্যক্তির বড় ভাই মাওলানা আবদুর রহিম (৩৮) বলেন, ‘আমার ভাই পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। লাশ আমাদের বাড়িতে আছে।’

নিহত আরেকজন হলো উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামের সুফি আলীর ছেলে আল আমীন (১২)। আহত অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার আধা ঘণ্টা পর সে মারা যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রানা নুরুশামস হাসপাতালে শিশু আল আমীনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে গত শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘাত ও প্রাণহানির পর হেফাজতে ইসলাম রোববার সারাদেশে হরতাল ডাকে। সেই হরতালে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা সদরের পশ্চিম মেড্ডা ও সরাইলের খাটিহাতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হরতাল সমর্থনকরীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। সেসব সংঘর্ষে তিনদিনে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম। তবে এসব মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসন কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল সমর্থকরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, জেলা গণগ্রন্থাগার, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, আনন্দময়ী কালীবাড়ি, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত উন্নয়ন মেলার অন্তত অর্ধশত স্টল, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় ও বাড়ি, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব ভবনেও হামলা চালায় হেফাজত কর্মীরা।

হরতালকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরাসারে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কার্যালয় এবং জেলা পুলিশ লাইনসে হামলারও চেষ্টা চালায়। তাদের হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি ও আমাদের নতুন সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবুল হাসনাত রাফি আহত হন।

শহরের ভিতর বিভিন্ন গলিতে রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নেভাতে যেতে বেগ পেতে হয়। তবে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো কথা বলেননি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ধরেননি।

নারায়ণগঞ্জ: হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের পরই নারায়ণগঞ্জে ১০টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে সংগঠনটির কর্মীরা। রোববার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শিমরাইলের মাদানীনগর মাদ্রাসার সামনে মহাসড়কে একটি বাস, চারটি ট্রাক এবং চারটি কার্ভাডভ্যানসহ মোট ১০টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

জানা যায়, কর্মী নিহতের প্রতিবাদে সকাল থেকে হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলে। বিকাল পাঁচটার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে গেলে তারা আবারও জড়ো হয়ে যানবাহনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তারা সরে যায়। ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে একটি বিআরটিসি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। একেক করে ট্রাক, কভার্ডভ্যানসহ অন্তত ১০টি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও অনেক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। হরতাল সমর্থনে এখনও মহাসড়কে বিক্ষোভ করছে হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা। আগুন দেয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম: দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামের হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিলো। গত শনিবার রাতে নতুন করে সড়কের দুটি স্থান খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের ওপর ইটের স্তূপ দিয়ে তৈরি দেয়াল এখনো রয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় মাদ্রাসার ছাত্রদের জড়ো হতে দেখা গেছে।

তবে হেফাজত ইসলামের হরতালের মধ্যেও হাটহাজারী উপজেলার ভেতরের সড়কগুলোয় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। তবে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কম। ভোরে হাটহাজারী-রাঙামাটি সড়কের ইছাপুরে হেফাজত ইসলামের কর্মীরা ব্যারিকেড দিলেও পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তা তুলে দেন।

গত শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে বন্ধ রয়েছে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক। সড়কের হাটহাজারী বাজার এলাকায় ইটের স্তূপ দিয়ে পাঁচ ফুট দেয়াল দিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের সামনের সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। সড়কে আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে সিমেন্টের ইলেকট্রিক পিলার। শনিবার রাতে সড়কটির কাচারী রোডের মুখে দুটি অংশ খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। কাচারী রোডের মুখে বাঁশের ব্যারিকেডটি এখনো রয়েছে। রিকশাসহ কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারছে না।

সড়কটি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। দুপাশে আটকা রয়েছে মালবাহী ট্রাক। বিকল্প সড়ক দিয়ে লোকজনকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ ভাড়া ও সময় লাগছে বেশি। বেশি ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের। ওই এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত আড়াই শ র‍্যাব, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবির ১০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় টহল দিচ্ছেন।

এবিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, হাটহাজারীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যানবাহন চলাচল সকালে কম থাকলেও আস্তে আস্তে বাড়ছে। হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আস্তে আস্তে সড়কটি সচল করার চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হরতালের সমর্থনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজত ইসলাম রূপগঞ্জ উপজেলা শাখা। সকালে মহাসড়কে ভুলতা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তারা এ কর্মসূচি পালন করছে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এবিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) নাজিমউদ্দিন মজুমদার জানান, সকাল ৯ টার দিকে হেফাজত কর্মীরা ভুলতা এলাকায় এসে জড়ো হয়। এসময় পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরে দাড়াতে অনুরোধ করলে তারা একটি মিছিল করে সরে যাবার প্রতিশ্রুতি দেয়।

পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রূপগঞ্জ থানা শাখার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সিলেট: হেফাজতে হরতাল চলাকালে দুপুরে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বিজিবি ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বন্দরবাজার এলাকায় অবস্থান করা হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এরপরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনার পর নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের শিকারপুর সড়কে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা কর্মীদের সাথে হেফাজত ইসলামের নেতা কর্মীদের সংঘর্ষ, থানার ওসি এসএম জালাল উদ্দীন ও হেফাজত ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ মধুপুরীসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় ইট পাটকেল ছুঁড়া, টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছুঁড়া হয়। দুটি মোটর সাইকেলে আগুন, দুটি বাড়ি ভাঙচুর এবং দুটি বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সিরাজদিখান থানার তদন্ত ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, রোববার দুপুরে হরতালে পিকেটিং করতে হেফাজত নেতা আব্দুল হামিদ মধুপুরীর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মী লাঠি সোটা নিয়ে নিমতলা এক্সপ্রেসওয়েতে এসে অবরোধ করে। তাদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বললে, হামলা চালায় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় ইটপাটকেল ও লাঠি চার্জ হলে, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা।

এই ঘটনায় থানার ওসিসহ সাতজন পুলিশ ও হেফাজত নেতা কর্মী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। সড়ক ছেড়ে রাজানগর গিয়ে ঐ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি আলমগীর কবিরের বাড়ি এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আসেল খানের বাড়ি দুটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে দাবি করেন আলমগীর ও আসেল খাঁন।

এ সময় আলমগীর কবিরের মা ও বড় ভাইকে পিটিয়ে আহত করা হয় বলেও আলমগীর জানান। হেফাজত ইসলামের নেতাদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের পির সাহেবসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত করে।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হেফাজত ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হওয়া ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ওমান ও হেফাজত নেতা কিশোরগঞ্জ ইমাম উলামা পরিষদের প্রচার সম্পাদক মাওলানা কে এম নাজিমুদ্দিন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীসহ কয়েক শ হরতাল সমর্থনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে জেলা শহরের স্টেশন রোডে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালান। এ সময় তারা ওই কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও ভেতরের আসবাব ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে ভাঙচুর করার পর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী কার্যালয়ে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশন রোডের গৌরাঙ্গবাজার, শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গণ, পুরান থানা, একরামপুর, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও আঠারো বাড়ি কাচারি মোড়ে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, ফয়েজ ওমান ও হেফাজত নেতা কে এম নাজিমুদ্দিন, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ অসংখ্য কাঁদানে গ্যাসের শেল, ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, ফয়েজ ওমান ও হেফাজত নেতা কে এম নাজিমুদ্দিন, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল কম ছিল। এ ছাড়া সংঘর্ষের কারণে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কিশোরগঞ্জ ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি ও হেফাজত নেতা মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করতে চেয়েছিলেন। কোনো সংঘর্ষের পক্ষে ছিলেন না। এমনকি সংঘর্ষ চলাকালে তিনি শহীদি মসজিদের মাইকে বারবার হেফাজত কর্মীসহ মাদ্রাসাছাত্রদের সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল বলেন, হরতালের নামে জঙ্গি বাহিনী ন্যক্কারজনকভাবে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণেই বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তবে সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরসহ সব ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং যারা এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে প্রাণহানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া এবং গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার সারাদেশে দোয়া মাহফিল ও শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ। হেফাজত মহাসচিব বলেন, শুক্রবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সামনে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

অন্যদিকে দেশে হেফাজতে ইসলামের চলা নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সাথে এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতিসহ সকল প্রকার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য অফিসার) মো. শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত দুইদিন ধরে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করছে। যার মধ্যে উপজেলা পরিষদ, থানা ভবন, সরকারি ভূমি অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বাড়িঘর, প্রেসক্লাবসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করা হচ্ছে।

এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতিসহ সকল প্রকার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষার্থে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, সরকার আরও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যে, স্বার্থান্বেষী মহল এতিম ছাত্র ও শিশুদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামিয়ে সরকারি সম্পত্তিসহ জনগণের সম্পদ ও রাজনৈতিক, নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরণের অপকর্মে নিয়োজিত করায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। তাছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য, গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব গুজব রটনাকারীসহ আইন অমান্য করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতায় নেমে গত শুক্রবার সকালে হেফাজত কর্মীরা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা চালালে সংঘাতে চারজন নিহত হয়। এর প্রতিবাদে ওইদিনই বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মাদ্রাসাছাত্ররা রেলওয়ে স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করে এবং শহরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এরপর রোববার হরতালকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ অবরোধ করায় ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরআগে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর সোনারবাংলার ওপর আশুগঞ্জের তালশহর এলাকায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হরতাল সমর্থকরা। এই পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© 2021 - All rights Reserved - BarishalNews24
Bengali Bengali English English