ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় মশাবাহিত এ রোগের বিস্তার বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই ডেঙ্গুতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৮৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু এবং ৯৮৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১১৩ জনের মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৩২ জনে।
নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০২, দক্ষিণ সিটিতে ১৪৯, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ১৭৬, বরিশালে ১৭১, চট্টগ্রামে ১২৩, খুলনায় ১৬৩, ময়মনসিংহে ৫০, রাজশাহীতে ৪৯ এবং রংপুরে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষ। ২১-২৫ বছর বয়সিদের মধ্যে আক্রান্ত ৫ হাজার ৮৬৮ জন, ২৬-৩০ বছর বয়সিদের ৫ হাজার ৮১৯ এবং ৩১-৩৫ বছর বয়সিদের ৪ হাজার ২৬ জন। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ২৬-৩০ বছর বয়সিরা সর্বোচ্চ, ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৬-৪০ বছর বয়সে ১৪ এবং ৪৬-৫০ বছর বয়সে ১৩ জন মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা আক্রান্ত হওয়ায় কর্মক্ষেত্র ও পরিবারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কমিউনিটি পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁর আশঙ্কা, নীতিতে পরিবর্তন না এলে বছরের শেষদিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, প্রতি চার বছর পরপর ডেঙ্গুর মহামারি দেখা দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে বড় আকারের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ট্রেইনি চিকিৎসক জাহেদুল ইসলাম জানান, অনেকে জ্বরের শুরুতেই হাসপাতালে আসছেন, আবার কেউ জটিলতা দেখা দেওয়ার পর আসছেন। রোগীদের জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি ও ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জনের মধ্যে মৃত্যু হয় ৪২৩ জনের।
