আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ বিশ্বজুড়ে একাধিক রাষ্ট্র বর্তমানে অস্তিত্ব সংকট ও রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি। বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, গৃহযুদ্ধ, জাতিগত দ্বন্দ্ব ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা অনেক দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
যুক্তরাজ্য এ তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ব্রেক্সিটের পর স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি জোরদার হয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জনমিতিক পরিবর্তনের ফলে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। ফলে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমালিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। রাজধানীর বাইরে সরকারের প্রভাব দুর্বল। ১৯৯১ সাল থেকে সোমালিল্যান্ড নিজস্ব প্রশাসন, মুদ্রা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কার্যত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি।
ইরাকে জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন দীর্ঘদিনের সমস্যা। কুর্দিস্তান অঞ্চল ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রবল। শিয়া ও সুন্নি রাজনৈতিক বিভাজনও দেশটির স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
হাইতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সশস্ত্র গ্যাংয়ের সহিংসতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাজধানীর বড় অংশ এখন অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে, যা দেশটিকে কার্যত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করছে।
সাইপ্রাস ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত। একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষিণাঞ্চল, অন্যদিকে কেবল তুরস্কের স্বীকৃত উত্তরাঞ্চল। কয়েক দশকের আলোচনার পরও পুনরেকত্রীকরণ সম্ভব হয়নি।
মলদোভা পূর্ব ইউরোপের আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। ত্রান্সনিস্ত্রিয়া অঞ্চল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে এবং গাগাউজিয়া অঞ্চলের রুশপন্থি অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ইরাক, সোমালিয়া, হাইতি, লিবিয়া ও ইয়েমেন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে আগামী শতাব্দীতে মানবসভ্যতার মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
