আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান থাকলেও ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তেহরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। প্রয়োজন হলে ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য পরমাণু বোমার বড় হুমকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসরায়েল কোনো ধরনের আপস করবে না এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে গত ১৮ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে অংশ নেন। দীর্ঘ চার মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধানই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য।
চুক্তির আওতায় শত্রুতা বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই সমঝোতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ইসরায়েল শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে।
ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে প্রয়োজন হলে তারা যেকোনো সময় এককভাবে বিমান হামলা কিংবা সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পরও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
