আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইবোলা উপসর্গে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও শত শত মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
WHO মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, কঙ্গোতে মোট ৬০০ জনের মধ্যে ইবোলা সংক্রমণের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫১ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাদুর্ভাবটি মূলত কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি এবং উত্তর কিভু প্রদেশে সীমাবদ্ধ থাকলেও প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায়ও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় ২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
WHO ১৭ মে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে আঞ্চলিকভাবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
কঙ্গোতে বর্তমানে ২৪৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দেশগুলো চিকিৎসা সহায়তা ও অর্থ সহায়তা পাঠাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ২ কোটি পাউন্ড সহায়তা ঘোষণা করেছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং নজরদারি কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা ভাইরাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী হলেও এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, বরং আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল বা সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। তবুও এর মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা একে অত্যন্ত ভয়াবহ করে তোলে।
WHO জানিয়েছে, দ্রুত টিকা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি
