ডেস্ক রিপোর্ট ॥ তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ, আধুনিক জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা এবং উন্নত প্যাথলজি সুবিধা থাকবে। এছাড়া প্রতিটি হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ জটিল রোগের চিকিৎসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। তিনি জানান, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার মডেলে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকবে এবং সেখানে তিনজন প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে মোট ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ ছাড়া প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে ২৫ লাখ কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, শিগগিরই ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, আগামী তিন থেকে চার বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা এবং উপজেলা হাসপাতালকে শক্তিশালী সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীত করতে পারলে স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সূত্র: বাসস
