ডেস্ক রিপোর্ট ॥ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এসব জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ধাপে ধাপে আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী ৯টি মিশনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, শান্তিরক্ষা বাহিনীতে প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের অংশগ্রহণ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। নারী সদস্যদের এই ভূমিকা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে সুদানে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন এবং আহত সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় আত্মত্যাগকারী শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান জাতির গৌরব। এই ঐতিহ্য বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্বশান্তি ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
