আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইসরায়েলকে মুসলিম বিশ্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত সামরিক ফ্রন্ট গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
শনিবার পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর আগের দিন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। ওই চুক্তির প্রেক্ষাপটে খাজা আসিফের ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য সামনে এলো।
সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সব মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইসরায়েলের বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই বলেও তিনি জানান।
খাজা আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ভিত্তির সঙ্গে ১৯১৭ সালের ব্রিটিশ বালফোর ঘোষণার সম্পর্ক রয়েছে। ওই বছর ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বালফোর ঘোষণাকে বিবেচনা করা হয়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ওই ঘোষণার ভিত্তিতে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে পরাজিত হলেও দেশটির নীতিগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না। জেরুজালেমে নাফতালি বেনেট বা অন্য কোনো নেতা ক্ষমতায় এলেও পার্থক্য খুব সামান্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে দেশটিকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যানসারাস রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন খাজা আসিফ।
এদিকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে তিন দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির এক দিন পরই মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সামরিক অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
খাজা আসিফের বক্তব্যে ইসরায়েলবিরোধী আঞ্চলিক অবস্থান এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
