ঢাকাশনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরির খবর
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জাতীয়
  12. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আপসহীন নেত্রীর জন্মদিনে শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার জোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদন
আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী এবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে এসেছে। কারণ, যে দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের জন্য স্মরণ করছে দল ও সমর্থকেরা, একই সময়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এটি তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রথম জন্মবার্ষিকী।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে বিএনপির উত্থান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলটিকে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার পরিচালনা, বিরোধী দলের রাজনীতি এবং দীর্ঘ কারাবাস—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল।

১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলটির সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হয়। পরবর্তী নির্বাচনে জনগণের ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তিনবার সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া দেশের নারী নেতৃত্বের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ওপর ব্যাপক চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দী করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ আরও বাড়ে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডের পর তাঁর দীর্ঘ কারাজীবন শুরু হয়। ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলতে থাকে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। কিন্তু দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারেননি। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর রাজনৈতিকভাবে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে বিএনপি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ঘোষিত ফলে বিএনপি ২০৯টি আসন পায় এবং জোটগতভাবে দলটির আসন দাঁড়ায় ২১৩।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। সরকারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যেও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেও তারেক রহমান বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির বড় জয়কে দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরছেন।

আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাই বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে দিনটি একই সঙ্গে স্মরণ, শোক, শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক। তাঁর জীবন, সংগ্রাম এবং রেখে যাওয়া রাজনৈতিক প্রভাব বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।