আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে দ্বিতীয় দফা বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান যদি পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করবে। তিনি দাবি করেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান রাষ্ট্রের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
এদিকে আইআরজিসির নৌ শাখার প্রধান বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ‘দোজখের অভিজ্ঞতা’ দেওয়া হবে। তার মতে, সিরিক বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থান দুর্বল করতে পারবে না।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ আটটি সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে। নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
