আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে টানা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আপাতত স্থগিত রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। তবে সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হবে।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও আগের অবস্থানে ফিরে যাবে। তার ভাষায়, বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে “খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা” চলছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরান আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, কূটনীতির পথ এখনো খোলা রয়েছে।
সংঘাতের সূত্রপাত হয় জুলাইয়ের শুরুতে, যখন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান অভিযান শুরু করে। পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আইআরজিসি।
টানা ১৩ রাতের সংঘাতের পর ২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ রাখে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, দেশটি ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও সামরিক অভিযান চালাবে না। যদিও ২৬ জুলাই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শান্তি সংলাপ শুরুর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
