আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও সৌদি আরবের সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সৌদি বিমানবাহিনী প্রথমবারের মতো সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে সৌদি ভূখণ্ডে ইরানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষানির্ভর অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত কয়েক মাসে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে গোপন হামলায় অংশ নেয় এবং একটি অভিযানে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে।
৫ এপ্রিল আমিরাতের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার জবাবে ইসরায়েল ও আমিরাত যৌথভাবে ইরানের সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আমিরাতকে আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তাও দেয়।
মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরব শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে রিয়াদ পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরানকে সতর্ক করে। এরপর এপ্রিলের শুরুতে হামলার সংখ্যা কমে আসে এবং ৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের যুদ্ধবিরতির আগে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতি চললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ৭ ও ৮ এপ্রিল পুনরায় সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ঘটলে রিয়াদ নতুন সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করে এবং সে সময় পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সৌদি আরবকে সমর্থনের বার্তা দেয়।
যদিও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে হামলা অস্বীকার করছে, বিশ্লেষকদের মতে ফাঁস হওয়া তথ্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক মেরুকরণের বাস্তবতা তুলে ধরছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
