ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন ধাপে ধাপে তাদের কার্যক্রম জোরদার করছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মাঠে নেমেছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মিশনে যুক্ত হবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্ডা লাসে জানান, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল যুক্ত হলে মিশনের পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এই মিশনে প্রায় ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।
ইন্ডা লাসে জানান, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রচার কার্যক্রম, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মূলত নির্বাচনের দিনের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এই মিশন একটি কঠোর আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুসরণ করেই ইইউ মিশন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই মিশনটি দেশে কাজ করছে বলে জানান উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইইউ মিশন। এরপর সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। উভয় প্রতিবেদনই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ইইউ মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
